যশস্বী ও অশ্বিনের দাপুটে ইনিংসে চেন্নাইকে হারিয়ে প্লেঅফের দ্বিতীয় স্থানে রাজস্থান রয়্যালস

Yashasvi Jaiswal
Yashasvi Jaiswal. (Photo Source: IPL/BCCI)

যশস্বী জয়সওয়াল এবং অশ্বিনের দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ে চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে আইপিএলের প্লেঅফের দ্বিতীয় স্থানে নিজেদের জায়গা পাকা করে ফেলল রাজস্থান রয়্যালস। দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনেই ফের একবার জ্বলে উঠলেন যশস্বী জয়সওয়াল। শেষটা করলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। সেইসঙ্গে চাহাল এবং ম্যাকয়ের দুর্ধর্ষ হিসাবী বোলিং। সব মিলিয়ে এদিন ফের একটা টিম গেমের পরিচয় দিল রাজস্থান রয়্যালস। আর তাতেই চেন্নাই সুপার কিংসের জিতে অভিযান শেষ করার সমস্ত আশা শেষ। ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় রাজস্থান রয়্যালস।

এদিন রাজস্থান রয়্যালসকে জিততেই হত। কিন্তু চেন্নাই সুপার কিংস প্রথমে যেমন খেলা শুরু করেছিল তাতে চিন্তা বাড়াটাই ছিল স্বাভাবিক। সেই সময় ফের একবার বল হাতে ত্রাতা  ছিলেন যুজবেন্দ্র চাহাল। সঙ্গে তাঁর সঙ্গী ছিলেন ম্যাকয়। এই দুই বোলারের হিসাবী বোলিংই রাজস্থানের জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছিল। আর ব্যাট হাতে বাকিটা সামলে দেন যশস্বী জয়সওয়াল। বাটলার, সঞ্জুদের ব্যর্থতার মঞ্চে এদিন রাজস্থানের জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন যশস্বী। তাঁর ৪৪ বলে ৫৮ রামনের দুর্ধর্ষ ইনিংসই জয়টা পাকা করে দেয়। সেইসঙ্গে নিজেকে আরও একবার বোধহয় প্রমাণ করে দিলেন এই তরুণ ক্রিকেটার।

চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে প্লে অফের দ্বিতীয় স্থানে জায়গা পাকা করল রাজস্থান রয়্যালস 

টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চেন্নাই সুপার কিংস অধিায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। আইপিএলের শেষ ম্যাচে বড় রান করার লক্ষ্যই এদিন চেন্নাই সুপার কিংসের। কিন্তু শুরুতেই ২ রানের মধ্যে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের উইকেট খোয়ায় চেন্নাই সুপার কিংস। যদিও পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে এতটুকু ভুল করেননি চেন্নাই সুপার কিংস ব্যাটাররা। এদিন মাঠে নামা থেকে বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন মঈন আলি। তাঁর রানের ঝড়ে ৬ ওভারে ৭৫ রান করে ফেলে চেন্নাই সুপার কিংস।

সেই সময় দেখে সকলেরই মনে হতে শুরু করেছিল এদিন চেন্নাই সুপার কিংস যেমন  ছন্দে রয়েছে, তাতে রাজস্থান রয়্যালসের সামনে বিরাট একচা লক্ষ্য দিতে চলেছে তারা। অন্যদিকে এই ম্যাচ জিততে মরিয়া তখন রাজস্থান রয়্যালস। পাওয়ার প্লে-তে রাজস্থান বোলাররা ব্যর্থ হলেও, ম্যাচে ফিরতে অবশ্য খুব একটা দেরী করেনি তারা। জাগাদিশান, অম্বাতি রায়াডুদের তাড়াতাড়ি সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়েই, পওয়ার প্লের পরেই চেন্নাই শিবিরের ওপর চাপ বাড়েতে শুরু করেন চাহালরা।

ম্যাককয় এবং যুজবেন্দ্র চাহালের হাত ধরেই এদিন ম্যাচে ফেরে রাজস্থান রয়্যালস। তাদের হাতে পরপর তিন উইকেট চলে আসাটাই চেন্নাইয়ের রানের গতি এদিন কমিয়ে দেয়। মঈন আলির সঙ্গে তখন ক্রিজে রয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। পরপর উইকেট খোয়ানোতেই তখন বড় শট খেলার ক্ষেত্রেও বেশ সাবধানী হয়ে গিয়েছিলেন মঈন আলিও। মাঝের এই কয়েকটা ওভারই যেন ম্যাচের মোর ঘুরিয়ে দেয়। আইিপএলে চেন্নাইয়ের শেষম্যাচে ধোনি ফেরেন ২৮ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলে। তাঁকে ফিরিয়ে কেরিয়ারের নতুন মাইলস্টোনের মালিক হন যুজবেন্দ্র চাহাল। মঈন আলি এদিন বড় ইনিংস খেলতে না পারলে চেন্নাই১৫০ রানও বোধহয় পেরোতে পারত না।

এই দু উইকেট নিয়ে আইপিএলে ভারতীয় স্পিনার হিসাবে এক মরসুমে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড চাহালের

৫৭ বলে ৯৩ রানের ইনিংস মঈন আলি খেললেন ঠিকই, কিন্তু মাঝের কয়েক ওভারে একেবারেই কম রান এবং ধীর গতির ক্রিকেট খেলার জন্য চেন্নাই সুপার কিংস শেষপর্যন্ত করে  ১৫০ রান। আইপিএলের প্লে অফের লক্ষ্যে দ্বিতীয় স্থানে জায়গা পাকা করে নেওয়া পথটা তখন অনেকটাই সহজ রাজস্থান রয়্যালসের সামনে। কিন্তু প্রতিপক্ষ অধিনায়কেরও নাম মহেন্দ্র সিং ধোনি।

রাজস্থানের যে তারকা প্রধান ভরসা জস বাটলার, তিনিই এদিন ২ রানে ফেরেন। ধোনি চেষ্টা করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু এদিন রাজস্থানের ত্রাতার ভূমিকায় ছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল। তাঁর একার দাপটেই এদিন  রাজস্থান রয়্যালসের জয়ের রাস্তাটা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তিনি শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। তাঁর ৪৪ বলে ৫৮ রানের ইনিংসেই চেন্নাইয়ের জিতে আইপিএল অভিযান শেষ করার আশা পূরণ হল না। যশশ্বীর ৫৮ রানের ইনিংসটি সাজানো রয়েছে ৮টি বাউন্ডারি এবং একটি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। তিনি যখন ফিরে যান, তখনও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত ছিলেন না সঞ্জু স্যামসন, সঙ্গাকারা-রা। তবে সেই অস্বস্তি বেশীক্ষণ থাকেনি। বাকিটা একাহাতে সামলে দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিনষ তাঁর ২৩ বলে ৪০ রানের ইনিংসেই চেন্নাইয়ের সমস্ত আশা শেষ হয়ে যায়।

close whatsapp