জেসন রয়, নীতিশ রানা এবং বরুণ চক্রবর্তীর দাপটে চিন্নাস্বামীতেই জয়ে ফিরল নাইট রাইডার্স

Jason Roy & Narayan Jagadeesan
Jason Roy & Narayan Jagadeesan. (Photo Source: IPL/BCCI)

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে টি টোয়েন্টির মঞ্চে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেও জয়ের হাসি ফুটল না বিরাট কোহলির মুখে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের সামনেই ফের আটকে গেল বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সেইসঙ্গেই টানা চার ম্যাচ হারের পর বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে জয়ের রাস্তায় ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ওপেনিং পার্টনারশিপ ও মিডল অর্ডারে নীতিশ রানা ও ভেঙ্কটেশ আইয়ারের পার্টনারশিপটািই এদিন ম্যাচের ভবিষ্যতটা  নিশ্চিত করে দিয়েছিল। বল হাতে জয়টা পাকা করে দিয়েছিলেন বরুণ চক্রবর্তী এহং সূয়শ শর্মারা। ২১ রানে জয় ছিনিয়ে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

টানা ম্যাচ হেরে একেবারে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। ম্যাচ শুরু আগে এই ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়নোর বার্তা দিয়েছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচ চন্দ্রকান্ত পন্ডিত। অবশেষে সেটাই করে দেখাতে পারল নাইট বাহিনী। ব্যাটারদের দুরন্ত পারফরম্যান্সেই জয়ের খরা কাটাল কলকা্তা নাইট রাইডার্স। জেসন রয় , নীতিশ রানা এবং ভেঙ্কটেশ আইয়ারদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েই খানিকটাহলেও স্বস্তি ফিরল ক কলকাতা নাইট রাইডার্স শিবিরে। এদিন টি টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে একটি ভেন্যুতে ৩০০০ রান করার রেকর্ড গড়ে বিরাট কোহলি পাল্টা লড়াই করলেও, শেষরক্ষা হয়নি। বরুণ চক্রবর্তী এবং সূয়শের স্পিনের সামনে শেষ হয়ে যায় বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং। বরুণ চক্রবর্তী একাই নেন ৩ উইকেট।

২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী

টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। প্লেঅফের রাস্তা প্রশস্ত রাখতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হত কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। শুরু থেকেই সেই পরিকল্পনা নিয়ে জেসন রয়ের ব্যাটে ছিল রানের ঝড়। গত ম্যাচের পর এদিনও আক্রমণাক্মক মেজাজেই ছিলেন তিনি। নারায়ন জগদীশনের সঙ্গে তাঁর ৮৩ রাবের ওপেনিং পার্টনারশিপটাই কলকাতা নাইট রাইডার্সের বড় রানের রাস্তাটা তৈরি করে দিয়েছিল।  ২৯ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেই ফিরতে হয়েছিল  এদিন জেসন রয়কে।

সেই জায়গা থেকেই এবার হালটা ধরেছিলেন নীতিশ রানা ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার। তাদের ৮০ রানের পার্টনারশিপ। শেষটুকু রিঙ্কু সিংয়ের হাত ধরে ২০০ রানে পৌঁছে গিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম বরাবরই ব্যাটারদের কাছে স্বর্গরাজ্য। ফাফ ডুপ্লেসি এবং বিরাট কোহলি শুরুটাও করেছিলেন সেভাবে। কিন্তু নাইট স্পিনারদের দাপটে এদিন আর ডুপ্লেসির ব্যাট বেশীক্ষণ চলেনি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও ফিরে গিয়েছিলেন ৫ রানে। সূয়শ শর্মা, বরুণ চক্রবর্তীদের দাপটেই বেঙ্গালুরুর তারকা ব্যাটাররা শুরুতেই থেমে গিয়েছিলেন। তবে বিরাট কোহলি ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে।

চলতি আইপিএলে পঞ্চম অর্ধশতরানের সঙ্গে একটি টি টোয়েন্টি ভেন্যুতে ৩০০০ রান করার রেকর্ডও গড়েন তিনি। তাঁকে ঘিরেই সেই সময় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর  জয়ের আশাও বােড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু ৩৭ বলে ৫৪ রানে বিরাট কোহলি মাঠ ছাড়ার সঙ্গেই যে ম্যাচও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিন সূয়শ শর্মা ফেরান ফাফ ডুপ্লেসি এবং শাহবাজ আহমেদকে। বরুণ চক্রবর্তীর শিকার ম্যাক্সওয়েল, মহিপাল লোমরোর এবং দীনেশ কার্তিক।

close whatsapp