পরপর দুই ম্যাচে হার, তারপরেও কীভাবে পাকিস্তান টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২২-এর সেমি-ফাইনালে যেতে পারবে
জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১ রানে হারার পরে পাকিস্তানের বিদায় প্রায় নিশ্চিত
আপডেট করা - Oct 28, 2022 11:30 am

২৭শে অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২-এ সুপার ১২ পর্যায়ের ম্যাচে জিম্বাবোয়ে ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে হারিয়েছে। ভারতের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার পর পাকিস্তান এখন টুর্নামেন্টে টানা দুটি ম্যাচ হারল। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত কোন টি-২০ ম্যাচেই এখনও অবধি জয়ের মুখ দেখেনি পাকিস্তান।
পাকিস্তানের মতো নেদারল্যান্ডসও দুটি ম্যাচ খেলে দুটিই হেরেছে। তবে তাদের নেট রান রেট পাকিস্তানের তুলনায় খারাপ হওয়ায় আপাতত ডাচরা গ্রুপ ২ পয়েন্ট তালিকায় নিম্নতম স্থানে আছে। শূন্য পয়েন্ট এবং -০.০৫০ নেট রান রেট নিয়ে পঞ্চম স্থানে থাকা পাকিস্তানের পক্ষে নক-আউট পর্বে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হল পাকিস্তান কি এখনও সেমি-ফাইনালে পৌঁছনোর যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে?
সেমি-ফাইনালে যেতে হলে পাকিস্তান দলের কী করণীয়
উত্তর হল হ্যাঁ। তবে পাকিস্তানকে শেষ চারে জায়গা করে নিতে হলে নিজেদের ম্যাচগুলিতে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পাশাপাশি বাকি দলগুলির ম্যাচের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে এবং আশা করতে হবে সেইসব ম্যাচের ফলাফল যেন তাদের পক্ষে যায়।
প্রথমেই, পাকিস্তানকে তাদের বাকি ম্যাচগুলি বড় ব্যবধানে জিততে হবে। পরবর্তী সুপার ১২ ম্যাচে তারা নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে। এরপরে তাদের বাকি দুই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের মোকাবিলা করতে হবে। সুতরাং, তাদের অবশিষ্ট তিন ম্যাচের তিনটিই জিততে পারলে পাকিস্তান মোট ছয় পয়েন্ট অর্জন করবে।
এইসব ম্যাচ শুধু জিতলেই হবে না, মেন ইন গ্রিনকে বেশ বড় ব্যবধানে জিতে নেট রান রেট উন্নত করতে হবে। গ্রুপ ২-এর শীর্ষ দুই পজিশনে বর্তমানে রয়েছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তান আশা করবে এই দুই দলের মধ্যে যে কোন একটি দল যেন ছয় পয়েন্টের কম অর্জন করে এবং যদি ছয় পয়েন্ট অর্জন করে তবে তাদের নেট রান রেট যেন পাকিস্তানের চেয়ে কম থাকে।
এমন অবস্থায় রবিবার ৩০শে অক্টোবর, পার্থে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। সেই ম্যাচে যদি ভারত জেতে তবে তাদের পয়েন্ট হবে ছয় এবং বাকি দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল দল বাঙ্গালদেশ ও জিম্বাবোয়ে। ফলে তারা সেমি-ফাইনালে একপ্রকার নিশ্চিত করে ফেলবে।
সেই ম্যাচে যদি দক্ষিণ আফ্রিকা জেতে তবে প্রোটিয়ারা ৫ পয়েন্ট নিয়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবে এবং নেদারল্যান্ডসের মতো প্রতিপক্ষর বিরুদ্ধে তাদের তখনও ম্যাচ বাকি থাকায় তাদের পক্ষে ছয় পয়েন্টের বাধা টপকানো সহজ হবে।
ফলে পাকিস্তানকে এখন শুধু বড় ব্যবধানে জিতলেই হবে না, বাকি দলগুলির উপরেও ভরসা করে থাকতে হবে। যদিও এমন অবস্থায় পড়ার জন্য বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন দল নিজেদের পারফর্ম্যান্সকেই দায়ী করবে। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মাত্র ১৩০ রানের লক্ষ্য অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়ে তারা নিইয়েরাই নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছে।