বাইশ বছরের কেরিয়ারের দিকে আলোকপাত করলেন ক্রিস গেইল, অবসরের জল্পনা উড়িয়ে জানালেন গতকালের ব্যাট তুলে অভিবাদন গ্রহণ নিছকই মজা

জামাইকাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলার ইচ্ছাপ্রকাশ তাঁর

Chris Gayle
Chris Gayle. (Photo by Gareth Copley-ICC/ICC via Getty Images) 

ক্রিস গেইল আবারও বললেন যে তিনি এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেননি। শনিবার (৬ নভেম্বর) গেইলের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল যখন এই ব্যাটার আউট হওয়ার পর ব্যাট তুলে অভিবাদন গ্রগণ করে মাঠ ছাড়েন।   

তবে কিংবদন্তি ব্যাটার নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ঘরের মাঠে বিদায় নিতে চান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ম্যাচের পর আইসিসির সাথে একটি ফেসবুক লাইভ চ্যাটে গেইল বলেন, “আমার একটি অসাধারণ কেরিয়ার কেটেছে। আমি কোনো অবসর ঘোষণা করিনি কিন্তু যদি আমাকে জ্যামাইকায় আমার বাড়ির দর্শকদের সামনে একটি ম্যাচ দেওয়া হয়, তাহলে আমি বলতে পারি ‘হে বন্ধুরা, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।'”

“দেখা যাক। যদি না হয়,  তখনআমি ঘোষণা করব। আমি কিছু মজা করছিলাম তখন। যা ঘটেছিল তা একপাশে রেখে দিন। আমি শুধু গ্যালারিতে ভক্তদের সাথে আলাপচারিতা করছিলাম এবং শুধু এটা দেখে মজা পাচ্ছিলাম কারণ এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ খেলা হতে চলেছে।” 

গেইল তার দীর্ঘ কেরিয়ারের প্রতি প্রতিফলনও করেন এবং প্রকাশ করেন যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে তিনি সবসময়ই আবেগপ্রবণ ছিলেন। “আমি সত্যিই আজ এখানে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। কেরিয়ার সত্যিই দুর্দান্ত ছিল। আমি কিছু জায়গায় থমকেছি। আমার রক্তপাত হয়েছে, আমি চোখের জল ফেলেছি, তারপরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ব্যাটিং করে গেছি,” তিনি বলেছিলেন।

তিনি ওই প্রসঙ্গে আরও জোড়েন, “ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই আনন্দের ছিল, আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সম্পর্কে খুব আবেগপ্রবণ। এটা সত্যিই খারাপ লাগে যখন আমরা খেলা হারি এবং আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাই না এবং একজন বিনোদনকারী হিসেবে ভক্তরা আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” 

যখন আমি বড় হচ্ছিলাম তখন বিলাসিতা ছিল না – ক্রিস গেইল

মাঠের ভিতরে এবং মাঠের বাইরে খোশমেজাজে থাকা গেইল উল্লেখ করেছেন যে একটি সফল দীর্ঘ কেরিয়ার তৈরি করার পিছনে অনেক কঠোর পরিশ্রম হয়েছে। তিনি বলেছেন, “আমি খুব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তি। আমি কঠোর পরিশ্রম করি। লোকে আমাদের কঠোর পরিশ্রম দেখতে পায় না, তবে আমি নীরবে কঠোর পরিশ্রম করি। আমি আমার প্রতিভাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করি।” 

শৈশবের সংগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার কাছে কিছুই ছিল না, যখন আমি বড় হচ্ছিলাম তখন বিলাসিতা ছিল না, তাই আমি আমার অপ্রাপ্তিগুলোকে আমার অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করতাম। আমার কেরিয়ারের শুরুতে বলেছিলাম, ‘মা আমি তোমাকে একটি বাড়ি দেব’, যখন আমি প্রথম টাকা কামাব। আমি একটি গাড়ি কিনব। এই ইচ্ছাগুলিই আপনাকে লেগে থাকতে সাহায্য করে। আমার যে স্থিতিশীলতা এবং মানসিক শক্তি আছে, সেটাই আমাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে খেলে যেতে সাহায্য করেছে।”  

close whatsapp