সিকান্দার রাজার দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে অঘটন ঘটাল জিম্বাবোয়ে

Zimbabwe Win
Zimbabwe Win. ( Image Source: Twitter )

ব্যাট হাতে পারেননি ঠিকই তিনি। কিন্তু সিকান্দার রাজার হাত ধরেই পাকিস্তানকে হারিয়ে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ফের একটা অঘটন ঘটাল জিম্বাবোয়ে। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপেরক মঞ্চে জয় অধরাই রয়ে গেল পাকিস্তানের। ব্যাট হাতে বড় রান করতে পারেননি সাকান্দার রাজা। কিন্তু বল হাতে পাকিস্তানের সেরা তিন উইকেট তুলে নিয়ে সুপার টুয়েলভে পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে অনেকটা এগিয়ে গেল জিম্বাবোয়ে। পাকিস্তানকে ১ উইকেটে হারাল জিম্বাবোয়ে। শেষ ওভারে একটা অএসাধারণ লড়াই করল জিম্বাবোয়ে। সেইসঙ্গে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের আশা কার্যত শেষ হয়ে গেল।

এবারের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ভারতের কাছে হেরে গিয়েছিল পাকিস্তান। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে জিততেই হত তাদের। পাকিস্তানের বোলাররা দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স দেখালেও, ব্যাটাররা কিন্তু চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন। জিম্বাবোয়ের বোলারদের সামনে পাকিস্তানের তাবড় তাবড় তারকা ব্যাটাররা এদিন ব্যর্থ হয়েই সাজঘরে ফিরেছিলেন। যদিও জিম্বাবোয়ের জয়ের প্রধান কারিগড়ের নাম কিসান্দার রাজা। পাকিস্তানের তিন তারকা ক্রিকেটারকে সাজঘরের রাস্তা দেখানোর সঙ্গে পাকিস্তানকে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাইরের রাস্তাটাও কার্যত দেখিয়ে দিয়েছিল তারা।

৪ ওভারে তিন উইকেট নিয়ে এদিন ম্যাচের নায়ক সিকান্দার রাজা

এদিন জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে জিততেই হত পাকিস্তানকে। সেইমতো পাকিস্তানের বোলাররা দুর্ধর্ষ, পারফরম্।ান্সও দেখিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বোলিং সহায়ক পিচেই তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ল পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপও। সিকান্দার রাজা, মুজারাব্বানি এবং এনগার্ভাদের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারল না পাকিস্তানী ব্যাটাররা। ১৩০ রান তাড়া করতে নেমে ১২৯ রানেই থামংতে হল তাদের। আর বিশ্বমঞ্চে অঘটন ঘটিয়ে সকলেই চমকে দিল জিম্বাবোয়ে।

টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তানী অধিনায়ক বাবর আজম। লক্ষ্য ছিল জিম্বাবোয়েকে কম রানের মধ্যেই শেষ করে দেওয়া। যদিও জিম্বাবোয়ে কিন্তু শুরুটা খুব একটা খারাপ করেনি। বরং ওপেনিং পার্টনারশিপ বেশ ভালই খেলছিল। এক সময় জিম্বাবোয়ের রান ছিল ৩ উইকেটে ৯৫ রান। সেখানেই ম্যাচের মোর হঠাত্ ঘুরিয়ে দেন মহম্মদ ওয়াসিম। তাঁর পর দুই উইকেটেই জিম্বাবোয়ে শেষ হয়ে যায়। ছয় বলের মধ্যে আরও ৪ উইকেট খুইয়ে জিম্বাবোয়ে তখন বেশ চাপে। কোনওরকমে ১৩০ রানে পৌঁছেছিল জিম্বাবোয়ে।


https://twitter.com/fwildecricket/status/1585643140488499203

পাকিস্তানের সামনে তখন সহজ লক্ষ্য। অন্যদিকে জিম্বাবোয়েকে জিততে হলে প্রয়োজন এক অসাধারণ বোলিং। সেটাই করে দেখাল ধারেভারে পাকিস্তানের থেকে এদিন বহু পিছিয়ে থাকা জিম্বাবোয়ে। বাবর আজম এদিনও ব্যর্থ। ৪ রানে ফেরেন তিনি। মহম্মগ রিজওয়ানকে সাজঘরের রাস্তা দেখান মুজারব্বানি। এরপর থেকেই মাঠে সিকান্দার রাজার দাপট।

একাই এদিন বল হাতে ম্যাচের মোর ঘুরিয়ে দেন। শাদাব খান, হায়দার আলিকে পরপর সাজঘরে ফিরিয়ে পাকিস্তানের ওপর প্রবল তাপ তৈরি করেন তিনি। পরের ওভারেই শেষ পাকিস্তানের হয়ে ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা শান মাসুদকে স্টাম্প করে ম্যাচ জিম্বাবোয়ের পক্ষে নিয়েচলে আসেন। যদিও তথনও পাকিস্তান লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু মুজরব্বানিদের হিসাবী বোলিং পাকিস্তানকে একেবারেই সুবিধা করতে দিচ্ছিল না। শেষ ওভারে পাকিস্তানের জিততে তখন প্রয়োজন ছিল ১১ রান।

সেই ম্যাচে একটি বাউন্ডারি হঁকালেও, শেষরক্ষা করতে পারেনি পাকিস্তান। শেষপর্যন্ত ১ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিয়েছে জিম্বাবোয়ে।

close whatsapp