শিমরন হেটমায়ারের বিধ্বংসী ইনিংস ও যুজবেন্দ্র চাহালের দাপটে লখনউকে হারিয়ে শীর্ষে রাজস্থান রয়্যালস

Rajasthan Royals vs Lucknow Super Giants
Rajasthan Royals vs Lucknow Super Giants. (Photo Source: IPL/BCCI)

শিমরন হেটমায়ারের বিধ্বংসী ইনিংস এবং চাহালের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভর করেই ফের  জয়ের রাস্তায় রজস্থান রয়্যালস। লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ৩ রানে হারাল রাজস্থান রয়্যালস। গতম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে হেরে গিয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। যদিও জয়ে ফিরতে খুব একটা সময় নিল না রাজস্থানের রয়্যালসরা। কম রান নিয়েও লখনউয়ের বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ বোলিং পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ৪ রানে ম্যাচ জিতে নিল রাজস্থান রয়্যালস বাহিনী। আর এই জয়ের নেপথ্য কারিগড় যে চাহাল এবং হেটমায়ার, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এবারের আইপিএলে ক্যারিবিয়ান তারকা শিমর হেটমায়ারকে দলে নিয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। কিন্তু প্রথম তিন ম্যাচে সেইভাবে খেলতে পারেননি তিনি। কিন্তু প্রয়োজনের সময়ই জ্বলে উঠলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই বিধ্বংসী তারকা। এদিন একটা সময় এমন হয়েছিল যে রাজস্থান রয়্যালস ১০০ রান পার করতে পারবে কিনা। শিমরণ হেটমায়ারের ৩৬ বলে ৫৯ রানের ঝোরো ইনিংস  শুধু ১০০ রানের ডন্ডীই টপকাতে সাহায্য করেনি, রাজস্থানের স্কোর ১৬০ রানেও পৌঁছে দেন তিনি। গোটা ইনিংসে ছটি ওভার বাউন্ডারি রয়েছে তাঁর।

লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌঁছল রাজস্থান রয়্যালস

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এদিন টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লখনউ সুপার জায়ান্টস অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। লক্ষ্যটা ছিল রাজস্থানকে কম রানের মধ্যে বেঁধে ফেলা। শুরু থেকেই তাই রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটারদের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস বোলাররা। আর তাতেই সাফল্যও আসছিল তাদের। অন্তত ম্যাচের ১০ ওভার পর্যন্ত লখনউ সুপার জায়ান্টস বোলারদেরই এদিন দাপট দেখা গিয়েছে।

শুরু থেকেই লক্ষ্যটা ছিল পাওয়ার প্লের মধ্যে জস বাটলারকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেওয়া। যে কাজটা আভেশ খান একেবারে নিখুঁতভাবে করতে পেরেছিলেন। এরপরই সঞ্জু স্যামসন, ফান ডার ডুসেনদের পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আেই সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন জেসন হোল্ডার এবং কৃষ্ণাপ্পা গৌতম। আর ততেই চাপে পড়ে গিয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস টিম। এদিন ৫৭ রানের মধ্যে রাজস্থান রয়্যালসের ৪ উইকেট তুলে নেয় লখনউ সুপার জায়ান্টসের বোলাররা। সেই সময় ক্রিজে একমাত্র শিমরণ হেটমায়ার। রাজস্থানের রান ১০০ পেরোবে কিনা তা নিয়েই তখন সকলে সংশয় প্রকাশ করছেন।

এমন পরিস্থিতি থেকেই দলের হাল ধরেন শিমরণ হেটমায়ার। প্রথমে একটা বিল্ডআপ ইনিংস।। এরপরই শেষের দিকে শুরু হয় তাঁর হেটমায়া ঝড়। একের পর এক ছয়ে রীতিমত বিধ্বস্ত করে দিয়েছিলেন লখনউ বোলারদের। তাঁর ৫৯ রানের সৌজন্যে ১৬৫ রানে পৌঁছয় রাজস্থান রয়্যালস। লড়াই করার মতো রানে পৌঁছে দেন এই ক্যারিবিয়ান তারকা।

তারকাখচিত লোকেশ রাহুলদের সামনে তখন বড় সুযোগ। কারণ এদিন লখনউ শিবিরে ছিলেন আটজন ব্যাটার। তাই বল হাতে রাজস্থানকে শুরু থেকেই ভয়ঙ্কর লড়াই করতে হত। ট্রেন্ট বোল্টের হাত ধরে সেই শুরুটা একেবারে নিখুঁতভাবে হয়েছিল তাদের। হয়ত এটাকেই পারফেক্ট স্টার্ট বলা হয়। প্রথম বলেই বোল্টের অসাধারণ রিভার্স সুইংয়ে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন লোকেশ রাহুল। এরপরই সিকে গৌতমও এলবিডব্লু হয়ে সেই বোলি্টেরই শিকার। ১ রানের মধ্যেই ২ উইকেট তুলে নেন ট্রেন্ট বোল্ট। আর সেই মোমেন্টামটাই একেবারে নষ্ট হতে দেননি রাজস্থান বোলাররা।

৪ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি এদিন আইপিএলে ১৫০ উইকেট নেওয়ার নজির যুজবেন্দ্র চাহালের

এদিন লখনউ শিবিরে ছিলেন একের পর এক তারকা ব্যাটার। কিন্তু কেউই মাঠে সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। বোল্টের দেখানো রাস্তায় এরপরই শুরু যুজবেন্দ্র চাহালের তান্ডব। হুডা, হোল্ডাররা সাজঘরে ফিরে গেলেও, ডিকক যতক্ষণ মাঠে ছিলেন নিশ্চিন্ত হতে পারছিলেন না  রাজস্থান রয়্যালস ক্রিকেটাররা। এই সময়ই ত্রাতা যুজবেন্দ্র চাহাল। ৩৯ রানে ডিকককে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন তিনি। তাঁর স্পিনের সামনে এদিন লখনউ ব্যাটারদের দাঁড়িয়ে থাকাটাই ছিল অসম্ভব। এরপর একে একে আয়ূষ বাদোনি, ক্রুণাল পান্ডিয়াদের ফিরিয়ে রাজস্থানের জয়টা তিনিই কার্যত পাকা করে দিয়ে যান। দুশ্মন্ত চামিরাও এদিন চাহালেরই শিকার। একাই চার উইকেট নিয়ে লখনউয়ের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপকে শেষ করে দেন তিনি। একইসঙ্গে এদিন ১৫০ উইকেটের মালিকও হয়ে যান যুজবেন্দ্র চাহাল।

যদিও শেষ মুহূর্তে মার্কাস স্টয়নিস একটা চেষ্টা করেছিলেন ঠিকই। কিন্তু পারেননই। ম্যাচের শেষ ওভারে বাকি ছিল ১৫ রান। ক্রিজে ছিলেন মার্কাস স্টয়নিস। সেই সময়ই বল করতে আসেন কুলদীপ সেন। তাঁর বুদ্ধ্বিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে এদিন স্টয়নিসও ব্যর্থ। ৩ রানেই ম্যাচ হেরে যায় লখনউ সুপার জায়ান্টস।

close whatsapp