কী করে ক্রিকেটের মহাশক্তিশালী দেশ হয়ে উঠল নিউ জিল্যান্ড, জানুন কিউই সিক্রেট
আপডেট করা - Nov 11, 2021 10:13 pm

বিশ্ব ক্রিকেটে এখন মহাশক্তিধর নিউ জিল্যান্ড। টেস্টে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন, ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে টাই ম্যাচের পর রানার্স আর এবার টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট। বাইশ গজের দুনিয়ায় একেবারে ঈর্ষণীয় পারফরম্যান্স করছে নিউ জিল্যান্ড। অথচ কিউই দলে বড় তারকা ক্রিকেটার নেই। বর্তমান কিউই দলেই এমন অনেক ক্রিকেটার আছেন, যাদের নাম সেবাবে শোনাই যায় না। অথচ বিশ্বমঞ্চে দারুণ সফল কিউই ক্রিকেট দল। কিন্তু কীভাবে সম্ভব হচ্ছে সেটা। আসুন দেখে নেওয়া যাক-
১) ব্যক্তি নয়, দলই সব: এটা কিউই ক্রিকেটে বরাবরের মন্ত্র। রিচার্ড হ্যাডলি থেকে ক্রিস কেয়ার্ন্স, স্টিফেন ফ্লেমিং, ন্যাথান অ্যাসলে, ব্র্যান্ডন ম্যাকালাম। নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটে বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটারের অভাব কোনওকালেই ছিল না। কিন্তু কিউই ক্রিকেটে কেউই কখনও বদলের উর্ধ্বে উঠতে পারেননি। একজন, দুজনের কাঁধে ভর করার শর্টকাটটা কখনই আপন করে নেয়নি কিউইরা। ব্যক্তি স্বার্থ, ব্যক্তি নির্ভরতায় বিশ্বাস না করে দল হিসেবেই বাজিমাত করেছে নিউ জি লব্যান্ড।
২) তারকা পুজো নয়: কেন উইলিয়ামসনের মত বিশ্ব সেরা মাপের ক্রিকেটার থাকা সত্ত্বেও, তাঁকে নিয়ে কখনও বারবারি হয় না। ড্রেসিংরুমে তিনি বাকিদের মতই মিশে থাকেন। তারকা পুজো চলে না কোথাও। এতে কাজটা সহজ হয়।
৩) অধিনায়ক ফ্যাক্টার: লিডিং ফ্রন্ট দ্য ফ্রন্ট। ক্রিকেটে খুব চালু কথা। কেন উইলিয়ামসন ঠিক তেমনটাই করেন। নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে দলকে উজ্জিবীত করেন, অনুপ্রেরণা জোগান। কখনও অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস দেখান না। আবার কখনও রেগে যান না। পুরো ক্যাপ্টেন কুল। কেনের এইজিনিসটা নিউ জিল্যান্ডকে আলাদা মাত্রায় মনিয়ে গিয়েছে।
৪) প্রচার নয়, প্রসারে মন: নিউ জিল্যান্ডে ক্রিকেট বড় খেলা নয়। ক্রিকেটের খবর সেখানে বিশেষ বড় করে জায়গা পায় না। তবে রাগবির মত খেলা বাদ দিলে, ক্রিকেটে নিউ জিল্যান্ডের সাফল্য কিন্তু কম নয়। তবু কিউই ক্রিকেটাররা প্রচার বিমুখ। ক্রিকেটার বা তাদের স্ত্রী-গার্লফ্রেন্ডরা পেজ থ্রি আলো করে থাকেন। ক্রিকেটারদের জন্মদিন নিয়ে টিভিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুষ্ঠান হয় না। আসলে কিউই দল প্রচারে নয়, বরং দলের পারফরম্যান্সের প্রচারে থাকেন।
৫) অর্থই অনর্থের মূল নয়: নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটাররাও গোটা বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কেলেন। মোটা অর্থও পান। কিন্তু তার জন্য দেশের ক্রিকেটে পারফরম্যান্সে ঘাটতি পড়ে না। আসলে বাইশ গজের অনেক দেশের মত কিউই ক্রিকেটে অর্থই অনর্থের মূল হয়নি।