গুজরাতের ঘরের মাঠে নাইটদের বাজিগর রিঙ্কু সিং

Rinku Singh
Rinku Singh. ( Photo Source: IPL/ BCCI )

আভাসটা আগেরবারই দিয়েছিলেন তিনি। সুযোগ পেলে রিঙ্কু সিং যে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন তা এদিন গোটা বিশ্ব দেখে নিল। আইপিএলের আকাশে নতুন নক্ষত্রের নাম এখন রিঙ্কু সিং। কেকেআরের জয়ের আশা যখন কেউই  আর দেখতে পাচ্ছিলেন না। সেই সময় ক্রিজে দাঁড়িয়ে ভরসা যুগিয়েছিলেন তিনি। যশ দয়ালকে পরপর পাঁচ বলে পাঁচটা ছয়। হারা ম্যাচকে জিতিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বাজিগর এখন রিঙ্কু সিং। গুজরাত টাইটান্সকে তাদের ঘরের মাঠে ৩ উইকেটে হারিয়ে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে নাইট বাহিনী।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে রানের পাহাড় তৈরি করেছিল এদিন গুজরাত টাইটান্স। জবাবে লড়াইটা কলকাতা নাইট রাইডার্সও সমানে সমানে করছিল। কিন্তু এদিনের ম্যাচের পদে পদে ছিল নাটকীয়তার মোরক। আইপিএলের মঞ্চে রশিদ খানের হাত ধরে প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাক্ষী যেমন সকলে রইল। ঠিক তেমনই কিছুক্ষণের মধ্যে পাঠানের দলের নতুন বাজিকরকেও চিনে নিল গোটা বিশ্ব। আইপিএলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক অসম্ভভকে সম্ভব করে দেখালেন রিঙ্কু সিং।  ম্যাচের শেষ ওভারে যশ দয়ালের বিরুদ্ধে পাঁচ বলে পাঁচটা ছয়।

৪০ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেলেছেন এদিন ভেঙ্কটেশ আইয়ার

পিছিয়ে থেকেও গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এদিন অপেক্ষায় ছিলেন একটা প্রকৃত সুযোগের। শেষ ওভারে রিঙ্কু সিং বনাম যশ দয়াল। সেখানেই যেন ঝড় তুলেছিলেন রিঙ্কু সিং। ম্যাচ হারের আফসোস নিয়ে নয়, এদিন  ম্যাচ জয়ের নায়ক হয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি। তাঁকে নিয়েই এখন নেট পাড়ায় শোরগোল। হবে নাই বা কেন। তাঁর ২১ বলে ৪৮ রানের ইনিংস জুড়ে রয়েছে শুধুই ওবার বাউন্ডারির ঝলক। একাই হাঁকিয়েছেন এদিন ৬টি ওভার বাউন্ডারি।


https://twitter.com/sagarcasm/status/1645061268301307904

টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গুজরাত টাইটান্স অধিনায়ক রশিদ খান। শুরু থেকেই বড় রানের লক্ষ্যে ছিল তারা। যদিও ম্যাচের ১৬ ওভার পর্যন্ত রানের গতি অনেকটাই ধীর ছিল গুজরাত টাইটান্সের। কিন্তু শেষ চারটি ওভারেই গুজরাতের রানের গাড়িতে গতি এনে দিয়েছিলেন বিজয় শঙ্কর। তাঁর দাপুটে ২৪ বলে ৬৩ রানের ইনিংসের সৌজন্যে ২০৪ রানে পৌঁছেছিল গুজরাত টাইটান্স। লড়াইটা তঠিনব হলেও নাইট রাইডর্সও কিন্তু এদিন হাল না ছাড়ার মনোভাব নিয়েই নেমেছিল।

শেষ পাঁচ বলে পাঁচটি ছয় হাঁকিয়ে নাইট শিবিরের নায়ক রিঙ্কু সিং

যদিও কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুই ওপেনার ২৮ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফিরে গিয়েছিলেন। সেই জায়গা থেকেই নাইট রাইডার্সের রান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজটা শুরু করেছিলেন নীতিশ রানা ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার। তাদের প্রায় ১০০ রানের পার্টনারশিপে ভর করে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জয়ের আশাও বেশ উজ্জ্বল হতে শুরু করেছিল। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন এদিন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। সঙ্গে যোগ্য  সঙ্গত দিয়েছিলেন নীতিশ রানা। কিন্তু অধিনায়ককে ফিরতে হয় ৪৫ রানেই।

কিন্তু ভেঙ্কটেশ নিজের খেলা চালিয়ে গিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত ৮টি চার ও পাঁচটি ছয় দিয়ে সাজানো ৮৩ রানের ইনিংস খেলেই থামতে হয় ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে। এরপরই সেই ১৬ নম্বর ওভার। পরপর রাসেল, নারিন এবং শার্দুল ঠাকুরদের সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দিয়ে ম্যাচের রাশ গুজরাতের দিকে এনে দিয়েছিলেন রশিদ খান। কিন্তু ম্যাচের আসল ক্লাইম্যাক্স যে এরপর ছিল তা কেউই ভাবতে পারেনি। মাঠে শুরু হয়েছিল রিঙ্কু সিংয়ের তান্ডব। আর তাতেই গুজরাতের সব আশা শেষ। জিততে হলে এক ওভারে বাকি ছিল বিরাট রান। সেটাই সম্ভব করে দেখালেন রিঙ্কু সিং। শেষ ওভারে পাঁচটি ছয় হাঁকিয়ে বাজিমাত করলেন রিঙ্কু সিং।

close whatsapp