ধরমশালায় শ্রেয়স-জাদেজার তান্ডবে শ্রীলঙ্কাকে হেলায় হারিয়ে সিরিজ জয় ভারতের

Shreyas Iyer
Shreyas Iyer. (Photo Source: Twitter)

লখনউয়ের পর ধরমশালাতেও উঠল ঝড়। আর সেই ঝড়ের নাম শ্রেয়স আইয়ার। শ্রীলঙ্ককে চূর্ণ করে ধরমশালাতেই সিরিজ পকেটে পুরল টিম ইন্ডিয়া। আর ম্যাচের নায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তাঁর চওড়া ব্যাটে ভর করেই লঙ্কা বাহিনীকে উড়িয়ে ঘরের মাঠে দ্বিতীয় টি টোয়েন্টি সিরিজও জিতে নিল ভারতীয় দল। আর সেইসঙ্গেই ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি যে তৈরি, সেই বার্তাটাও হয়ত দিয়ে দিলেন শ্রেয়স আইয়ার। তাঁর দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ে ভর করে শ্রীলঙ্কার রানের পাহাড় টপকাতে খুব একটা অসুবিধাই হল না ভারতের। ৭ উইকেটে জিতল টিম ইন্ডিয়া।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে সেভাবে শুযোগ পাননি তিনি। অপেক্ষায় ছিলেন। লখনউয়ে প্রথম টি টোয়েন্টিতেই সকলে ট্রেলরটা দেখতে পেয়েছিল। আর ধরমশালায় যেন পুরো অ্যাকশন সিনেমাটা দেখিয়ে দিলেন শ্রেয়স আইয়ার। ৪৪ বলে ৭৪ রানের ঝোরো ইনিংস খেললেন তিনি। তাঁর ইনিংসটি সাজানো ৬টি বাউন্ডারি ও ৪টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। সঙ্গে অবশ্যই সঞ্জু স্যামসনেরও বিধ্বংসী ইনিংস। বড় রান হয়ত পাননি ঠিকই, কিন্তু শ্রেয়সের সঙ্গে এদিন তাঁর ইনিংসটাই ভারতের জয়ের রাস্তাটা তৈরি করে দিয়েছিল।

টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। হয়ত পরিকল্পনা ছিল শ্রীলঙ্কাকে তাড়াতাড়ি শেষ করে দেওয়ার। প্রথম ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে বড় রান করতে পারেনি তারা। সেমতোই হয়ত ভেবে বোলিং নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এদিন লামাদের শহরে বোলারদের ভাগ্য একেবারেই সহায় ছিল না। বরং শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কা ব্যাটারদের দাপট ছিল দেখার মতো। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন নিসাঙ্কা ও গুনাথিলাকা।

শ্রেয়স আইয়ার ও জাদেজার বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে সিরিজ করে ভারতের

৬৭ রানের মাথায় রবীন্দ্র জাদেজা প্রথম উইকেটটা পান। গুনাথিলাকাকে সাজঘরে ফিরিয়ে ওপেনিং জুটি ভাঙেন তিনি। এরপরের দুটো উইকেট অবশ্য তাড়াতাড়িই তুলে নেয় ভারত। আসালঙ্কাকে ফেরান চাহাল এবং মিশারাকে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন হর্শল পটেল। শ্রীলঙ্কার রান তখন ৭৬ রানে ৩ উইকেট। চন্ডীমলও বেশীক্ষণ থাকতে পারেননি। তাঁকে ৯ রানে বুমরাহ তুলে নেন। শ্রীলঙ্কার ওপর তখন ভারত আরও চাপ বাড়াতে শুরু করে। এই সময় থেকেই শ্রীলঙ্কাকে ঘুরে দাঁড় করানোর কাজটা শুরু করেন নিসাঙ্কা। এদিন ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন তিনি।

আর হর্শল পটেলের শেষ দুই ওভারটাই যেন টার্নিং পয়েন্ট হয়ে যায়। ৪ ওভারে ৫২ রান দেন তিনি। প্রথম ইনিংসের শেষ ওভারে তাঁর থেকে ৩৩ রান ছিনিয়ে নেন নিসাঙ্কা। আর তাতেই রানের রাহাড় তৈরি করে শ্রীলঙ্কা। ভারতের সামনে ১৮৪ রানের লক্ষ্য দেয় দাসুন সনাকার দল। নিসাঙ্কা একাই করেন ৭৫ রান।

৪৪ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা শ্রেয়স আইয়ার

টি টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে যদিও এই রান তাড়া করে জেতার নজির বহু রয়েছে। আর ভারতীয় দলে যখন রোহিত, শ্রেয়স, জাদেজাদের মতো নাম রয়েছে, সেক্ষেত্রে ভারত যে ম্যাচ জিততেই পারে, তেমন আশা সকলেই করেছিলেন। কিন্তু ভারতের ব্যাটিংয়ের শুরুতেই বড় ধাক্কা। মাত্র ১ রানে সাজঘরে ফেরেন রোহিত শর্মা। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্যাভিলিয়নের রাস্তা ধরেন ইশান কিষাণও। ভারতের রান তখন ২ উইকেটে ৪৪ রান। ম্যাচের রাশ তখন শ্রীলঙ্কার পক্ষে। রীতিমত চাপে ভারত।

ক্রিজে সেই সময় শ্রেয়স আইয়ার ও সঞ্জু স্যামসন। শুরুতে খানিকটা ধরে খেলার চেষ্টা। এরপর মাঠে শুরু শ্রেয়সের তান্ডব। ম্যাচের বয়স যখন সাত ওভার, সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে শুরু করেন শ্রেয়স আইয়ার। প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও অর্ধশতরান সম্পূর্ণ করেন তিনি। এরপরই শুরু সঞ্জু স্যামসনের রানের ঝড়। আর তাদের হাত ধরেই একসময় চাপে থাকা ভারত, অ্যাডভান্টেজে চলে যায়। সেখান থেকে আর শ্রীলঙ্কারে ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শ্রেয়স ও সঞ্জুর ৮৪ রানের পার্টনারসিপটাই এদিন শ্রীলঙ্কার সিরিজে সমতা ফেরানোর সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেয়।

তবে সঞ্জু ফিরে যান ২৫ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলে। ২টি চার ও ৩টি ছয় রয়েছে তাঁর খাতায়। যদিও ততক্ষণে ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিত। এরপর মাঠে শুরু রবীন্দ্র জাদেজার তান্ডব। মাত্র ১৮ বলে ৪৫ রানের ঝোরো ইনিংস খেলেন তিনি। ম্যাচটা শেষও করেন জাদেজাই। ১৭.১ ওভারেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ জিতে নিল টিম ইন্ডিয়া। হেলায় হারাল দাসুন সনাকাদের।

close whatsapp