তৃতীয় রাউন্ডে উইকেটকিপারদের নিয়ে প্রবল টানাটানি, ১৫.২৫ কোটি টাকায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে ঈশান কিষাণ
হাসারাঙ্গা ও পুরানের দরও ১০ কোটি ছাড়াল
আপডেট করা - Feb 12, 2022 5:20 pm

আবার যখন আইপিএল নিলাম শুরু হয় তখন অসুস্থ নিলাম সঞ্চালক হিউ এডমিডসের জায়গায় চারু শর্মা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হাসারাঙ্গার থেমে থাকা নিলাম পুনরায় শুরু হয়, যদিও হাসারাঙ্গার জন্য আর কোন দল দর হাঁকেনি এবং আরসিবি তাঁকে ১০.৭৫ কোটি টাকার বিনিময়ে কিনে নেয়। ওয়াশিংটন সুন্দরের জন্য প্রথমে ধীরেসুস্থে দর হাঁকছিল গুজরাত টাইটান্স ও পাঞ্জাব কিংস। ৩ কোটি দর ছাড়াতেই দিল্লী আসরে নামে। দিল্লী প্রতিদ্বন্দিতা শুরু করতেই দর ৭ কোটি ছাড়িয়ে যায়। এই অবস্থায় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ তাদের আগ্রহ দেখায়। অবশেষে তারাই ৮.৭৫ কোটি টাকায় তাঁকে কিনে নেয়।
ক্রূণাল পান্ডিয়া এরপর নিলামে ওঠেন। তাঁকে নেওয়ার জন্য আশ্চর্যজনকভাবে চেন্নাই সুপার কিংস ঝাঁপায়, যদিও তাদের হাতে স্পিন-বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে ইতোমধ্যেই রবীন্দ্র জাডেজা ও মইন আলি আছে। সিএসকের সঙ্গে পাঞ্জাব ও হায়দ্রাবাদও আগ্রহ দেখায়। কিন্তু ৮.২৫ কোটি টাকার সর্বোচ্চ দর দিয়ে তাঁকে কিনে নেয় লখনউ সুপার জায়ান্টস। ২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেরা মিচেল মার্শের জন্য প্রথম দর হাঁকে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও গুজরাত টাইটান্স। গুজরাত সরে যেতেই দিল্লী দর ডাকা শুরু করে। শেষ অবধি দিল্লীই তাঁকে তুলে নিতে সক্ষম হয় সাড়ে ৬ কোটি টাকায়। মহম্মদ নবি অবিক্রিত থাকেন।
দিনের সবচেয়ে দামী ক্রিকেটার ঈশান কিষাণ
উইকেটকিপারদের তালিকা থেকে প্রথমে ম্যাথু ওয়েডের নাম উঠলেও তাঁর জন্য কোন আগ্রহ দেখা যায়নি। এরপর নিলামে আসা আম্বাতি রায়ুডুর জন্য চেন্নাই সুপার কিংস প্রবল আগ্রহ দেখায়। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদও দর ডাকতে থাকে পাল্লা দিয়ে। অবশেষে সিএসকে তাদের হয়ে চার মরসুম খেলা রায়ুডুকে দলে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় ৬.৭৫ কোটি টাকা খরচ করে।
উইকেটকিপারদের তালিকায় সবচেয়ে বেশী আগ্রহ দেখা যায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলে যাওয়া ঈশান কিষাণের জন্য। এই নিলামে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে ঈশান কিষাণের ১০ কোটি টাকার দর ছাড়িয়ে যায়। পাঞ্জাব কিংস প্রথমে মুম্বইকে টক্কর দিতে থাকে। পাঞ্জাব সরে যেতেই আগ্রহ দেখায় গুজরাত টাইটান্স। দুই দলের টানাটানিতেই ঈশানের দাম ১০ কোটি টাকা ছাড়ায়। ওই দুই দলের আগ্রহে তাঁর দর সাড়ে ১২ কোটি পার করতেই এই নিলামের সবচেয়ে দামী ক্রিকেটার হয়ে যান তিনি। ১৩ কোটি টাকা দিয়ে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ প্রথমবার ঈশানের জন্য আগ্রহ দেখায়। যদিও মুম্বই বদ্ধপরিকর ছিল যে তারা ঈশানকে নেবেই। আইপিএলের ইতিহাসে মুম্বই নিলামে এর আগে এতো অর্থ খরচ করেনি। শেষ অবধি ১৫.২৫ কোটি টাকার বিনিময়ে ঈশানকে দলে নেয় মুম্বই।
ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টোর জন্যও ভালো আগ্রহ দেখা যায় ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মধ্যে। পাঞ্জাব ও দিল্লীর মধ্যে প্রাথমিক লড়াই হচ্ছিল। তাঁর দর ৩ কোটি টাকা ছাড়াতেই এসআরএইচ আসরে নামে। যদিও ৬.৭৫ কোটি টাকা দিয়ে শেষ অবধি তাঁকে কিনে নেয় পাঞ্জাব কিংস। আইপিএলের পরিচিত নাম এবং শুরু থেকেই খেলে আসা দীনেশ কার্তিককে নিয়ে প্রাথমিক আগ্রহ তৈরী হয় আরসিবি ও সিএসকের মধ্যে। এই দুই দলের টানাটানিতেই তাঁর দর ৪ কোটির সীমা অতিক্রম করে। তাঁকে সাড়ে ৫ কোটি দর দিয়ে সফলভাবে কিনতে সক্ষম হয় আরসিবি।
ঋদ্ধিমান সাহা ও স্যাম বিলিংস অবিক্রিক্ত থাকার নিকোলাস পুরানের জন্য আগ্রহী হয় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও চেন্নাই সুপার কিংস। সিএসকে সরে যেতেই কলকাতা নাইট রাইডার্স আকস্মিকভাবে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করে বসে সাড়ে ৫ কোটি টাকার দরের মাথায়। সানরাইজার্সও অনড় থাকায় তাঁর দর নিমেষে ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। হায়দ্রাবাদ কেকেআরকে হারিয়ে ১০.৭৫ কোটি টাকার দরে নিজেদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে পুরানকে।
তৃতীয় রাউন্ড কোন অলরাউন্ডার কোন দলে
ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা – রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর – ১০.৭৫ কোটি টাকা
ওয়াশিংটন সুন্দর – সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ – ৮.৭৫ কোটি টাকা
ক্রূণাল পান্ডিয়া – লখনউ সুপার জায়ান্টস – ৮.২৫ কোটি টাকা
মিচেল মার্শ – দিল্লী ক্যাপিটালস – ৬.৫০ কোটি টাকা
মহম্মদ নবি – অবিক্রিত
তৃতীয় রাউন্ড কোন উইকেটকিপার কোন দলে
ম্যাথু ওয়েড – অবিক্রিত
আম্বাতি রায়ুডু – চেন্নাই সুপার কিংস – ৬.৭৫ কোটি টাকা
ঈশান কিষাণ – মুম্বই ইন্ডিয়ান্স – ১৫.২৫ কোটি টাকা
জনি বেয়ারস্টো – পাঞ্জাব কিংস – ৬.৭৫ কোটি টাকা
দীনেশ কার্তিক – রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর – ৫.৫ কোটি টাকা
ঋদ্ধিমান সাহা – অবিক্রিত
স্যাম বিলিংস – অবিক্রিত
নিকোলাস পুরান – সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ – ১০.৭৫ কোটি