মেগা নিলামে যে তিনটি দলের নজর থাকবে শ্রেয়াস আইয়ারের দিকে
দুই কোটি ন্যূনতম মূল্যের শ্রেয়াসকে পেতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ খরচ করতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি
আপডেট করা - Feb 3, 2022 6:31 pm

আইপিএলে ২০১৫তে তৎকালীন দিল্লী ডেয়ারডেভিলসের (পরবর্তীকালে দিল্লী ক্যাপিটালস) হয়ে অভিষেক হওয়ার পর থেকে টানা সাতটি মরসুম দিল্লীর ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়েই খেলেছেন শ্রেয়াস আইয়ার। দিল্লীর হয়ে ২০১৮-তে প্রথমবার অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়া আইয়ার সেই সময় ছিলেন আইপিএলের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক। মেগা নিলামের আগে দিল্লী ক্যাপিটালস তাঁকে রিটেইন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
নতুন যুক্ত হওয়া দল দুটি ড্রাফট থেকে শ্রেয়াসকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পেলেও কোন দলই তাঁকে রাখেনি। কারণ হিসেবে শোনা যায় তিনি নেতৃত্ব পেতে আগ্রহী এবং ওই দুটি দল তাঁকে অধিনায়কত্ব দিতে চায়নি। এমন বেশ কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়েছে যাদের দলে এখনও অধিনায়কত্বের জন্য যোগ্য ব্যক্তি নেই। নিলামের সময় তারা শ্রেয়াসের দিকে নিশ্চিতভাবে তাকাবে।
আইপিএলে এখনও অবধি ৮৭টি ম্যাচ খেলে ২৩৭৫ রান করেছেন শ্রেয়াস। স্ট্রাইক রেট ১২৩.৯৫ এবং গড় ৩১.৬৬। ১৬টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে এবং সর্বোচ্চ স্কোর ৯৬। ২০১২-র পর মাঝের ছটি বছরের ব্যর্থতা কাটিয়ে ২০১৯ সালে দিল্লীকে নিজের নেতৃত্বে প্লে-অফে তোলেন শ্রেয়াস। ২০২০তে আরও এক ধাপ উন্নত হয়ে ফাইনালে দলকে নিয়ে গেলেও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সামনে হারতে হয়। শ্রেয়াসের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি তাই তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার সহজাত গুণ অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই আকর্ষণ করবে।
দেখে নেওয়া যাক আসন্ন আইপিএল নিলামে শ্রেয়াস আইয়ারকে দলে পেতে কোন তিনটি দল সবচেয়ে বেশী আগ্রহী হবে:
১. পাঞ্জাব কিংস
আইপিএলের কোন দলকে যদি ধারাবাহিকভাবে অধারাবাহিক বলতে হয়, তবে সেটি হল পাঞ্জাব কিংস। বিগত কয়েক মরসুম ধরে তারা ধারাবাহিকভাবে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করছে। ২০১৮-র মেগা নিলামের পর রবিচন্দ্রন অশ্বিন নেতৃত্ব পেয়েছিলেন এবং তিনি ব্যর্থ হওয়ার পর দায়িত্ব হাতে পান কেএল রাহুল। রাহুল ব্যাট হাতে রান পেলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তীরে এসে তরী ডোবে পাঞ্জাবের।
পাঞ্জাব নিলামের আগে মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও আর্শদীপ সিংকে ধরে রেখেছে। মায়াঙ্ক অধিনায়কত্ব পাওয়ার অন্যতম দাবিদার। যদি তাঁকে অধিনায়কত্ব না দেওয়া হয় তবে নিলামে শ্রেয়াসের দিকে আগ্রহী হবে ফ্র্যাঞ্চাইজি। মায়াঙ্ককে যদি নেতৃত্ব দেওয়াও হয়, তারপরেও দলে শ্রেয়াসের অবদান কম হবে না। গত কয়েক বছর ওপেনিংয়ে রাহুল, মায়াঙ্ক রান পেলেও ভঙ্গুর মিডল অর্ডারের কারণে ভুগতে হচ্ছিল পাঞ্জাবকে। শ্রেয়াসকে দিয়ে মিডল অর্ডার দৃঢ় করতে পারবে পাঞ্জাব।
২. কলকাতা নাইট রাইডার্স
গত বছরের ফাইনালিস্ট কেকেআরের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক ছিলেন গৌতম গম্ভীর। ২০১৮-র নিলামের আগে দুটি আইপিএল ট্রফি জেতা গম্ভীর দল ছেড়ে যাওয়ার পর পরবর্তী চার বছরে দুজন অধিনায়ক নিযুক্ত করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি। কিন্তু দীনেশ কার্তিক বা ইয়ন মর্গ্যান, কেউই দলকে শিরোপার দিকে নিয়ে যেতে পারেননি। কার্তিকের নেতৃত্বে একবার প্লে-অফ থেকে বিদায় এবং গত বছর মর্গ্যানের নেতৃত্বে ফাইনালে হার।
এই বছর তাই শ্রেয়াস আইয়ারকে দলে নিয়ে অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত করার জন্য প্রবল আগ্রহ দেখাবে কেকেআর। আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারিন, ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও বরুণ চক্রবর্তীকে নিলামের আগে ধরে রেখেছে তারা, যাঁদের মধ্যে কারোরই অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, তাই শ্রেয়াসকে নিলাম থেকে তুলে নিতে পারলে তিনিই অধিনায়ক হওয়ার প্রধান দাবিদার হবেন। গত বছর মর্গ্যানের অফ ফর্ম থাকা সত্ত্বেও অধিনায়ক হওয়ার কারণে তাঁকে সব ম্যাচ খেলাতে হয়েছিল। যদিও সেই কারণে কেকেআরের মিডল অর্ডারকে ভুগতেও হয়েছিল। শ্রেয়াস দলে আসলে মিডল অর্ডারের সমস্যাও মিটবে বলে আশা করা যায়।
৩. রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর
বিরাট কোহলি দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর আরসিবির অধিনায়কের পদটি খালি। এক দশকেরও বেশী সময় কোহলির দায়িত্বে থাকা আরসিবির একটি নতুন যুগ শুরু হবে আসন্ন মরসুম থেকে, কারণ ক্রিকেটের সব ফর্ম্যাট থেকে অবসর গ্রহণ করায় দীর্ঘ ১১ বছর পর এবি ডি ভিলিয়ার্সকে ছাড়া আইপিএল খেলবে বেঙ্গালুরুর ফ্র্যাঞ্চাইজি। স্বাভাবিকভাবেই একটি বড় রদবদলের মধ্য দিয়ে যেতে হবে আরসিবিকে।
বিরাট কোহলি ছাড়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মহম্মদ সিরাজকে ধরে রেখেছে আরসিবি, এই দুজনের একজনেরও অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। শ্রেয়াসকে দলে নিলে মিডল অর্ডারে ম্যাক্সওয়েলের আগে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যাটারকে পাবে দল। তার সঙ্গে তাঁর অধিনায়কত্বের প্রতিভাকেও কাজে লাগাতে পারবে ফ্র্যাঞ্চাইজি। আইপিএলের অন্যতম জনপ্রিয় দলের আইপিএল ট্রফির খরা কাটানোর জন্য শ্রেয়াস উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেন।