আইপিএল মেগা নিলামে যে ৫ ক্রিকেটারের দিকে নজর থাকবে কেকেআরের

অধিনায়কের পাশপাশি বিদেশী পেসার ও চোটপ্রবণ রাসেলের বিকল্প নিতে দল আগ্রহী হবে

Kolkata Knight Riders
Kolkata Knight Riders. (Photo Source: IPL/BCCI)

কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল ট্রফিসংখ্যার নিরিখে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংসের পরে তৃতীয় স্থানে। যদিও তাদের শেষবারের আইপিএল শিরোপা ছিল ২০১৪তে। পরবর্তী আট মরসুমে তারা বেশ কয়েকবার প্লে-অফে উঠলেও ট্রফি জেতার সেরা সুযোগ পেয়েছিল গত বছর ২০২১-এর সংস্করণে। যদিও ফাইনালে সিএসকের বিরুদ্ধে হার স্বীকার করতে হয় তাদের।

২০১৮-র শেষ মেগা নিলামে দল তারকা নেওয়ার দিকে খুব একটা নজর দেয়নি। তার আগে অবধি নাইটের হয়ে খেলে আসা রবিন উথাপ্পা, পীযুশ চাওলাদের সঙ্গে অভিজ্ঞ দীনেশ কার্তিককে নিয়েছিল এবং তাঁর হাতেই নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেছিল। কার্তিকের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেয়ে দুই বছর পর ইয়ন মর্গ্যানকে অধিনায়ক করা হয়। এই বছর নিলামের আগে যে চার ক্রিকেটারকে কেকেআর ধরে রেখেছে – আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারিন, বরুণ চক্রবর্তী ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার – তাঁদের মধ্যে কারওর হাতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

সেক্ষেত্রে নিলামে কেকেআরের প্রধান লক্ষ্য থাকবে একজন ক্রিকেটারকে কেনা যে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করার পাশাপাশি নেতৃত্ব দিতেও সক্ষম হবেন। এ ছাড়া রাসেলের চোট পাওয়ার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে কেকেআর তাঁর বদলি রাখতে চায়বে দলে। একজন বিদেশী পেসারকে দলে রাখার দিকে তাদের নজর থাকবে অবশ্যই। এমন একজন তরুণ ক্রিকেটারকে কলকাতা নেওয়ার কথা ভাববে যে দলের ভবিষ্যতের তারকা হয়ে উঠতে পারবেন। একজন অভিজ্ঞ ভারতীয় পেসারকে নেওয়ার দিকেও কেকেআর ম্যানেজমেন্ট নজর দেবে।

দেখে নেওয়া যাক আসন্ন আইপিএল নিলামে কোন পাঁচ ক্রিকেটারকে পেতে কলকাতা নাইট রাইডার্স সবচেয়ে বেশী আগ্রহী হবে

১. শ্রেয়াস আইয়ার

শ্রেয়াস আইয়ারকে নতুন নিযুক্ত হওয়া দুটি দল নিতে আগ্রহী হলেও, দল দুটির কেউ তাঁকে নেতৃত্ব দিতে রাজি না থাকায় আইয়ার তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে সম্মত হননি। একদিকে শ্রেয়াস অধিনায়কত্বে আগ্রহী, অন্যদিকে কেকেআরের দরকার একজন অভিজ্ঞ অধিনায়ক। শ্রেয়াস আইয়ারের জন্য যদি কেকেআর বিপুল অর্থ নিয়ে ঝাঁপায় এবং তিনিই যদি হন নাইটদের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়, তবে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না।

আইপিএলে এখনও অবধি ৪১টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে শ্রেয়াস ২১টি জিতেছেন এবং সাফল্যের হার ৫৩.৬৫ শতাংশ। তাঁর অধিনায়কত্বে ২০১২-র পর ২০১৯-এ প্রথমবার দিল্লী ক্যাপিটালস প্লে-অফের যোগ্যতা অর্জন করেছিল। আইপিএলে এখনও অবধি ৮৭টি ম্যাচ খেলে ২৩৭৫ রান করেছেন শ্রেয়াস। স্ট্রাইক রেট ১২৩.৯৫ এবং গড় ৩১.৬৬।

২. প্যাট কামিন্স

২০২০ থেকে কেকেআরের হয়ে খেলছেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক। সেই বছর সাড়ে ১৫ কোটি টাকায় কলকাতা কিনেছিল তাঁকে। বল হাতে কামিন্স কেকেআরের হয়ে তেমন সাফল্য না পেলেও, লোয়ার অর্ডারে বাট হাতে তিনি সেই অভাব পুষিয়ে দিয়েছেন। যদিও কামিন্স এখনও অবধি নাইটদের ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে খেলার সুযোগ পাননি, যেখানে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন ভারতের অন্যান্য মাঠগুলির চেয়ে।

আইপিএলে আবার আগের মতো ইডেনে ম্যাচ ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকায় বল হাতে বিধ্বংসী কামিন্সকে পাওয়ার লোভ ছাড়বে না কেকেআর ম্যানেজমেন্ট। যেহেতু কেকেআর একজন অধিনায়ক খুঁজছে, এবং কামিন্স যেহেতু দেখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের অধিনায়কত্ব করার যোগ্যতা তাঁর আছে তাই কেকেআর কামিন্সের নেতৃত্ব গুণকেও ভাবনায় রাখবে।

৩. ভুবনেশ্বর কুমার

কলকাতা ভুবনেশ্বরের মতো একজন অভিজ্ঞ ভারতীয় পেসারকে দলে রাখতে চায়বে যিনি দেশীয় বোলারদের দিশা দেখানোর পাশাপাশি দলের একজন ধারাবাহিক পারফর্মার হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখেন। ভুবনেশ্বর এর আগে ইডেনের পিচে গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্পেল করেছিলেন এবং তাঁর সুইং করার সহজাত ক্ষমতা ইডেনের পিচে কাজে আসবে। বরুণ, নারিনদের সঙ্গে কামিন্স থাকলে ভুবনেশ্বরের উপর চাপও কম থাকবে, যে চাপ তাঁকে অনুভব করতে হত সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে কারণ সেখানে রশিদ খান ছাড়া আর তেমন উল্লেখযোগ্য বোলার ছিলেন না।

ভুবনেশ্বরের ব্যাটিং দক্ষতার কথাও ভেবে দেখবে নাইটরা। ইডেনে আইপিএলে মোট ৮টি ম্যাচ খেলে ভুবি ১২টি উইকেট নিয়েছেন ২০.১৭ গড়ে। ইডেনের মতো উচ্চ-স্কোরিং মাঠেও তাঁর ইকোনমি রেট মাত্র ৭.৯৮, যেখানে সাধারণত ওভারপ্রতি সাড়ে আটের কাছাকাছি রান ওঠে।

৪. যশ ধুল

কলকাতা নাইট রাইডার্স গত কয়েক বছরে অনেক তরুণকে লালন-পালন করেছে এবং ২০১৮তে ভারত যখন শেষবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তখন মেগা নিলামে তিনজনকে – শুবমান গিল, শিবম মাভি ও কমলেশ নাগরকোটি – দলে নিয়েছিল। অপরিচিত প্রতিভাকে নেওয়ার ব্যাপারে প্রায়ই উৎসাহ দেখায় নাইট ম্যানেজমেন্ট।

শুবমান গিল আহমেদাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যোগ দেওয়ায় কেকেআর তাঁর পরিবর্ত হিসেবে ধুলকে ভাবতে পারে। যদিও ধুলকে কেকেআর গিলের মতো ওপেনিংয়ে না খেলালেও মিডল অর্ডারে ধুলের জায়গা খালি। ধুলের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিভা থাকায় তাঁকে ভবিষ্যতের অধিনায়ক হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে নাইটরা।

৫. ওডিয়ান স্মিথ

স্মিথ এখনও অবধি আইপিএলে না খেললেও ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিনি একটি আলোচিত নাম দুটি কারণে – এক, বিশাল বড় বড় ছক্কা হাঁকানোর ক্ষমতা এবং দুই, ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতির উপর ধারাবাহিকভাবে বোলিং করতে পারার জন্য। এই দুটি গুণ নাইটদের দলের একজনের মধ্যেও আছে, তিনি হলেন আন্দ্রে রাসেল। স্মিথকে কেকেআর রাসেলের বিকল্প হিসেবে ভাবতে পারে।

চলতি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওডিআই সিরিজে স্মিথ ইতোমধ্যেই বিরাট কোহলির উইকেট নিয়ে এবং শার্দূল ঠাকুরের একটি ওভারে পরপর দুটি ছক্কা মেরে নজর কেড়েছেন। তাঁর তীব্র গতির সামনে বেশ কিছু ভারতীয় ব্যাটারকে অস্বস্তি অনুভব করতে হয়েছে। আগের বছরের আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে স্মিথ কেকেআরের নেট বোলারও ছিলেন। ফলে কেকেআর ম্যানেজমেন্টের ধারণা থাকবে স্মিথের প্রতিভাকে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে।

close whatsapp