ব্যর্থ বুমরার লড়াই, রাসেল-কামিন্সের দাপটে মুম্বইকে হারিয়ে জয়ে ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স

Kolkata Knight Riders
Kolkata Knight Riders. (Photo Source: IPL/BCCI)

জসপ্রীত বুমরাহ দুর্ধর্ষ বোলিং করলেও ব্যাটারদের চূড়ান্ত ব্যর্থতায় নাইট রাইডার্সকে হারাতে পারল না মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ব্যাটাররা সেভাবে না পারলেও রাসেল, কামিন্সদের হাত ধরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে খাতায় কলমে এখনও যেন একচা সূক্ষ  আশা জাগিয়ে রাখল কলকাতা নাইট রাইডার্স। টিং গেমে ভর করেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ফিরতি লেগেও হারিয়ে দিল কলকাতার নাইটরা। ১২ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পেয়ে চেন্নইয়ের ওপরে উঠে এল নাইট শিবির। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ৫২ রানে হারাল কেকেআর। যদিও ব্যাটিং নিয়ে একটা চিন্তা রয়েই গেল নাইটদের।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে পরিসংখ্যানের বিচারে বরাবরই নাইট রাইডার্স পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু এবার মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম পর্বেই জয় হাসিল করে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেই ধারা ফিরতি লেগের ম্যাচেও অব্যহত। অবশ্যই ভেঙ্কটেশ আইয়ারের আক্রমণাত্মক সেই ইনিংস এবং বল হাতে কামিন্স এবং রাসেলের দাপটেই মুম্বই বধ সম্পূর্ণ শ্রেয়স আইয়ারদের। যদিও এই জয়ে খুব একটা স্বস্তি ফেরেনি নাইট রাইডার্স শিবিরে। কারণ প্লে অফে যেতে হলে এখনও যে অনেক খাতায় কলমের হিসাব বাকি রয়েছে।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে ৫ ম্যাচ জিতে ১০ পয়েন্ট কেকেআরের

একের পর এক ব্যর্থতায় কলকাতা নাইট রাইডার্স কার্যত আইপিএলের বাইরেই চলে গিয়েছে। তবুও খাতায় কলমের হিসাবে একটা সুযোগ রয়েছে। তবে পরপর তিনম্যাচই তার জন্য জিততে হবে নাইট রাইডার্সকে। সেখানেই তাদের বিরুদ্ধে নেমেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এই ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্স শিবিরে ছিল পাঁচটি পরিবর্তন। পরপর দু ম্যাচ বসার পর দলে ফিরেছিলেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। একইসঙ্গে নাইট শিবিরে ফেরানো হয়েছিল প্যাট কামিন্স।

আর এই দুই ক্রিকেটারের ফেরার সঙ্গেই যেন নাইট রাইডার্সেরও ভাগ্য পরিবর্তন। তাদের হাত ধরেই ফের জয়ে ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স। টস জিতে এদিন বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। কিন্তু মাঠে নামা থেকেই এদিন বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। তাঁর হাত ধরেই প্রথমবার পাওয়ার প্লে-তে কেকেআর ৬০ রান করতে পারল। যদিও ভেঙ্কটেশ আইয়ার ফেরেন ৪৩ রানেই। অজিঙ্ক রাহানে ধীরগতিতে খেললেও নীতিশ রানা এদিন নাইটদের রান এগিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু মাঝপথ থেকেই এদিন শুরু হয় জসপ্রীত বুমরার দাপট। তিনিই ৪৩ রানে ফিরিয়ে দেন নীতিশ রানা। এরপর একে একে রাসেল, শ্রেয়স আইয়ার, শেলডন জ্যাকসনদের সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন তিনিই। ডি ওয়াই পটেল স্টেডিয়ামে এদিন জ্বলে উঠেছিলেন বুমরাহ। নাইটদের বড় রানের আশা ভেঙে দেন তিনিই।

শেষপর্যন্ত রিঙ্কু সিংয়ের হাত ধরে নাইট রাইডার্স পৌঁছয় ১৬৫ রানে। সহজ লক্ষ্য মুম্বইয়ের সামনে। কিন্তু নাইট রাইডার্স বোলাররাও এদিন ছিলেন দুর্ধর্ষ ফর্মে।শুরুটা করেন টিম সাউদি রোহিত শর্মাকে ২ রানে ফিরিয়ে দিয়ে। এরপর থেকেই ক্রিজে শুরু আন্দ্রে রাসেল এবং প্যাট কামিন্সের দাপ। তিলক বর্মা এবং রমনীপ সিংকে পরপর ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচের রাশ নাইটদের হাতে তুলে দেন রাসেলই।  যদিও তখনও ক্রিজে ছিলেন ইশান কিষাণ। এরপর নাইট রাইডার্সকে স্বস্তি দেন কামিন্স। ইশান কিষাণ, ড্যানিয়েল স্যামস এবং মুরুগান অশ্বিনদের সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে নাইট রাইডার্সের বড় ব্যবধানে জয়ের রাস্তা প্রশস্ত করে দেন তিনি।

close whatsapp