রিঙ্কু সিং এবং নীতিশ রানার দুরন্ত পার্টনারশিপে ভর করে পাঁচ ম্যাচ পর জয়ের সরণীতে নাইট রাইডার্স

Kolkata Knight Riders vs Rajasthan Royals
Kolkata Knight Riders vs Rajasthan Royals. (Photo Source: IPL/BCCI)

টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর অবশেষে খানিকটা স্বস্তি। রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে দীর্ঘদিন পর জয়ের রাস্তায় ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বোলারদের পারফরম্যান্স এবং রিঙ্কু-নীতিশের পার্টনারশিপে ৭ উইকেটে জয় কলকাতা নাইট রাইডার্সের। আর সেইসঙ্গেই প্লে অফে পৌঁছনোর ক্ষীণ আশা এখনও বাঁচিয়ে রাখলেন শ্রেয়স আইয়াররা।  নীতিশ রানা রান বেশী করলেও, রাজস্থান বধে এদিন নাইট রাইডার্সের নায়ক কিন্তু রিঙ্কু সিং। ২৩ বলে ৪২ রানের ঝোরো ইনিংস খেলেন তিনি।। বিশেষ করে টিম সাউদির উইকেটটাই বোধ হয় রাজস্থানের বিরুদ্ধে নাইট রাইডার্সের জয়ের রাস্তাটা তৈরি করে দিয়েছিলেন জস বাটলারের উইকেট তুলে নিয়ে।

একের পর এক ম্যাচে হার। আইপিএলের মঞ্চে ক্রমশই পিছিয়ে পড়ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। হাতে ছিল পাঁচ ম্যাচ। প্লে অফে পৌঁছতে হলে এই পাঁচটি ম্যাচেই জিততে হবে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। যার প্রথম চ্যালেঞ্জটাই ছিল রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচেই বোলারদের ওপর ভর করে রাজস্থান বধ সম্পূর্ণ করলেন শ্রেয়স আইয়াররা। রিঙ্কুদের হাত ধরে ৭ উইকেটে জয় এলেও,  নাইট শিবিরের ব্যাটিং নিয়ে কিন্তু একটা চিন্তা রয়েই গেল। ১৫৪ রান তোলার জন্য প্রায় শেষ ওভার পর্যন্ত খেলতে হল নাইট রাইডার্সকে।

টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর জয়ের ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স

কঠিন চ্যালেঞ্জ রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে। সেইদলেই রয়েছেন আবার জস বাটলার। টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের। এদিন ম্যাচের আগে থেকেই শোনাযাচ্ছিল যে শুধুমাত্র জস বাটলারকে নিয়ে চিন্তা করছে না নাইট রাইডার্স। তবে হ্য তাঁর জন্য ছক প্রস্তুত রয়েছে তাদের। একটু দেরী হলেও ঠিক সময় মতো জস বাটলারকে ২২ রানে এদিন সাজঘরে ফিরিয়ে দেন টিম সাউদি।

বাটলার না পারলেও, এদিন রাজস্থানের হাল ধরেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। কিন্তু বাটলারের মতো বিধ্বংসী ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। একইসঙ্গে সঞ্জুকে সঙ্গ দেওয়ার জন্যও ক্রিকেটাররা বেশীক্ষণ থাকতে পারেনি। ৪৯ বলে ৫৪ রানে সাজঘরে ফিরতে হয় সঞ্জু স্যামসনকেও। রাজস্থানের পাঁচ উইকেটের বেশী তুলতে না পারলেও, নাইট বোলারদের হিসাবী বোলিংই এদিন রাজস্থানকে বড় রান করা থেকে আটকে দিয়েছিল। ১৫২ রানেই থামতে হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালসকে। সঞ্জু অর্ধশতরান না পেলে হয়ত ১০০ রানও টপকানো সমস্যা হত রাজস্থানের।

ওয়াংখেড়ে বরাবরই ব্যাটারদের সহায়ক মাঠ। কিন্তু সেখানেই এদিন ছিল লো স্কোরিং ম্যাচ। নাইট রাইডার্সের জিততে দরকার ছিল ১৫৩ রান। কিন্তু সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নাইট রাইডার্সও কিন্তু শুরুটা একেবারে ভাল করতে পারেনি। চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিল নাইট রাইডার্সের ওপেনিং জুটি। মাত্র ৪ রানে ফেরেন ফিঞ্চ। মাঝে শ্রেয়স আইয়ার নেমে হাল ধরেন। কিন্তু ৩৪ রানে ফেরেন তিনিও। তখন কেকেআরের রান ৩ উইকেটে ৯২। যদিও তখন ম্যাচ অনেকটাই নাইট রাইডার্সের দখলে।

কঠিন পরিস্থিতিতে নীতিশ রানার সঙ্গে ৫০ রানের পার্টনারশিপ রিঙ্কু সিংয়ের

কিন্তু রাজস্থান বোলাররা আরও চাপ বাড়াতে শুরু করেন। সেইসময় নীতিশ রানার সঙ্গে মাঠে আসেন রিঙ্কু সিং। এবারের আইপিএলে যেকটা ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন প্রতিটি ম্যাচেই নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করে গিয়েছেন তিনি। এদিন ম্যাচে নেমে চাপের সামনে ছিল তাঁর আসল পরীক্ষা। নীতিশ রানার সঙ্গে সেই পরীক্ষা উতরে গেলেন তিনি। শুধু চাপই সামলালেন না, তাঁর ব্যাট থেকে দেখা গেল চার, ছয়ের ঝলকও। সঙ্গে নীতিশ রানা-তো ছিলেনই। ২৩ বলে ৪২ রানের ঝোরো ইনিংস খেললেন রিঙ্কু সিং। সঙ্গে নীতিশ রানারও ৪৮ রানের ইনিংস। ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

close whatsapp