দীনেশ কার্তিকের ঝোরো ইনিংস ও আভেশের চার উইকেটে সিরিজে সমতায় ফিরল টিম ইন্ডিয়া

India vs south africa
India vs south africa. (Photo Source: BCCI )

দীনেশ কার্তিকের শেষ মুহূর্তে বিধ্বংসী ইনিংস এবং আভেশ খানের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে রাজকোটে দক্ষিণ আপ্রিকাকে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফেরাল টিম ইন্ডিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জেতার রেকর্ডও করল টিম ইন্ডিয়া। সিরিজে ২-০-এ পিছিয়ে থেকে দুর্ধর্ষ কামব্যাক ভারতীয় দলের। ব্যাট হাতে দীনেশ কার্তিক জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন বলা যেতেই পারে। একা চার উইকেট নিয়ে সেই ভিতটাই মজবুত করে দেন আভেশ খান। পরপর তিনটি টি টোয়েন্টিতে সেভাবে সফল হতে না পারলেও, রাজকোটেই জ্বলে উঠলেন তিনি। আর তাতেই সাফল্য ভারতের। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৮২ রানে হারাল ভারত।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংয়ের বিরুদ্ধে এদিনও ধস নেমেছিল ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের। টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিল ভারতের। কিন্তু এদিন ভারতীয় দলের জার্সিতে ত্রাতার ভূমিকায় সেই দীনেশ কার্তিক। আইপিএলের পর ভারতের জার্সিতেও শেষ করে দিয়েছিলেন প্রোটিয়াদের বোলিং লাইনআপকে। সেইসঙ্গে যোগ্য সঙ্গত হার্দিক পান্ডিয়ার। আর সেই পার্টনারশিপটাই যে এদিন ভারতীয় দলের জয়ের রাস্তাটা গড়ে দিয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

টস জিতে এদিনও প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। আর সেই সিদ্ধান্ত যে খুব  একটা খারাপ ছিল না তা অন্তত ১৫ ওভার দেখে বোঝাই যাচ্ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের বিরুদ্ধে এদিন শুরু থেকেই সমস্যায় পড়েছিলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিল প্রোটিয়া বোলারদের বিরুদ্ধে। ১৩ রানের মধ্যেই ভেঙে গিয়েছিল ওপেনিং জুটি। ৫ রানে সাজঘরে ফিরেছিলেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সাজঘরের রাস্তা ধরেন শ্রেয়স আইয়ারও।

টি টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড ভারতের

রেকর্ডের হাতছানি থাকলেও ২৭ রানেই থামতে হয়েছে তাঁকেও। আর একের পর এক উইকেট যখনই পড়েছে ততই চিন্তা বেড়েছে ভারতীয় শিবিরে। অধিনায়ক ঋষভ পন্থ এদিনও ব্যর্থ। ১৭ রানে সাজঘরে ফিরেছিলেন তিনি। এরপরই ক্রিজে আসেন দীনেশ কার্তিক। হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে ধীরে ধীরে বিল্ডআপ গেম খেলা শুরু। আর সময় যত এগিয়েছে ততই যেন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন দীনেশ কার্তিক। শেষ তিন ওভারে একাই বদলে দিয়েছিলেন খেলার চিত্রটা।

সেইসঙ্গে যোগ্য সঙ্গত হার্দিক পান্ডিয়ারও। দক্ষিণ আফ্রিকার হাত থেকে ম্যাচের রাশটা তারাই বের করে নিয়ে আসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেই আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টিতে প্রথম অর্ধশতরান পেলেন দীনেশ কার্তিক। ৯টি চার এবং ২টি ছয় দিয়ে তাঁর ৫৫ রানের ইনিংসটি এদিন সাজানো। হার্দিক পান্ডিয়া করেছেন  ৪৬ রান। তাদের হাত ধরেই ভারত শেষপর্যন্ত পৌঁছেছিল ১৬৯ রানে।

লড়াই করার জায়গায় ভারতকে পৌঁছে দিয়ে এসেছিলেন তারা। এবার পরীক্ষাটা ছিল বোলারদের। রাজকোটের পিচে এদিন বল হাতে শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন আভেশ খান। তাঁর একার চার উইকেট শিকারেই শেষ দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ।  প্রোটিয়া ব্যাটাররা এদিন ভারতীয় বোলারদের সামনে যেন মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারেননি।

ওপেনিংয়ে নেমে টেম্বা বাভুমা অবশ্য চেষ্টাটা শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাঁর হাতের গুরুতর চোট খেলার কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠ চাড়তে বাধ্য করে। এরপর অবশ্য আর কোনও ব্যাটারই ক্রিজে দাঁড়াতে পারেননি। আভেশের দাপটের সামনে এদিন হার মানতে হয় প্রিটোরিয়াস, ফান ডার ডুসেন এবং ডেভিড মিলারদের। সেরা তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন তিনি।

১০০ রানের গন্ডীও টপকাতে পারেনি এদিন দক্ষিণ আফ্রিকা। এনগিডিতে অক্ষর পটেল ফেরানোর পরই ম্যাচ শেষ। চোটের জন্য এদিন আর মাঠে নামতে পারেননি টেম্বা বাভুমা। ৮৭ রানেই থেমে যেতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

close whatsapp