পঞ্চম দিন ভারতীয় ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসী মনে হয়নি প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রীর
আপডেট করা - Jul 5, 2022 7:55 pm

২০২১ সালে তাঁর কোচিংয়েই ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারানোর স্বপ্নটা দেখেছিল ভারতীয় দল। সেই সময় টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক ছিলেন বিরাট কোহলি। আর কোচের হটসিটে ছিলেন রবি শাস্ত্রী। ওভালের মাটিতে ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছিল ভারত। কিন্তু সেই ধারাই ধরে রাখতে পারল না টিম ইন্ডিয়া। ২০২২ সালে এজবাস্টনে এগিয়ে থেকেও হেরে গেল ভারতীয় দল। এরপরই ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রবি শাস্ত্রী। পঞ্চমদিন ক্রিকেটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাবটাই তাঁকে অবাক করেছে।
মঙ্গলবার যখন দুই দল মাঠে নামছিল, সেই সময় ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১১৯ রান। ভারতকে জিততে হলে প্রয়োজন ছিল ৩ উইকেট তোলার। রবি শাস্ত্রীর মতে তখনও ভারতের হাতে সুযোগ ছিল। কিন্তু পঞ্চম দিনের শুরু থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে যেন আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। যে আক্রমণাত্মক মেজাজে তাদের খেলা উচিত্ ছিল, তা নাকি খেলতে পারেনি তারা। আর সেজন্যই এমন পরিস্থিতি। ক্রিকেটারগের শরীরি ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পিছপা হননি রবি শাস্ত্রী।
২০২১ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বহু ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও জিতে বেরিয়ে এসেছিল টিম ইন্ডিয়া। ওভাল জয়ের পর ভারতীয় দলের যে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই তুঙ্গে পৌঁছেছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এজবাস্টনের এই ম্যাচেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এগিয়ে ছিল ভারতীয় দল। কিন্তু চতুর্থ দিন চা বিরতির পর থেকেই যেন বদলে গিয়েছিল গোটা চিত্রটা। হেরেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এরপরই দলের পারফরম্যান্স নিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন রবি শাস্ত্রী।
এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে ভারত
স্কাই স্পোর্টসে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় রবি শাস্ত্রী জানিয়েছেন, “যেটা দেখে আমি সবচেয়ে বেশী বিষ্মিত হয়েছি যে পঞ্চম দিনের শুরু থেকেই। এই দিনের শুরু থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল প্রচন্ড পরিমানে”।
তিনি আরও জানিয়েছেন, “ভারতীয় দলের এদিন তিনজন বোলারের ওপরই সবচেয়ে বেশী ফোকাস রাখা উচিত্ ছিল। শারূদ এবং সিরাজের কোনও প্রয়োজনই ছিল না। সেই রাস্তাতেই এনেকটা দেরী করে ফেলেছিল ভারতীয় দল। রবীন্দের জাদেজাকে আঐরও তাড়াতাড়ি বোলিংয়ে আনা উচিত্ ছিল। শুরুটাই করা উচিত ছিল বুমরাহ ও সামিকে দিয়ে”।
চতুর্থ দিন চা বিরতির পর ইংল্যান্ডের তিন উইকেট তুলে নিয়ে তাদেরকে চাপে ফেলে দিয়েছিল ভারতীয় দল। কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারেননি ভারতীয় দলের বোলাররা। সেখান থেকেই শুরু হয় জো রুট ও জনি বেয়ারস্টোর লড়াই। আর তাতেই শেষ হয়ে যায় ভারতের স্বপ্ন। পঞ্চম দিন মাত্র দেড় ঘন্টাতেই ম্যাচ শেষ করে দেয় ইংল্যান্ড। একরাশ হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ভারতীয় দলকে।