নাটকীয় পটপরিবর্তন, চট্টগ্রাম শিবিরে ফের যোগদান মিরাজের

শোনা গিয়েছিল দল ছেড়ে তিনি ঢাকা ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন

Mehidy Hasan Miraz
Mehidy Hasan Miraz. (Photo by Zabed Hasnain Chowdhury/SOPA Images/LightRocket via Getty Images)

রবিবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে কোন ম্যাচ ছিল না। মাঠে নেমে ক্রিকেট খেলার ক্ষেত্রে অফ ডে হলেও, মাঠের বাইরের ঘটনার কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটমহল আলোড়িত হল। গতকাল সিলেট সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে নামার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মেহেদী হাসান মিরাজকে জানানো হয় তাঁকে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নাইম ইসলামকে অধিনায়ক করা হয়েছে। তখনই সেই নিয়ে কোন জলঘোলা হওয়ার খবর সামনে আসেনি এবং মিরাজ অধিনায়ক না থাকলেও ম্যাচটি খেলেন।

ঘটনার পটপরিবর্তন হতে শুরু করে রবিবার থেকে। অধিনায়কত্ব ইস্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স শিবির ত্যাগ করে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মিরাজ। হোটেল থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি এবং দলের বেশ কিছু কর্তা তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেন। হোটেলের মধ্যেই দিনভর নাটকের পর মিরাজের সঙ্গে ২ ঘন্টা ধরে বৈঠক করেন দলের শীর্ষস্থানীয় কর্তারা। সেই বৈঠকের পরেই চিঁড়ে ভেজে।

মিরাজ তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দলের সঙ্গে পুনরায় যোগ দেন। আপাতত বিপিএলের বাকি ম্যাচে তিনি চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করবেন। যদিও অধিনায়ক হিসেবে তিনি আর ফিরবেন না।

সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মিরাজ

সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন মিরাজ এবং তিনি নিজেই পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ওঁর (সিইও) ঘরে গিয়ে দুই ঘণ্টার মতো কথা হয়েছে। যা ঘটেছে তা ঠিক হয়নি বলার পর তাঁরা বলেছেন, এটা এক ধরনের ভুল বোঝাবুঝি। তারা বুঝতে পেরেছেন যে, ওঁদের উচিত ছিল আমার সঙ্গে কথা বলা। কোচ (পল নিক্সন) চলে যাওয়ার পর ম্যানেজমেন্ট বুঝে উঠতে পারেনি কী করণীয়। আমি দলের সঙ্গেই থাকছি। তবে আমাকে অধিনায়কত্ব দিলেও আর করব না।”

এর আগে বিকেলে মিরাজ বলেছিলেন, দলের সিইও ইয়াসির আলম চৌধুরী থাকলে চট্টগ্রামে তাঁর পক্ষে খেলা সম্ভব নয়। শুধু দল ছাড়াই নয়, তিনি এমনকি ঢাকায় ফেরার জন্য বিমানের টিকিটও কেটে ফেলেছিলেন। স্ত্রী, সন্তানসহ রাজধানীতে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

গত শনিবার প্রধান কোচ পল নিক্সন দল থেকে সরে যান এবং তারপর শোনা যায় তিনি যাওয়ার আগে মিরাজের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ করে গেছেন। মিরাজ সেসব কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত হন এবং নিক্সনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ততক্ষণে যদিও চট্টগ্রাম শিবিরের অন্দরে আগুন যা লাগার লেগে গিয়েছিল। তবে সৌভাগ্যের বিষয় সেই আগুনে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ঘর পোড়েনি।

close whatsapp