ঋদ্ধিমানের অর্ধশতরান এবং রশিদ-তেওয়াটিয়া জুটির বিধ্বংসী পার্টনারশিপে রুদ্ধ্বশ্বাস জয় গুজরাতের

Rahul Tewatia and Rashid Khan
Rahul Tewatia and Rashid Khan. (Photo Source: IPL/BCCI)

ঋদ্ধিমান সাহার ৩৮ বলে ৬৫ রানের ইনিংসটাই জয়ের রাস্তাটা দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছিল। মাঝে উমরান মালিকের দুর্ধর্ষ স্পেলে গুজরাতের টাইটান্সরা ক্ষণিকের জন্য বেসামাল হয়ে গেলেও, শেষ মুহূর্তে রশিদ খান এবং রাহুল তেওয়াটিয়ার হাত ধরে সানরাইজার্স হায়রাবাদ বধ সম্পূর্ণ গুজরাত টাইটান্সের। সেইসঙ্গে হার্দিক পান্ডিয়াদের বিজয়রথও অব্যহত। একইসঙ্গে এদিন ওাংখেড়ে স্টেডিয়াম থেকেই বোধহয় সমালোচকদের উদ্দেশ্যেও একটা নীরব বার্তা দিয়ে দেলেন ঋদ্ধিমান সাহা। ৫ উইকেটে জিতল গুজরাত টাইটান্স।

ভারতীয় দলে তিনি আর সুযোগ পাবেন না। কিন্তু তাঁর মধ্যে খেলা যে এখনও বাকি রয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মতো দুর্ধর্ষ বোলিং লাইনআপের সামনে অসাধারমণ একটা আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে গেলেন তিনি। মাত্র ২৮ বলে করেলেন অর্ধশতরান। তাঁর গোটা ইনিংসে ১১টি বাউন্ডারি এবং ১টি ওভার বাউন্ডারি রয়েছে। যদিও শেষপর্যন্ত উমরান মালিকের বলেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে। কিন্তু ঋদ্ধিমান সাহার সেই দুর্ধর্ষ লড়াইটাকে ব্যর্থ হতে দেননি রশিদ খান এবং রাহুল তেওয়াটিয়া।

এবারের আইপিএলের মঞ্চে প্রথম অর্ধশতরান পেলেন ঋদ্ধিমান সাহা

উমরান খানের একাই পাঁচ উইকেট নেওয়ার আননন্দে যখন জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছেন কেন উইলিয়ামসন। সেই সময় ওয়াংখেড়েতে নতুন ঝড় তোলেন রশিদ খান ও রপাহুল তেওয়াটিয়া। আর তাতেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সূর্যাস্ত। মাত্র ২৫ রানে ৫ উইকেট নিলেও, উমরান খানের লড়াইয়েরপ মর্যাদা রাখতে পারলেন না হায়দরাবাদের বাকি বোলাররা।
https://twitter.com/gujarat_titans/status/1519377956686024704

টস জিতে এদিন প্রথম বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন গুজরাত টাইটান্স অধিনায়ক। আর সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল করেনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। যদিও শুরুটা সেভাবে করতে পারেনি তারা। উইলিয়ামসন, রাহুল ত্রিপাঠি দুনেই এদিন ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু অভিষেক শর্মা এবং এডেন মার্করামের পার্টনারশিপটাই হায়দরাবাদের বড় রানের রাস্তাটা প্রশস্ত করে দেয়।

এডেন মার্করাম ফেরেন ৫৬ রানে এবং অভিষেক শর্মা ফেরেন ৬৫ রানে। বাকিটুকু সামাল দিয়ে দেন শশাঙ্ক সিং। শেষ মুহূর্তে ছয় বলে ২৫ রান করে হায়রাবাদকে বড় রানে পৌঁছে দেন তিনি। গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ১৯৫ রান করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বড় রান করলেও গুজরাত শিবিরেও ছিল তাবড় তাবড় তারকারা। তাই তাদের বিরুদ্ধে বোলিংটা করতে হত দুর্ধর্ষ ভাবেই।

৪ ওভারে ২৫ দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা উমরান মালিক

শুরু থেকেই দুর্ধর্ষ বোলিং পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। কিন্তু এদিন ঋদ্ধিমান সাহা শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। শুভমন গিল খেলতে না পারলেও, ঋদ্ধিমান সাহার ব্যাে প্রথম থেকেই ছিল রানের ঝড়। কিম্তু প্রতিপক্ষ শিবিরের  উমরান মালিকও ছিলেন এদিন দুর্ধর্ষ মেজাজে। লড়াইটা প্রথম থেকেই ছিল হাড্ডহাড্ডি। ঋদ্ধিমান সাহা ৬৮ রানে ফেরার পর থেকই যেন ম্যাচের রাশ ক্রমশ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দিকে যেতে থাকে। আর উমরানের বলে একে একে হার্দিক, মিলাররা ফিরে যাওয়ার পর তো একসময় ম্যাচ প্রায় উইলিয়ামসনদের দখলেই ছিল।

কিন্তু এই ম্যাচের ক্লাইম্যাক্স যেন তখনও বাকি ছিল শেষের দিকে। রাহুল তেওাটিয়া ও রশিদ খান ক্রিজে আসার পর থেকেই শুরু হয় চার ও ছয়ের বন্যা। ভুবনেশ্বর কুমার এবং টি নটরাজনের োভার দুটোই যেন ছিল এদিন টার্নিং পয়েন্ট। যদিও শেষ ওভারে লড়াইটা যথেষ্ট কঠিন ছিল। এক ওভারে বাকি ছিল ২৩ রান। রশিদ খান যখন ব্যাটিংয়ে যান, তখন দরকার পাঁচ বলে ২২ রান। একাই তিনটি ছক্কা হাকিয়ে  ম্যাচ জিতিয়ে দেন রশিদ খান। গতবারের পর এদিনও রশিদ খানের সেই ক্যামিও পারফরম্যান্স বাঁচিয়ে দিল গুজরাত টাইটান্সকে।

close whatsapp