ব্রড, লিচের শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে সিডনিতে জয় হাতছাড়া অস্ট্রেলিয়ার

Stuart Broad and James Anderson
Stuart Broad and James Anderson. (Photo by DAVID GRAY/AFP via Getty Images)

এটাই বোধ হয় টেস্ট ক্রিকেট।  এমন রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত বোধহয় টেস্ট ক্রিকেট ছাড়া আর কোনও ফর্ম্যাটেই পায়া সম্ভব নয়। টান টান উত্তেজ্জনা। দিনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলল খেলা, অবশেষে ম্যাচের ফলাফল ড্র। ব্রিটিশ ব্যাটারদের শেষপর্যন্ত লড়াইয়ে জয়ের আশা ছাড়াতেই হল অস্ট্রেলিয়াকে। অজি শিবিরকে আবারও যেন সেই ২০২১ সালের কথা মনে পড়িয়ে দিল অ্যাশেজের এই চতুর্থ টেস্ট। সেই সিডনিতেই  একেবারে জয়ের সামনে থেকেও আশাহত হতে হল অজিদের। শেষ মুহূর্তে ব্রডের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে শেষ টেস্ট ড্র ইংল্যান্ডের।

পরপর তিন টেস্ট জিতে অ্যাশেজের সিরিজ আগেই পকেটে পুড়ে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এতটুকুতেই সন্তুষ্ট ছিল না অস্ট্রেলিয়া। তাদের লক্ষ্য ছিল চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে ৫-০-এ টেস্ট সিরিজ হারানো। সেই লক্ষ্যে এগিয়েও ছিলেন স্টিভ স্মিথ, প্যাট কামিন্সরা। কিন্তু পঞ্চম দিনের একদম শেষ মুহূর্তে ব্রড ও লিচের ইনিংসটাই বাঁচিয়ে দিল ব্রিটিশদের। সিরিজে প্রথম ম্যাচ ড্র করল ইংল্যান্ড।

প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দুরন্ত শতরান উসমান খোয়াজার। আর তাঁর হাত ধরেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিরাট লিড তুলেছিল ব্যাগি গ্রীন বাহিনী। ইংল্যান্ডের সামনে ছিল ৩৮৮ রানের লক্ষ্য। চতুর্থ দিন বিনা উইকেটে ৩০ রানে শেষ করেছিল ব্রিটিশ বাহিনী। পঞ্চম দিন সিডনিতে জিততে ইংল্যান্ডের তখন দরকার ছিল ৩৫৮ রান। আর অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ১০ উইকেটের।

দিনের শুরুতে ক্রলির ৭৭ রানে খানিকটা আশা জেগেছিল ইংল্যান্ডের। কিন্তু তা বেশীক্ষণ টেকেনি। ক্রলি ফেরেন ৭৭ রানে। চা বিরতির আগেই  ইংল্যান্ডের চার উইকেট তুলে নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা। এদিন একাই তিন উইকেট নেন স্কট বোল্যান্ড। যদিও পিচে তখনও ছিলেন বেন স্টোকস। কিন্তু চা বিরতির পর তিনি ৬০ রানে ফিরতেই গোটা ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার দখলে। তারপর থেকেই চূড়ান্ত ব্যাটিং ধস ব্রিটিশ লাইনআপে। পরপর বেয়ারস্টো, উড এবং বাটলারদের উইকেট হারিয়ে ম্যাচ কার্যত তখন ইংল্যান্ডের হাতের বাইরে।

অস্ট্রেলিয়ার তখন ম্যাচ জিততে বাকি আর ২ উইকেট। হাতে ওভারও রয়েছে প্রায় ১২ ওভার। সেই থেকেই ব্যাট হাতে লিচের সঙ্গে লড়াইটা শুরু স্টুয়ার্ট ব্রডের। একের পর এক অজি বোলাররা তখন চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের সাজঘরে ফেরাতে। কিন্তু মাটি কামড়ে পড়েছিলেন ব্রড। উইকেট তুলতে তখন স্পিন অ্যাটাকে স্টিভ স্মিথ। জ্যাক লিচকে ফিরিয়েও দেন তিনি। কিন্তু শেষপর্যন্ত স্টুয়ার্ট ব্রডকে আর আউট করতে পারেননি  অজি বোলাররা।

ঠিক একবছর আগে এই সিডনি গ্রাউন্ডেই এমন একটা জয় হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার। এমনই পঞ্চম দিনে অস্ট্রেলিয়ার জেতা ম্যাচ ড্র করে দিয়েছিলেন ভারতের হনুমা বিহারী ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ২০২২ সালের শুরুতেও সেই একই ঘটনা। ৫-০ করার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ার।

close whatsapp