সূর্যকুমারের ২২ বলে ৬১ রানের প্রখরতায় ম্লান মিলারের শতরান, দুই ইনিংস মিলিয়ে উঠল মোট ৪৫৮ রান

এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় ভারতের

Suryakumar Yadav
Suryakumar Yadav. (Photo Source: BCCI)

২রা অক্টোবর, গুয়াহাটিতে, সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০তে ২৩৮ রানের লক্ষ্য রেখেও ভারতীয় বোলারদের বদান্যতায় ম্যাচের শেষ অবধিও উত্তেজনা টিঁকে রইল। ডেভিড মিলার আবারও বোঝালেন কেন তাঁকে কিলার মিলার বলে ডাকা হয়। মাত্র ৪৭ বলে ১০৬ রানের ইনিংসে মিলার ৮টি চার ও ৭টি ছয় মেরেছেন। তাঁকে সঙ্গ দিলেন কুইন্টন ডি কক, যদিও টাইমিংয়ের অভাব তাঁকে ভোগাল। তাই তাঁর ৪৮ বলে ৬৯ রানের ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের জন্য যথেষ্ট হল না। এই প্রথম ভারত ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কোন টি-২০ সিরিজে হারাতে সক্ষম হল।

ভারতীয় বোলাররা বেশ দাপটের সঙ্গে শুরু করেছিলেন। দীপক চাহারের প্রথম ওভার মেডেন হওয়ার পরে বোলিং করতে আসা অর্শদীপ সিং তাঁর প্রথম ওভারের জোড়া উইকেট তোলেন। কিন্তু এরপর সেই অর্শদীপই তিনটি নো-বল করার মতো অপরাধ করেন এবং দিনের শেষে তিনি চার ওভারে ৬২ রান দিয়ে ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলার।

হর্ষল প্যাটেল আবারও স্লোয়ার ছাড়া অন্য কোন অস্ত্র পেলেন না বিপক্ষকে আটকানোর জন্য। অশ্বিনও দায়ী থাকবেন রক্ষণাত্মক বোলিংয়ের জন্য। হাতে এত বড় রানের লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় বোলাররা যথেষ্ট আগ্রাসী ছিলেন না। তবে মিলারের ইনিংসকেও কৃতিত্ব দিতেই হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২২১ অবধি পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

ভারতীয় ব্যাটিংয়ের সেরা নায়ক সূর্যকুমার যাদব

টস হেরে প্রথমে ব্যটিং করতে নেমে রোহিত শর্মা এবং কেএল রাহুল একটি হাফ সেঞ্চুরি পার্টনারশিপের মাধ্যমে ভারতীয় ইনিংসের একটি স্বপ্নের সূচনা করেন। টি-টোয়েন্টিতে এই জুটির এটি ১৩তম হাফ সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ। প্রথম দশ ওভারে ৯৬ রান তোলে ভারত। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মন্থর হাফ সেঞ্চুরি করা রাহুল গুয়াহাটিতে একটি বিস্ফোরক ইনিংস দিয়ে সমালোচকদের চুপ করিয়ে দেন।

রাহুল আউট হতেই সূর্যকুমার যাদব মঞ্চ দখল করেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতীয়দের দ্বারা দ্রুততম টি-টোয়েন্টি হাফ সেঞ্চুরি নথিভুক্ত করেন মাত্র ১৮ বলে অর্ধ শতক পূর্ণ করে। মিডল-অর্ডার ব্যাটার ভারতের হয়ে তাঁর ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছিলেন এবং ভারতের হয়ে যৌথ-দ্বিতীয় দ্রুততম টি-টোয়েন্টি অর্ধশতক করেন। সূর্যকুমারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে ক্রিজের অন্য প্রান্তে থাকা বিরাট কোহলিকে তখন নিষ্প্রভ দেখাচ্ছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন যখন সূর্যকুমার উনিশতম ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইকে আসতে গিয়ে রান আউট হন। তিনি মাত্র ২২ বলে ৬১ রানের একটি চোখধাঁধানো ইনিংস খেলেন। কোহলি ও সূর্যকুমারের মধ্যে ১০২ রানের পার্টনারশিপ হয় মাত্র ৪০ বলে যা টি-টোয়েন্টিতে ভারতের পক্ষে সবচেয়ে দ্রুততম ১০০+ রানের পার্টনারশিপ। কোহলি তাঁর অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংসে ট্রেডমার্ক কব্জি-নির্ভর শট খেলেন। ‘ফিনিশার’ দীনেশ কার্তিক মাত্র সাত বল খেলে ১৭ রানের অসামান্য ইনিংস খেলেন। চার-ছক্কার আতশবাজীতে ভরা ম্যাচে স্পিনার কেশব মহারাজ চার ওভারে ২৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন।

ভারতের জয়ের পরে টুইটারের প্রতিক্রিয়া

close whatsapp