জস বাটলারের বিধ্বংসী ঝড়ে ওয়াংখেড়েতে উড়ে গেল ঋষভ পন্থের দিল্লি ক্যাপিটালস

Prasidh Krishna
Prasidh Krishna. (Photo Source: IPL/BCCI)

জস বাটলারের দুর্ধর্ষ শতরানেই এদিন ম্যাচের ভাগ্যটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। দিল্লি লড়াাই দেওয়ার চেষ্টাটা চালালেও, রাজস্থান রয়্যালসের রানের পাহাড়েই চাপা পড়ল ঋষভ পন্থের দিল্লি ক্যাপিটালসের। ওয়াংখেড়েতে এদিন কালবৈশাখী আসেনি ঠিকই, কিন্তু ঋষভ পন্থরা এদিন বাটলার ঝড় দেখল। আর তাতেই খর কুটোর মতো উড়ে গেল দিল্লি ক্যাপিটালস। বাটলারের ৬৪ বলে ১১৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংসেই দিল্লির হারের খতিয়ানটা লিখে দিয়েছিলেন তিনি। এবারের আইপিএলে বাটলার যেন অপ্রতিরোধ্য। দিল্লি ক্যাপিটালসকে রানে হারাল রাজস্থান রয়্যালস।

এবারের আইপিএলে প্রথম ম্যাচটুকু বাদ দিলে রাজস্থান রয়্যালসকে একাই যেন টেনে নিয়ে যাচ্ছেন জস বাটলার। আইপিএলের মঞ্চে তিনি যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। মাত্র সাতটি ম্যাচ খেলেছেন এখনও পর্যন্ত। আর সেখানেই ৩টি সেঞ্চুরী হাকানো হয়ে গিয়েছে এই ব্রিটিশ তারকার। শুক্রবার দিল্লি ক্যাপিটালসও তাঁর ভয়ঙ্কর রুপের স্বাক্ষী হয়ে রইল। মাত্র ৭ ম্যাচেই ৪০০ রানের গন্ডী টপকে গিয়েছেন জয় বাটলার।

আইপিএলের এক মরসুমে তিনটি সেঞ্চুরী হয়ে গেল জস বাটলারের

এবারের আইপিএলে টস জিতলে বোলিং নেওয়া একটা ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। দিল্লি ক্যাপিটালস অধিনায়ক ঋষভ পন্থও তার অন্যথা করেননি। কারণ একটাই শিশির সমস্যা। কিন্তু সেই সমস্যা এড়াতে গিয়ে যে এতবড় বিপদ ডেকে আনবে তারা তা হয়ত সেই সময় ক্রিজে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারেননি খোদ ঋষভ পন্থও। আরব সাগরের তীরে এদিন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রাজস্থানের ব্যাটিং করতে নামাটা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। এরপর থেকেই শুরুজস বাটলারের তান্ডব লীলা।

দেবদূত পাড়িক্কল তখন শুধুই ক্রিজের অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে বাটলারের বিধ্বংসী ইনিংসের স্বাক্ষী ছিলেন। প্রথম ওভার থেকেই শুরু হয়েছিল জস বাটলারের ঝরো ইনিংস। সকলের নজর ছিল এদিন কুলদীপ বনাম চাহাল লড়াইয়ের দিকে। সেই কুলদীপ যাদবকে যেন নাস্তানাবুদ করে দিলেন জস বাটলার। শুধু কুলদীপই নন এদি বাটলারের সামনে পর্যুদস্ত হয়েছেন খলিল আহমেদ, অক্ষর পটেল, মুস্তাফিজুর সহ সকলেই। নিজের ৪ ওভার শেষই করতে পারেননি কুলদীপ। তিনি ৩ ওভারে একাই দিয়েছিলেন ৪০ রান।

দিল্লির সব বোলারদেরই অবস্থা ছিল এদিন শোচনীয়। জস বাটলারের ব্যাট থেকে এদিন শুধুই ছিল ছয় ও চারের বন্যা। ছয় এবং চারেই ৯০ রান করেছেন জয় বাটলার। বাটলারের বাত থেকেই এদিন দেখা গিয়েছে এবারের আইপিএলের সবচেয়ে লম্বা ছয়। ১০৭ মিটারের দীর্ঘ ছয় হাকিয়েছেন তিনি। দেবদূত পাড়িক্কলকে নিয়ে ১৫৫ রানের পার্টনারশিপ খেলেন তিনি। এরপর পাড়িক্কল ফিরে যান। বাটলার অবশ্য তখনও তান্ডব চালিয়ে যান। তিনি যখন সাজঘরে ফেরেন তখন রাজস্থানের রান ২০২। আর বাটলার ১১৬।  শেষটুকু সঞ্জু স্যামসনের হাত ধরে রাজস্থান রয়্যালস করে ২২২ রান।

দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে পৌঁছল রাজস্থান রয়্যালস

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এর আগে টি টোয়েন্টিতে এত রান তাড়া করে জেতার কোনও রেকর্ড নেই। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন ওয়ার্নার এবং পৃথ্বী শ। কিন্তু প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার বলেই থেমে যেতে হয় ওয়ার্নারকে। সরফরাজকে ১ রানেই সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন অশ্বিন। সেই সময়ই ক্রিজে আসেন ঋষভ পন্থ।

ম্যাচের শেষ ওভারে নো বলের সিদ্ধান্ত নিয়ে মেজাজ হারালেন ঋষভ পন্থ

রাজস্থানের রানের পাহাড় টপকানোর জন্য একটা মজবুত পার্টনারশিপ তৈরি করার লড়াই পৃথ্বীকে নিয়ে শুরু করেন ঋষভ পন্থ। কিন্তু দলের রান যখন ৯৯ তখন পৃথ্বী শ-ও ফিরে যান ৩৭ রানে। ঋষভ পন্থ লড়াই চালানোর চেষ্টা করলে সেই প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা কাঁটাতেই আটকে যান তিনিও। আর সেইসঙ্গেই রাজস্থান রয়্যালসের জয়টাও একেবারে নিশ্চিত। যদিও শেষের দিকে একটি নো বল নিয়ে ম্যাচের উত্তেনা যেন আরও চরমে পৌঁছয়। মাঠে তখন বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন রভম্যান পাওয়েল। শেষ ওভারে ৩৬ বাকি থাকলেও, তিন বলে তিনটি ছয় হাকানো হয়ে গিয়েছে তাঁর। এমন সময়ই একটি নোবল নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। মেজাজ হারিয়ে ক্রিকেটারদের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দিতেও দেখা যায় ঋষভ পন্থকে। যদিও শেষপর্যন্ত তা হয়নি।

২০৭ রানেই থামতে হয় দিল্লি ক্যাপিটালসকে। ১৫ রানে ম্যাচ জিতে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে পৌঁছে গেল রাজস্থান রয়্যালস।

close whatsapp