উইলিয়ামসনের কচ্ছপগতির ব্যাটিং, প্রথম হারের সম্মুখীন হল নিউ জিল্যান্ড, সেমি-ফাইনালের রাস্তা এখনও খোলা ইংল্যান্ডের

ম্যাচ জিতে ইংল্যান্ড পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে

England Team
England Team. (Photo by Bradley Kanaris/Getty Images)

আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২-এর ৩৩তম ম্যাচে ফর্মে থাকা নিউ জিল্যান্ড প্রথম হারের সম্মুখীন হল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। টুর্নামেন্টে টিঁকে থাকার জন্য ইংল্যান্ডের এই জয় অত্যন্ত জরুরী ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের আগের ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় ইংল্যান্ডের পরিস্থিতি জটিল হয়ে গিয়েছিল। জস বাটলারের নেতৃত্বাধীন দলটি কিউইদের পরাস্ত করে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পয়েন্ট অর্জন করায় সেমি-ফাইনালে পৌঁছনোর আশা বাঁচিয়ে রাখল।

আগের ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর, ইংল্যান্ডের ওপেনার জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলস নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রাথমিক ওভারগুলিতে শান্তভাবে খেলে দিয়ে পাওয়ারপ্লের শেষের দিক থেকে ব্যাটিং উপভোগ করা শুরু করেন। তাঁর ১০০তম টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাটলার স্মরণীয় করে রাখেন একটি হাফ সেঞ্চুরি করে। অন্যদিকে, হেলস মিচেল স্যান্টনারের বলে আউট হওয়ার আগে ৪০ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলেন। ওপেনিং জুটিতে ১০.২ ওভারে ৮১ রান ওঠে।

তিনে নামা ,মইন আলি গতি বাড়াতে গিয়ে ইশ সোধির বলে লং অনে আউট হন। এরপরের ওভারগুলি থেকে দশের বেশী রান রেটে রান করতে থাকে ইংল্যান্ড। বাটলারকে যোগ্য সং দেন লিয়াম লিভিংস্টোন (১৪ বলে ২০), হ্যারি ব্রুক (৩ বলে ৭)। এই দুজনের ইনিংস স্বল্প সময়ের জন্য হলেও রান রেট বাড়ানোতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছিল। বাটলার ৪৭ বলে ৭৩ রান করে যখন আউট হচ্ছেন তখন দলের স্কোর ১৬০ পেরিয়ে গেছে। শেষ ওভারে স্যাম কারানের সৌজন্যে ১৮০ রানের লক্ষ্য খাড়া করে ইংল্যান্ড।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও উইলিয়ামসনের অভাবনীয় মন্থর ব্যাটিং

আগের ম্যাচগুলির মতো নিউ জিল্যান্ডের বোলাররা তেমন প্রভাবশালী না হওয়ায় ব্যাটারদের উপর গুরুদায়িত্ব ছিল। ব্যাটিংয়ে নজর কাড়ার পরে অধিনায়ক বাটলার শুরুতেই স্পিনার এনে চমকে দেন বিপক্ষকে। মইন আলির প্রথম ওভারে মাত্র ৪ রান ওঠার পরে দ্বিতীয় ওভারে ক্রিস ওকসের বল ফ্লিক করতে ডেভিন কনওয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন। তৃতীয় ওভারে আরও এক স্পিনার, আদিল রশিদ, রানের গতি রুদ্ধ করেন। পঞ্চম ওভারে স্যাম কারানের বাউন্সার সামলাতে না পেরে ফিন অ্যালেন আউট হন এবং একটি ভয়াবহ পাওয়ারপ্লে সহ্য করতে হয় কিউয়িদের।

ফর্মে থাকা গ্লেন ফিলিপ্স নিয়মিত বাউন্ডারি মেরে রান রেট বাড়ানোর চেষ্টা করলেও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ছন্দ হাতড়ে বেড়াচ্ছিলেন। মইন আলি ফিলিপ্সের একটি সহজ ক্যাচ ফেলার পরে ফিলিপ্স আরও আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন এবং ১২-র বেশী হয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় রান রেটকে ১০-এর কাছাকাছি নিয়ে আসেন। তবে তিনি অধিনায়কের সমর্থন পাচ্ছিলেন না। বেন স্টোকসের একটি স্লোয়ার বলে শর্ট থার্ড ম্যাবের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার পরে উইলিয়ামসনের কষ্টার্জিত ৪০ বলে ৪০ রানের ইনিংস সমাপ্ত হয়।

তিন উইকেট পড়ার পরে ক্রিজে আসা জেমস নিশ্যামকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচ জেতানোর আশা করেছিলেন ফিলিপ্স। শেষ ৫ ওভারে তাদের করতে হত ৫৭। তবে ইংল্যান্ডের বোলারদের অনবদ্য ডেথ বোলিং প্রদর্শন ধারাবাহিকভাবে নিউ জিল্যান্ডের মিডল-অর্ডার ব্যাটারদের ডাগ আউটে দেরাতে থাকে। ১৬, ১৭, ১৮ – টানা তিন ওভারে নিশ্যাম, ড্যারিল মিচেল ও ফিলিপ্স আউট হওয়ার পরে নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে ১৮০ তাড়া করা সম্ভব হয়নি। শেষ অবধি ১৫৯ রানে থামে কিউয়িদের ইনিংস।

ইংল্যান্ড জেতার পরে টুইটারে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল

close whatsapp