রশিদের স্পিনের জাদুতে ৮২ রানেই শেষ লখনউ, প্রথম দল হিসাবে প্লে অফে গুজরাত টাইটান্স

Gujarat Titans2
Gujarat Titans2. ( Photo Source: IPL/BCCI )

গুজরাত বনাম লখনউ সুপার জায়ান্টস ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা ছিল এবার তুঙ্গে। লোস্কোরিং ম্যাচে এদিন শুধুই দেখা গেল বোলারদের দাপট। আর বোলারদের পাফরম্যান্সের সেই প্রতিযোগিতাতেই ফের একবার লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারিয়ে আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেল গুজরাত টাইটান্স। সেইসঙ্গে এবারের আইপিএলের প্রথম দল হিসাবে প্লে অফে নিজেদের জায়গা পাকা করে ফেললেন হার্দিক পান্ডিয়ারা। দুর্ধর্ষ বোলিং রশিদ খান, সাই কিশোর এবং যশ দয়ালদের। ৬২ রানে ম্যাচ জিতে নিল গুজরাত টাইটান্স।

আইপিএলের মঞ্চে এবারই আত্মপ্রকাশ হয়েছে গুজরাত টাইটান্স এবং লখনউ সুপার জায়ান্টসের। প্রথম থেকেই দুরন্ত ফর্মে রয়েছে তারা। এবারের আইপিএলে এই লখনউকে হারিয়েই জয়যাত্র শুরু করেছিল গুজরাত টাইটান্স। এরপর দুই দলই  জিতে গিয়েছে একের পর এক ম্যাচ। মঙ্গলবার পুণেতে ফের একবার মুখোমুখি হয়েছিল তারা। তবে যতটা উন্মাদনা এই ম্যাচ নিয়ে ছিল, ততটা কিন্তু মাঠে দেখা গেল না। দুই দলেরই কোনও ব্যাটারের ব্যাট থেকে টি টোয়েন্টির মঞ্চের ছয় চারের বন্যা দেখা যায়নি। বরং এদিন শুরু থেকেই মাঠে ছিল বোলারদের দাপট।

মাত্র ২৪ রান দিয়ে একাই ৪ উইকেট নিলেন আফগান স্পিনার রশিদ খান

মবারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের পিচে চূড়ান্ত ব্যর্থ দুই দলেরই ব্যাটাররা। নিরব দর্শক হওয়া ছাড়া এদিন কোনও ভূমিকাই তাদের দেখা যায়নি। লখনইয়ের হয়ে প্রথমে যদি আভেশ, মহসিনদের দাপট দেখা যায়। গুজরাতের বোলিংয়ের সময় রশিদ, যশ দয়ালরাই শেষ করে দিল লোকেশ রাহুলের প্রতিশোধ নেওয়ার স্বপ্নটা। সেইসঙ্গে প্রথম দল হিসাবে আইপিএলের প্লে অফেও জায়গা করে নিল তারা।

টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। শুরু থেকেই মাঠে ছিল লখনউ বোলারদের দাপট। পুণের পিচও যেন এদিন ছিল বোলারদেরই পাশে। ঋদ্ধিমান সাহা, হার্দিক পান্ডিয়া, ম্যাথু ওয়েডরা এদিন রাের মুখই দেখতে পাননি। একমাত্র প্রথম থেকে ক্রিজে দাঁড়িয়েছিলেন শুভমন গিল। আর তাঁর ইনিংসটাই যেন গুজরাত টাইটান্সের জয়ের ভিতটা তৈরি করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। তিনি করেন ৬৩ রান। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৭টি চার।

শেষ মুহূর্তে নেমে রাহুল তেওয়াটিয়ার  ঝোরো পারফরম্যান্সে ভর করে  ১৪৪ রানে পৌঁছয় গুজরাত টাইটান্স। লখনউ সুপার জায়ান্টসের সামনে তখন সহজ লক্ষ্য। কিন্তু পুণের পিচে এই রানই যে বিরাট কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চলেছে, তা লখনউ সুপার জায়ান্টসের ব্যাটাররা তখনও বুঝতে পারেনি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা ডিকক এবং লোকেশ রাহুলের।

আর সেই তাড়াহুড়োটাই যেন সবচেয়ে বড় বিপদ ডেকে এনেছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস শিবিরে। ২৪ রানের মধ্যেই সাজঘরে রাহুল ও ডিকক। রাহুলকে ফেরান মহম্মদ সামি এবং ডিকক শিকার যশ দয়ালের। এরপর থেকেই  মাঠে রশিদ খানের জাদু। লখনউ ব্যাটারদের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর চাপের খেলা শুরু গুজরাত বোলারদের। আর তাতেই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লখনউ সুপার জায়ান্টস শিবির। ১৪৪ রানের লক্ষ্যে নেমে ৮২ রানেই শেষ লোকেশ রাহুলদের শিবির।

মাত্র ২৪ রানে একাই ৪ উইকেট নিয়ে এদিন লখনউয়ের সমস্ত আশা শেষ করে দেন রশিদ খান। অভিষেকেই ২ উইকেট নিয়ে নজর কাড়লেন সাই কিশোরও। এদিন রশিদ খান ফেরান হুডা, ক্রুণাল, জেসন হোল্ডার এবং আভেশ খানকে। ৬২ রানে ম্যাচ জিতে নিল গুজরাত টাইটান্স।

close whatsapp