শুভমন গিলের ৯৬ রান ও শেষ মুহূর্তে তেওয়াটিয়ার জোড়া ছয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক গুজরাত টাইটান্সের

Shubman Gill and Hardik Pandya
Shubman Gill and Hardik Pandya. (Source: IPL/BCCI)

শুভমন গিলের ৯৬ রানের ইনিংস জয়ের রাস্তাটা তৈরিই করে দিয়ে গিয়েছিল। সেই রাস্তায় হেঁটে শেষ দুই বলে পরপর দুই ছক্কা মেরে আবারও নাটকীয় জয় এনে দিলেন রাহুল তেওয়াটিয়া। পঞ্জাব কিংসকে গুড়িয়ে আইপিলে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে গুজরাত টাইটান্স। জয়ের হ্যাটট্রিক তো বটেই, সেইসঙ্গে শুভমন গিল যে ভারতীয় টি টোয়ন্টি দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য প্রস্তুত, তারও একটা বার্তা যেন দিয়ে রাখলেন শুভমন গিল। পঞ্জাবের বিরাট রানের জবাবে দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলে গুজরাত টাইটান্সকে জয় এনে দিলেন তিনি একাই। শেষ দুই বলে দুই ছক্কা হাকিয়ে বাজিমাত রাহুল তেওয়াটিয়ার। ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতল গুজরাত টাইটান্স।

গত দুই মরসুম নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছিলেন শুভমন গিল। কিন্তু এবারের আইপিএলের আগে তাঁকে দলে না রাখারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স শিবির। আট কোটি টাকায় গুজরাত টাইটান্স মেগা নিলাম শুরু হওয়ার আগেই তাঁকে তুলে নিয়েছিল গুজরাত টাইটান্স। আর সেই সিদ্ধন্ত যে একেবারে ঠিক ছিল, তা এদিন বুঝতে পারছে গুজরাত টাইটান্স টিম ম্যানেজমেন্ট। দ্বিতীয় ম্যাচের পর পঞ্জাবের বিরুদ্ধে তৃতীয় ম্যাচেও গুজরাত শিবিরের নায়ক সেই শুভমন গিলই।

আইপিএলের মঞ্চে জয়ের হ্যাটট্রিক গুজরাত টাইটান্সের

টস জিতে এদিন পঞ্জাব কিংসকে প্রথম ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিয়েছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। লক্ষ্যটা ছিল পঞ্জাবকে কম রানের মধ্যে শেষ করে দেওয়া। শুরুর দিকে তাদের পরিকল্পনা কাজেও লেগেছিল। কিন্তু লিয়াম লিভিংস্টোনের দাপটে ফের ঘুরে দাঁডায় পঞ্জাব কিংস। তাঁর ২৭ বলে ৬৪ রানের ঝোরো ইনিংসে ভর করেই ফের বড় রানের দিকে এগোনো শুরু করে পঞ্জাব। তিনি ফিরে গেলে, ফের একবার চিন্তার ভাঁজ দেখা যায় পঞ্জাব কিংস টিম ম্যানেমেন্টের কপালে। আর সেই সময় ত্রাতা রাহুল চাহার।

শেষের দিকে নেমে তাঁর ১৪ বলে ২২ রান এবং শাহরুখ খানের ঝোরো রানের ইনিংসে ভর করে ১৮৯ রান করে পঞ্জাব কিংস। বল হাতে শুরুটা ভাল করলেও, শেষটা কিন্তু সেভাবে করতে পারেনি গুজরাত টাইটান্সের। পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিততে হলে তখন গুজরাতকে দু্র্ধর্ষ ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। আর ব্যাট হাতে নেমে সেটাই এদিন শুরু করেছিলেন শুভমন গিল।

শুরুতেই ম্যাথু ওয়েড ৬ রানে ফিরে যান। যদিও গুজরাতকে তাতে চাপে ফেলতে ব্যর্থ হয়েছিল পঞ্জাবের বোলাররা। এদিন শুরু থেকে একাই দায়িত্ব নিয়ে নেন শুভমন গিল। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। সেইসঙ্গে এতবড় রান তাড়া করে জেতার জন্য তাদের দরকার ছিল একটা বড় পার্টনারশিপ। সুদর্শনকে নিয়ে সেই কাজটাই করে গিয়েছেন শুভমন গিল। যদিও সুদর্শন ফেরেন  ৩৫ রানে। সেই সময় কার্যত ম্যাচ গুজরাত টাইটান্সের দিকেই।

৯৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরার পুরষ্কার এদিন পেলেন শুভমন গিল

কিন্তু টি টোয়েন্টি ক্রিকেট যে কতটা অনিশ্চয়তার খেলা তা ফের একবার বুঝে গেল সকলে। ৯৬ রানে ফেরেন শুভমন গিল। এরপরই সাজঘরে ফেরেন হার্দিক পান্ডিয়াও। রান আউট হন তিনি শেষ ওভারে।আর তাতেই যেন ম্যাচ জুড়ে নতুন রোমাঞ্চ। শেষ ওভারে এদিন জিততে হলে গুজরাতকে করতে হত ১৯ রান। সেখানে হার্দিকের মতো ব্যাটারের আউট হয়ে যাওয়াটা চাপ বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। প্রথম চার বলে গুজরাত করতে পারে মাত্র ৭ রান। জিততে হলে তখন প্রয়োজন দু বলে ১২ রান। মাঠে তখন সদ্য এসেছেন রাহুল তেওয়াটিয়া। চাপের মুহর্তে ভয় তো দূরস্ত, পরপর দু বলে ওডিন স্মিথকে ওভার বাউন্ডারি মেরে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন রাহুল তেওয়াটিয়া। শেষ মুহূর্তে বাজিমাত তাঁরই।

close whatsapp