নিজের পারফরম্যান্সে খুশি হলেও, বিশ্বকাপে সফল হওয়া প্রধান লক্ষ্য দীনেশ কার্তিকের

Dinesh Karthik
Dinesh Karthik. ( Photo Source: BCCI )

দীর্ঘ তিন বছর পর ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তন হয়েছে দীনেশ কার্তিকের। আইপিএলের মঞ্চে দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স দেখানোর পরই ভারতীয় দলে ফের নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। দেশের জার্সিতেও সেই পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্যটা বিশ্বকাপের দলে নিজেকে দেখা। আর সেই লক্ষ্যে যে দীনেশ কার্তিক এগিয়ে চলেছেন তা বলাই বাহুল্য। দক্ষিণ আফ্রিকার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেও ফের একবার ব্যাট হাতে ফিনিশারের ভূমিকায় দেখা গেল দীনেশ কার্তিককে।

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে দীন্শ কার্তিক নিজেও অত্যন্ত খুশি। তবে এখনই একেবারে উচ্ছ্বাসে গা ভাসাতে নারাজ। কারণ তাঁর প্রধান লক্ষ্য তো হল এই পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখানো। এবারের আইপিএল শুরু হওয়ার আগেই দীনেশ কার্তিক নিজের ভূমিকা পালন সম্বন্ধে সকলকে জানিয়েছিলেন। ধোনির পরবর্তী ভারতীয় দলের ফিনিশারের ভূমিকাই পালন করতে চান তিনি। সেই কাজে দীনেশ কার্তিক যে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন তা আুপিএলেই বোঝা গিয়েছিল।

১৯ বলে ৪১ রান করে ম্যাচের সেরার শিরোপা উঠেছে দীনেশ কার্তিকের মাথায়

অপেক্ষা ছিল তাঁর দেশের জার্সিতে সেই পারফরম্যান্স দেখানোর। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতকে সমতায় ফেরানোর প্রধান কারিগড় ছিলেন এই তারকা ক্রিকেটার। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেও ভারতের অন্যতম নায়ক দীনেশ কার্তিক। শেষ মুহূর্তে ব্যাটিং করতে নেমে ক্যারিবিয়ান বোলারদের একেবারে দিশাহারা করে দিয়েছিলেন দীনেশ কার্তিক। মাত্র ১৯ বলে ৪১ রানের ঝোরো ইনিংস খেলে ভারতীয় দলের রান ১৯০-এ পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। ম্যাচের সেরাও হয়েছেন দীনেশ কার্তিক। তাতে অবশ্যই খুশি হয়েছেন এই তারকা ক্রিকেটার। তবে লক্ষ্যটা বিশ্বকাপের মঞ্চে এই পারফরম্যান্স ধরে রাখা।

দীনেশ কার্তিক জানিয়েছেন, “আমার মতে এই দল একেবারেই আলাদা। আর এই ব্যবস্থার মধ্যে আমার বলতে কোনও দ্বিধা নেই যে আমি নিজেকে সত্যিই যথেষ্ট উপভোগ করছি। চারিদিকে একটা ঠান্ডা পরিবেশ, তারজন্য অবশ্যই দলের কোচ এবং অধিনায়ককে অনেক ধন্যবাদ।  তবে এখনও বেশকিছু জায়গা রয়েছে যেথানে আমাদের কাজ করতে হবে। কিন্তু লক্ষ্য একটাই, তা হল বিশ্বকাপের মঞ্চে ভাল পারফরম্যান্স প্রদর্শন করা”।

২০১৯ সালে শেষবার ভারতীয় দলের জার্সিতে দেখা গিয়েছিল দীনেশ কার্তিককে। এরপরই দল থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। অনেকেই তাঁর গায়ে প্রাক্তনের তকমাও দিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকী দীনেশ কার্তিককে একসময় ধারাভাষ্য দিতেও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তামিলনাড়ুর এই উইকেটকিপার ব্যাটার কখনোই আশা ছাড়েননি। নিজেকে ক্রমাগত তৈরি করে গিয়েছেন।  আর তারই ফল পেয়েছেন ২০২২ সালে।

আইপিএলের মঞ্চে বহু কঠিন পরিস্থিতি থেকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এরপরই ভারতীয় দলে ডাক পেয়েছেন দীনেশ কার্তিক। সেখানেও নিজেকে প্রমাণ করছেন। আসন্ন বিশ্বকাপে ভারতের অন্যতম অস্ত্র তিনি হয়ে উঠতে পারেন কিনা সেটাই এখন দেখার।

close whatsapp