বিরাটের ব্যাটে রান এলেও, ব্যাটিং ব্যর্থতা এড়াতে পারল না ভারত

Virat Kohli
Virat Kohli. (Photo by Ashley Vlotman/Gallo Images/Getty Images)

নতুন বছরে বিরাট কোহলি রান পেলেন ঠিকই কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আবারও চূড়ান্ত ব্যাটিং ব্যর্থতা ভারতের। চিত্রটা বদলালো না। দিনের শেষে  আবারও চাপটা সেই ভারতীয় বোলারদের কাঁধেই। বড় রানের লক্ষ্যে শুরুটা করলেও, প্রোটিয়া বোলারদের দাপটে  গোটা দিন ব্যাটই করতে পারল না ভারতীয় দল। ক্রীজে বিরাট কোহলি থাকলেও, তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য কেউই টিকে থাকতে পারলেন না । মাত্র ২২৩ রানেই শেষ হয়ে যায় ভারতের প্রথম ইনিংস। দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ১ উইকেট খুইয়ে ১৭।

টেস্ট সিরিজ জিতে ইতিহাস তৈরি করতে হলে কেপটাউন টেস্ট জিততেই হবে ভারতকে। লক্ষ্যটা কঠিন হলেও, একেবারে যে তা অসম্ভব তা নয়। কিন্তু প্রথম দিনের শেষে ভারত যে পরিস্থিতিটা আরও কঠিন করে ফেলল তা বলাই যায়। চোট সারিয়ে এদিনই ভারতীয় দলে ফিরেছিলেন বিরাট কোহলি। নতুন বছরে প্রথম ম্যাচে নেমেছিলেন তিনি।

কেপটাউনের পেস সহায়ক পিচ সেইসঙ্গে বাউন্সও রয়েছে। এমন পরিুস্থিতিতে সমস্তকিছু বিচার করে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক। লক্ষ্যটা অবশ্যই ছিল অন্তত তিনশো রানের। কিন্তু শুরু থেকেই প্রোটিয়া বোলারদের বিরুদ্ধে সেভাবে দাপট দেখাতে ব্যর্থ হন লোকেশ রাহুল, ময়াঙ্ক আগরওয়ালরা। বরং শুরু থেকেই যেন খানিকটা চাপে ছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। যে সুযোগটা কাজে লাগাতে এতটুকু ভুল করেননি কাগিসো রাবাডারা।

৩৩ রানের মধ্যেই ভারতের ওপেনিং অর্ডার সাজঘরে ফিরে যান। এরপর থেকেই ক্রিজে লড়াইটা শুরু বিরাট কোহলির। সঙ্গে ছিলেন পুজারা। শুরু থেকেই বিরাটের বিরুদ্ধে সেই পুরনো কৌশল প্রোটিয়া বোলারদের। কিন্তু এদিন যথেষ্ট সাবধানী ছিলেন বিরাট কোহলি। প্রোটিয়া পাতা ফাঁদে পা দেননি তিনি। আর তাতেই যেন সাফল্য। রাবাডা, জ্যানসেনদের বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখাতে শুরু করেন তিনি। পুজারার সঙ্গে বড় পার্টনারশিপের দিকেও এগোচ্ছিলেন তিনি।

কিন্তু ৪৩ রানেই থামতে হয় পুজারাকে। ভারতের হয়ে বড় পার্টনারশিপ বলতে এদিন এই একটাই। এরপর ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা সকলেই ক্রিজে ছিলেন কিছুক্ষণের অতিথি। রাহানে ফেরেন ৯ রানে। ঋষভ টিকে থাকলেও, আবারও সেই তাড়াহুড়ে এবং খারাপ শট বেছেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠ ছাড়েন তিনিও। লড়াইটা এদিন একাই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বিরাট কোহলি। কিন্তু একের পর এক উইকেট খোয়ানোয় ক্রমশই চাপ বাড়তে থাকে তাঁর ওপরও।

অবশেষে ৭৯ রানেই থামতে হয় ভারত অধিনায়ককে। সেই কাগিসো রাবাডার বলেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। খেলেন ২০১টি বল। কিন্তু বড় রানের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি তিনি। বিরাট যখন সাজঘরে ফেরেন তখন ভারতের রান ২১১। এরপর আর ১২ রান যোগ করেই শেষ হয়ে যায় ভারতের প্রথম ইনিংস। রাবাডা একাই নেন ৪টি উইকেট।

ব্যাটসম্যাদের ব্যর্থতার পর আবারও সেই বোলারদের কাঁধেই চাপ। বোলিংয়ের শুরুটা অবশ্য বুমরার হাত ধরে খুব একটা খারাপ হয়নি। শুরুতেই ডিন এলগারকে মাত্র ৩ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দেন তিনি। দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ১ উইকেট খুইয়ে ১৭ রান।

close whatsapp