১০০ শতাংস ম্যাচ ফি কেটে শাস্তি ঋষভ পন্থকে, এক ম্যাচ নির্বাসিত প্রবীন আমরে

Rishabh Pant
Rishabh Pant. (Photo Source: IPL/BCCI)

আইপিএল যত এগোচ্ছে ততই যেন নতুন বিতর্ক বিতর্কও বাড়তে চলেছে। আর এবারের আইপিএলের প্রথম দিন থেকেই কাঠগড়ায় উঠেছে আম্পায়ারিং। রাজস্থান রয়্যালস বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচে সেই আম্পায়ারিং নিয়েই তোলপাড়। আর তাতেই বড়সড় শাস্তির মুখে পড়লেন ঋষভ পন্থ সহ প্রবীন আমরে এবং শার্দূল ঠাকুর। রাজস্থানের বিরুদ্ধে শেষ ওভারের ঘটনায় তোলপাড় গোটা ভারতীয় ক্রিকেট মহল। ঋষভের ব্যবহারেও ক্ষুব্ধ অনেকে। আর সেজন্যই ১০০ শতাংশ ম্যাচ ফি খোয়া গেল ঋষভ পন্থের।

শুক্রবার রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে নেমেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। আর সেই ম্যাচেই রাজস্থানকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিয়েছিলেন ঋষভ পন্থ। এদিনের ম্যাচে এটাই হয়ত তাঁর সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। প্রথম থেকেই জস বাটলার ছিলেন ভয়ঙ্কর মেজাজে। তাঁর রানের ঝড়ের দাপটে দিল্লি বোলাররা খরকুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল। জস বাটলারের ব্যাট থেকে এদিন শুধুই দেখা গিয়েছিল চার, ছয়ের বন্যা। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে এদিন রানের পাহাড় তৈরি করেছিল রাজস্থান রয়্যালস।

ম্যাচের পাল্লা প্রথম থেকেই রাজস্থান রয়্যালসের দিকেই ভারী ছিল। কিন্তু দিল্লি ক্যাপিটালসও সহজে ম্যাচ ছেড়ে দিতে নারাজ ছিলেন। যদিও লড়াইটা ক্রমশ অসম হয়ে উঠছিল। কিন্ত এদিনের ম্যাচের আসল নাটকটা অপেক্ষা করছিল বোধহয় শেষ ওভারের জন্য। দিল্লির তাবড় তাবড় ব্যাটাররা পিরে গেলেও সেই সময় ক্রিজে দাঁড়িয়েছিলেন রভম্যান পাওয়েল। কার্যত তাঁর সামনে ছিল একটা অসম্ভব কঠিন চ্যালেঞ্জ।

১০০ শতাংস ম্যাচ ফি কাটা গেল দিল্লি অধিনায়ক ঋষভ পন্থের

জিততে হলে শেষ ওভারে দিল্লি ক্যাপিটালসকে করতে হবে ৩৬ রান। কার্যত যা ক্রিকেটে অসম্ভবই। কিন্তু অসম্ভবকেই সম্ভব করার একটা প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন রভম্যান পাওয়েল। ম্যাককয়কে পরপর তিন বলে তিনটি ছয় হাকান তিনি। আর ম্যাককয়ের সেই তৃতীয় বল নিয়েই মাঠে শুর ঝামেলার। তৃতীয় বলে ছয় হাকানোর পরই সেই বল নো বলের দাবী তুলতে থাকে দিল্লি ক্যাপিটালর শিবির। ক্রিকেজের ব্যাটাররাও আম্পায়ারকে বারবার আবেদন করতে থাকেন বিষয়টি দেখার জন্য। কিন্তু আম্পায়াররা ছিলেন নিজেরে সিদ্ধান্তে অটল।

আর তাি দেখেই ডাগআউটে মেজাজ হারান ঋষভ পন্থের। নো বলের দাবীতে সোচ্চ্বার হন ঋষভ পন্থ, শার্দূল ঠাকুররা। ডাগ আউট থেকেই খানিক্ষণের জন্য ম্যাচ বন্ধ করিয়ে দেন ঋষভ পন্থ। সেখানেই চলে তর্ক। এমনকী দল তুলে নেওয়ার পর্যন্ত সিদ্ধান্ত একপ্রকা নিয়ে ফেলেন ঋষভ পন্থ। নো বল না দিলে ক্রিকেটারদের যে  মাঠে তিনি থাকতে দেবেন না এবং দল তুলে নেবেন, তা ঋষভের হাবেভাবেই ছিল স্পষ্ট।

নিয়ম ভঙ্গ করার জন্য প্রবীন আমরেকে এক ম্যাচ নির্বাসিত করার শাস্তি

যদিও কমেন্ট্রিতে থাকা বিশেষজ্ঞ থেকে প্রাক্তনরা অবশ্য সেই বলকে নো বল দেওয়ার পক্ষেই ছিলেন। কিন্তু ঋষভ পন্থের এমন ব্যবহারে সকলেই হতবাক হয়েছিলেন। ঋষভের স্পোর্টসম্যান স্পিরিট নিয়েও কথা উঠতে শুরু করে দিয়েছিল। আর সেই মুহূর্তে মাঠের ভিতর প্রতিবাদ জানানোর জন্য আম্পায়ারদের কাছে ছুটে আসেন দিল্লির সহকারী কোচ প্রবীন আমরেও। যদিও শেষপর্যন্ত খেলা হয়েছে। দিল্লি জিততে পারেনি। কিন্তু ঋষভ পন্থ, প্রবীন আমরেদের এমন ব্যবহার কিন্তু বোর্ড থেকে আইপিএল কমিটি ভাল চোখে দেখেননি। সেজন্য শাস্তি দিতেও তারা পিছপা হয়নি।

দিল্লি বনাম রাজস্থান ম্যাচের পুরো ম্যাচ ফি কেটে নেওয়া হয়েছে ঋষভ পন্থের। প্রবীন আমরেকে একম্যাচ নির্বাসিত করার শাস্তি দিয়েছে বোর্ড। শার্দূল ঠাকুরের খোয়া গিয়েছে ৫০ শতাংশ ম্যাচ ফি। সেইসঙ্গেই ঋষভ পন্থের এমন ব্যবহারে নিন্দাতেও সরব হয়েছেন অনেকে। একজন অধিনায়কের থেকে এমন ব্যবহার আশা করা যায় কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

close whatsapp