টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২২: টুর্নামেন্টের সেরা দল বাছাই করল আইসিসি
শিরোপাজয়ী ইংল্যান্ডের মোট চারজন খেলোয়াড় স্থান পেয়েছেন তালিকায়
আপডেট করা - Nov 14, 2022 11:11 am

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের উত্তেজক পরিবেশে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২-এর ফাইনালে জয়ী হয়েছে ইংল্যান্ড। ধৈর্শশীল ইনিংস খেলে বেন স্টোকস থ্রি লায়ন্সকে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি শিরোপা জেতান। পুরুষদের ক্রিকেটে প্রথম দল হিসেবে একই সঙ্গে ৫০ ওভার এবং ২০ ওভারের বিশ্বকাপ দখলে রাখা দল হয়েছে ইংল্যান্ড। এখন আইসিসি টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল দল প্রকাশ করেছে।
আইসিসির নির্বাচিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২-এর সেরা দল
অ্যালেক্স হেলস (ইংল্যান্ড)
ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস সেমি-ফাইনালে অপরাজিত ৮৬ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে ফাইনালে নিয়ে যান। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ৬ ইনিংসে ২১২ রান করেছেন ১৪৭.২২ স্ট্রাইক রেটে।
জস বাটলার (ইংল্যান্ড)
হেলসের ওপেনিইং সঙ্গী এবং বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক জস বাটলার টুর্নামেন্টে ধীরগতিতে শুরু করার পরে তাঁর ফর্ম পুনরুদ্ধার করেন। ইংলিশ অধিনায়ক ভারতের বিরুদ্ধে ৮০* ইনিংস খেলার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে ২২৫ রান করেছেন ১৪৪.২৩ স্ট্রাইক রেটে।
বিরাট কোহলি (ভারত)
বিরাট কোহলি টুর্নামেন্টের শীর্ষস্থানীয় রান-স্কোরার হিসেবে শেষ করেছেন। দল ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলেও চারটি হাফ সেঞ্চুরিসহ ৯৮.৬৭-এর বিশাল গড়ে ২৯৬ রান করেছেন তিনি। এমসিজিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর অপরাজিত ৮২ রান প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূর্যকুমার যাদব (ভারত)
এই একাদশে বিরাট কোহলি ছাড়া ভারতের অন্য প্রতিনিধি হলেন মিডল অর্ডার সুপারস্টার সূর্যকুমার যাদব। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার মেন ইন ব্লুর হয়ে ১৮৯.৬৮-এর অবিশ্বাস্য স্ট্রাইক রেটে ২৩৯ রান সংগ্রহ করেছেন।
গ্লেন ফিলিপ্স (নিউজিল্যান্ড)
কিউই ব্যাটিং তারকা গ্লেন ফিলিপ্স বিশ্বকাপে ঝড় তুলেছেন এবং এই বছরের প্রতিযোগিতায় সেঞ্চুরি নথিভুক্ত করা মাত্র দুজন খেলোয়াড়ের একজন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর অত্যাশ্চর্য ক্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ক্যাচ হিসাবে থেকে যাবে। ১৫৮.২৬ স্ট্রাইক রেটে ২০১ রান করেছেন নিউ জিল্যান্ডের মিডল অর্ডার ব্যাটার।
সিকান্দার রাজা (জিম্বাবোয়ে)
ব্যাটিং হোক বা বোলিং, সিকান্দার রাজা জিম্বাবোয়েকে কখনই হতাশ করেননি। প্রতিযোগিতায় জিম্বাবোয়ে যে তিনটি ম্যাচ জিতেছিল, তিনটিতেই ম্যাচের সেরা হন তিনি। ব্যাট হাতে ২১৯ রান করার পাশাপাশি কার্যকরী স্পিন বোলিংয়ের সৌজন্যে দশ উইকেট নিয়েছেন।
শাদাব খান (পাকিস্তান)
আরও এক অলরাউন্ডার যিনি দলের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন, তিনি হলেন পাকিস্তানের শাদাব খান। মিডল অর্ডারে নেমে একটি হাফ সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি ৯৮ রান করেছিলেন। বল হাতে ১১ উইকেট নিয়েছেন, সেরা বোলিং ৩/২২।
স্যাম কারান (ইংল্যান্ড)
ইনিংসের প্রথম দিক হোক বা ডেথ ওভার, রানের গতি কমিয়ে হোক বা উইকেট নিয়ে, স্যাম কারান সব সময়ই দলকে সাফল্য এনে দিয়েছেন। ফাইনালে সেরা হওয়ার পাশাপাশি তাঁর বোলিং কৃতিত্বর জন্য টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বাঁ-হাতি পেসার টুর্নামেন্টে মোট ১৩ উইকেট নিয়েছেন।
অনরিখ নর্কিয়া (দক্ষিণ আফ্রিকা)
দক্ষিণ আফ্রিকা নকআউট পর্বে যেতে না পারলেও অস্ট্রেলিয়ার পিচকে কাজে লাগিয়ে দলের পেসার অনরিখ নর্কিয়া তাঁর আগুনে পেস প্রদর্শন করেছিলেন। ৫.৩৭-এর অনবদ্য ইকোনমি রেটে পাঁচ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
মার্ক উড (ইংল্যান্ড)
ইংল্যান্ডের মার্ক উড দুর্ভাগ্যজনক চোটের কারণে নকআউট পর্বে খেলতে পারেননি। তবে ইংল্যান্ডকে সেমি-ফাইনালে তোলার পথে তাঁর তীব্র পেস দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করে ছেড়েছিলেন। ধারাবাহিকভাবে ১৫০+ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বোলিং করা উড ৪ ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়েছেন।
শাহীন আফ্রিদি (পাকিস্তান)
পাকিস্তানের ভাগ্য হয়তো অন্যরকম হত যদি ফাইনালে তাদের তারকা পেসার শাহীন আফ্রিদি চোটের কারণে মাঠ না ছাড়তেন। প্রথম দুই ম্যাচে উইকেটহীন থাকা পেসার এরপর নিজের ছন্দ ফিরে পান এবং ৭ ইনিংসে আফ্রিদি মোট ১১ উইকেট নিয়েছেন।
দ্বাদশ ব্যক্তি: হার্দিক পান্ডিয়া (ভারত)
প্রথম একাদশে জায়গা না হলেও ভারতের সাবলীল অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। সেমি-ফাইনালে তাঁর ৩৩ বলে ৬৩ রানের ইনিংস অনেকের নজর কেড়েছিল। ১২৮ রান করার পাশাপাশি হার্দিকের সংগ্রহে ৮ উইকেট।