দীপক হুডার বিধ্বংসী সেঞ্চুরী, ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করেও ৪ রানে হার আয়ারল্যান্ডের

Umran Malik and Ishan Kishan
Umran Malik and Ishan Kishan. ( Photo Source: Twitter )

লড়াইটা আয়ারল্যান্ড করলেও দীপক হুডার সেঞ্চুরী এবং সঞ্জু স্যামসনের দুর্ধর্ষ ইনিংসটাই এদিন ভারতের জয়টা পাকা করে দিয়ে এসেছিল। ভারতীয় বোলাররা ব্যর্থ হলেও, দুই তারকার দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্সের সৌজন্যেই শেষ ম্যাচে জিততে পারল টিম ইন্ডিয়া। তবে অসাধারণ লড়াই করে সকলকে মুগ্ধ করল আয়ারল্যান্ড। হাড্ডহাড্ডি ম্যাচে শেষপর্যন্ত আইরিশদের বিরুদ্ধে ৪ রানে জিতে ২-০-এ সিরিজ পকেটে পুরল ভারতীয় দল। অধিনায়ক হিসাবে প্রথম সিরিজ জিতে সাফল্যের রাস্তায় আরও একটু এগিয়ে গেলেন হার্দিক পান্ডিয়া।

প্রথম ম্যাচে ওপেনিংয়ে নেমে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন দীপক হুডা। তবে মাত্র তিন রানের জন্য অর্ধশতরান হাতছাড়া হয়েছিল তাঁর। কিন্তু সেই ইনিংসটা এদিন আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল দীপক হুডার। আর তাতেই তো প্রথমবার টি টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরীও করলেন তিনি। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে  ৫৭ বলে ১০৪ রানের ঝোরো সেঞ্চুরী খেললেন দীপক হুডা। তাঁর গোটা ইনিংসটি সাজানো ৯টি চার ও ৬টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। আর সেইসঙ্গে ভারতের জয়ের রাস্তাটাও তৈরি করে দিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ওপেনিংয়ে সঞ্জু স্যামসনের ৭৭ রানের ইনিংস।

টি টোয়েন্টিতে ভারতীয় হিসাবে সর্বোচ্চ পার্টনারশিপের রেকর্ড গড়লেন দীপক হুডা-সঞ্জু স্যামসন

টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। পরিকল্পনা ছিল আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিরাট রান করা। এদিন অবশ্য ভারতীয় দলে বেশ কিছু পরিবর্তন ছিল। ওপেনিংয়ে রুতুরাজের জায়গায় দলে এসেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। এছাড়া দলে এসেছিলেন রবি বিষ্ণোইও। সঞ্জুকে দলে আনার সিদ্ধান্ত যে এতটুকু ভুল ছিল না, তাএদিন ৭৭ রানের ইনিংস খেলেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

ওপেনিংয়ে অদিনও ব্যর্থ ঈশান কিষাণ। তিনি ফেরেন ৩ রানে। এরপর মাঠে নামা থেকেই বিধ্বংসী ফর্মে ছিলেন দীপক হুডা। শুরু থেকেই আয়ারল্যান্ডের বোলারদের বিরুদ্ধে দাপট দেখানো শুরু করেছিলেন তিনি। সেইসঙ্গে যোগ্য সঙ্গত ছিল সঞ্জু স্যামসনেরও। দুই ক্রিকেটার মিলে ১৭৬ রানের বিধ্বংসী পার্টনারশিপ গড়ে তোলে এদিন। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই পার্টনারশিপটাই এদিন ভারতের বড় রানের ইঙ্গিতটা দিয়ে দিয়েছিল।

১০৪ রানের ইনিংস খেলে দীপক হুডা যখন সাজঘরে ফেরেন সেই সময় ভারতের ৪ উইকেটে ২১২ রান। রানটা অবশ্য এদিন আরও বেশী হতে পারত। কিন্তু পরের দিকের ব্যাটারদের তাড়াহুড়োতে ফের রানের গতি কমে গিয়েছিল। ২২৫ রানেই শেষ হয় এদিন ভারতের রানের ইনিংস। আইরিশদের বিরুদ্ধে বড় রানের লক্ষ্য তখন। আর সেইসঙ্গে ভারতীয় বোলারদের সামনে ছিল পরীক্ষা।

ম্যাচটা ভারত জিতেছে ঠিকই কিন্তু বোলাররা কিন্তু এদিন সেভাবে সফল হয়েছেন তা বলা চলে না। আয়ারল্যান্ডের মাত্র ৫ উইকেটই তুলতে পেরেছিলেন ভারতীয় বোলাররা। ভারতীয় দলের অভিষেক হওয়ার পর এদিনই প্রথম উইকেট পান উরমান মালিক। কিন্তু ৩ ওভারে রান দিয়েছেন ৩১। শুধু তিনি একাই নন ভারতের প্রতিটি বোলারই ৩০-এর নীচে রান দেননি।

ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই এদিন আয়ারল্যান্ডের ব্যাটাররা ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। ওপেনিংয়ে পল স্টার্লিং এবং অ্যাম্ড্রু বালবির্নি ৭৩ রানের পার্টনারপশিপ গড়ে যান তারা। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৭০ রানের গন্ডী টপকে গিয়েছিল। অধিনায়ক বালবির্নি করেন ৬০ রান। স্টার্লিং করেছেন ১৮ বলে ৪০ রান। এই দুই ব্যাটার ফিরে গেলেও রানের গতি কিন্তু কমেনি আইরিশ ব্যাটারদের।

দেশের জার্সিতে প্রথম উইকেট পেলেন উমরান মালিক

গতম্যাচের পর এদিনও টেক্টর ছন্দে ছিলেন। তিনি করেন ৩৯ রান। কিন্তু ম্যাচ সবসময়ই ছিল টানটান উত্তেজনা। টেক্টর ফিরে গেলেও, ম্যাচের হাল কিন্তু ছাড়েনি আয়ারল্যান্ড। ছয় নম্বরে নামলেও শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন ডকরেল। হর্শ পটেল, রবি বিষ্ণোইরা সকলেই ব্যর্থ হন তাঁর সামনে। হর্শল পটেল এদিন একাই দেন ৫৪ রান। ভুবনেশ্বর কুমার দেন ৪৬ রান।

শেষ ওভারে আয়ারল্যান্ডের দরকার ছিল ১৭ রান। সেই সময় শেষ ওভারে আসেন উমরান মালিক। শেষবল পর্যন্ত লড়াই চলে। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে বহু কাঙ্খিত সেই জয়ের স্বাদ পেতে ব্যর্থই হয় আয়ারল্যান্ড। ২২১ রানেই থামতে হয় তাদের।

close whatsapp