ফাফ ডুপ্লেসির লড়াইকে ব্যর্থ হতে দিলেন না হেজেলউড, লখনউকে হারিয়ে লিগ টেবিলে দু নম্বরে বেঙ্গালুরু

Faf du Plessis and Dinesh Karthik
Faf du Plessis and Dinesh Karthik. (Photo Source: IPL/BCCI)

অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসির লড়াই ব্যর্থ হতে দিলেন না তাঁর সতীর্থরা। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ফাফ ডুপ্লেসির অধিনায়কচিত ইনিংসে ভর করে জয়ের রাস্তাতেই রইল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। বেশকয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেও, যেদিন তাঁর দলের সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন ছিল সেদিনই অধিনায়কের মতো খেলে বেঙ্গালুরুকে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড় করানোর সঙ্গে জয়ের পথটাও গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ৬৪ বলে ডুপ্লেসির ৯৬ রানের দুর্ধর্য ইনিংসটাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিল। সেই রাস্তায় হেঁটে বোলাররা জয়টা পাকা করে দিয়েছিলেন তাঁকে।

চেন্নাই থেকে এবার ফাফ ডুপ্লেসিকে তুলে নিয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তাঁর কাঁধেই অধিনায়কের দায়িত্বও তুলে দিয়েছিল তারা। আর অধিনায়কের সেই পরীক্ষায় মঙ্গলবার ফুল মার্কস পেয়েই পাশ করে গেলেন ফাফ ডুপ্লেসি। ব্যাট হাতে সকলে যখন ব্যর্থ সেই সময় দলকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন তিনি। এরপরই ফিল্ডিংয়ের সময় একটা অসাধারণ নেতৃত্বেরও পরিচয় দিলেন এই তারকা  ক্রিকেটার। এদিন ডি ওয়াই পটেল স্টেডিয়াম যদি ডুপ্লেসি ময় বলা হয় তবে হয়ত খুব একটা ভুল হবে না। আর বল হাতে ডুপ্লেসির মান রাখলেন জশ হেজেলউড।

পরপর দু ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে চলে গেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু

টস জিতে লখনউ সুপার জায়ান্টস এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। শুরু থেকেই বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে চাপ তৈরি করার কৌশল ছিল তাদের। প্রথম ওভারেই দুশমন্ত চামিরা যে কাজটা একেবারে নিখুঁতভাবে করেন। প্রথম ওভারেই অনুজ রাওয়াত এবং বিরাট কোহলিকে শূন্য সাজঘরে ফিরিয়ে দেন তিনি। ৭ রানের মধ্যেই ২ উইকেট খোয়ায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। গ্লেন ম্যাক্সওয়ালও ছিলেন কিছুক্ষণেরই অতিথি। ১১ বলে ২৩ রানে তিনি যখন ফেরেন তখন রয়্যাল চ্যালেঞ্জর্স বেঙ্গালুরু দাঁড়িয়ে ৩ উইকেটের বিনিময়ে ৪৪।

দলের সেরা দুই ব্যাটার ফিরে গিয়েছেন। দায়িত্ব তখন পুরোটাই ফাফ ডুপ্লেসির কাঁধে। আর তিনি যে চাপ নিতে একেবারে প্রস্তুত সেটা এদিনই বুঝিয়ে দিলেন ফাফ ডুপ্লেসি। ক্রিজের ওপারে এদিন সকলেই ছিলেন ক্ষণিকের অতিথি। কিন্তু ডুপ্লেসির জেদ তাঁকে ক্রমশ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে এদিন।  মাটি আঁকড়ে পড়েছিলেন তিনি। সময় যত এগিয়েছে ফাফ ডুপ্লেসি ততই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল এদিন। দীনেশ কার্তিক এদিন আক্রমণাত্মক না হয়ে তাঁকে সঙ্গ দেওার কাজটাই করে গিয়েছিলেন। ডুপ্লেসির ৯৬ রানের ইনিংস জুড়ে রয়েছে ১১টি চার এবং ২টি ওভার বাউন্ডারি। শেষবলে তিনি আউট হন। বেঙ্গালুরুর রান তখন ১৮১। লড়াই করার জন্য যথেষ্ট।

ডুপ্লেসির লড়াইয়ের মানরক্ষার ভার তখন বোলারদের ওপর। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বোলাররা এদিন নিরাশ করেননি তাদের অধিনায়ককে। সঠিক দিনেই বল হাতে জ্বলে উঠেছিলেন জশ হেজেলউড। আর তাতেই শেষ হয়ে যায় লখনউ সুপার জায়ান্টস। তিনি একাই এদিন ধসিয়ে দেন লখনউয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। অবশ্যই ডুপ্লেসির বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব তো রয়েছেই।

শুরুতেই ডিকক এবং মনীশ পান্ডেকে ফিরিয়ে দেন জশ হেজেলউড। লোকেশ রাহুল চেষ্টাটা শুরু করলেও, ৩০ রানেই তাঁকে হর্শল পটেল। আরসিবির জয়ের ছবিটা তখনই কার্যত পাকা হয়ে গিয়েছিল। তবুও কোনওরকম ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না ফাফ ডুপ্লেসি। প্রতিপক্ষের ওপর ক্রমশই চাপ বাড়াতেই থাকেন। তাঁর বোলিং চেঞ্জে একের পর এক সাফল্য পায় এদিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

আইপিএলের মঞ্চে প্রথমবার চার উইকেট নিলেন জশ হেজেলউড

ক্রুণাল পান্ডিয়া এবং দীপক হুডা অবশ্য একটা পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু ম্যাক্সওয়েল ও মহম্মদ সিরাজই সেই সময় খেলার মোরটা ঘুরিয়ে দেন। ফিরে যান পান্ডিয়া এবং দীপক হুডা। সেই থেকেই খেলার রাশ ক্রমশ আসতে থাকে আরসিবির হাতে। পিচে তখনও রয়েছেন স্টয়নিস এবং বাদোনি। দুজনকে তুলে নিয়ে ফাফ ডুপ্লেসিকে তাঁর জয়টা উপহার নিশ্চিত করে দেন জশ হেজেলউড। তিনিই একাই নেন ৪টি উইকেট। নির্ধারিত ওভারে ১৬৩ রানেই থামতে হয় লখনউ সিপার জায়ান্টসকে।

close whatsapp