কটকে চূ়ড়ান্ত ব্যাটিং ব্যর্থতা ভারতের, ক্লাসেন-মিলারের বিধ্বংসী ইনিংসে ফের হার টিম ইন্ডিয়ার

South Africa
South Africa. (Photo Source: twitter)

প্রথম ম্যাচে খারাপ বোলিং পারফরম্যান্স। ২০০ রানের গন্ডী টপকেও সেই ম্যাচে জিততে পারেনি ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচে কটকের পিচে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ। ঘরের মাঠে ফের একটা হার ঋষভ পন্থের টিম ইন্ডিয়ার। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে রানে ৪ উইকেটে হেরে সিরিজে ২-০-এ পিছিয়ে পড়ল ভারতীয় দল। ক্লাসেনের দুর্ধর্ষ অর্ধশতরান ও মিলারের ফের একটা বিধ্বংসী ইনিংসে ভারতের সমস্ত আশা শেষ হয়ে যায় এদিন। পরপর দু ম্যাচ হেরে সিরিজে ফেরার রাস্তাটা অনেকটাই কঠিন করে ফেলল ভারত।

প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে রানের পাহাড় গড়ে তুলেছিল ভারতীয় দল। কিন্তু সেই ম্যাচে মিলার, ফান ডার ডুসেনদের সামনে মাথা তুলেই দাঁড়াতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। তাদের দাপটেই দিল্লিতে বড় রান করেও হেরেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল টিম ইন্ডিয়াকে। কটকে সেই ব্যাটাররাই চূড়ান্ত ব্যর্থ হল। শেষের দিকে দীনেশ কার্তিক কয়েকটা বড় শট না খেললে ভারত বোধ হয় ১৩০ রানের গন্ডীও টপকাতে পারত না। প্রথমে ব্যাটিং করে কোনওরকমে ১৪৮ রান করেছিল ভারত। বাভুমা, ক্লাসেনদের হাত ধরে যে রান তুলতে খুব একটা কষ্ট হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার।

কটকে হেরে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২-০-এ সিরিজে পিছিয়ে পড়ল টিম ইন্ডিয়া

প্রথম ম্যাচের পর কটকেও এদিন টস হারেন ঋষভ পন্থ। ভারতকেই প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। আর শুরু থেকেই ফ্রন্টফুটে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা। মাত্র ৩ রানের মধ্যেই রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে তুলে প্রথম ধাক্কাটা দেন কাগিসো রাবাডা। ঈশান কিষাণ ও শ্রেয়স আইয়ার পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টাটা করলেও, নর্তজের বলেই ৩৪ রানে ফিরে যেতে হয় ঈশান কিষাণকে।

শ্রেয়স আইয়ার ক্রিজে থাকলেও, তাঁকে সঙ্গ দিতে পারেননি কোনও ক্রিকেটারই। ভারতের মিডল অর্ডার ফের একবার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে এদিন। অধিনায়ক ঋষভ পন্থ ফেরেন ৫ রানে। এরপরই হার্দিক পান্ডিয়া ফেরেন ৯ রানে। ভারত যে তখন ক্রমশই খাদের কিনারার দিকে চলে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শ্রেয়স আইয়ারের লড়াই ৪০ রানে থামার সঙ্গেই, ভারতের বড় রানের সমস্ত আশা শেষ।

শেষের দিকে ২১ বলে দীনেশ কার্তিক ৩০ রান না করলে, ভারত ১২০ রান করতে পারত কিনা সন্দেহ রয়েছে। অন্যকোনও ব্যাটারকে সঙ্গে পেলে তিনি যে বড় রান করার ক্ষমতা রাখেন, সেটা এদিন দীনেশ কার্তিক বুঝিয়ে দিয়েছেন। শেষ ওভারে তাঁর কয়েকটা বড় শটে ভর করেই শেষপর্যন্ত ১৪৮ রান করে।

সহজ লক্ষ্য। তবুওদক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা ছিলেন যথেষ্ট সাবধানী। বল হাতে এদিন ভুবনেশ্বর কুমারা শুরুটা করেওছিল ভাল। কিন্তু এত কম রান নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মতে ফর্মে থাকা দলের সঙ্গে জেতা সম্ভব নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুরুতেই টপ অর্ডারের তিন উইকেট এদিন তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কিন্তু একসময় চাপে ফেলে দিয়েছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। ২৯ রানের মাথায় ৩ উইকেট খুইয়ে বেশ চাপেই ছিল প্রোটিয়া বাহিনী।

২০১৯ সালের পর ঘরের মাঠে প্রথমবার পরপর দুটো টি টোয়েন্টি হারল ভারত

সেখানেই ক্রিজের অপরপ্রান্তে টিকে থেকেএ কটা বিল্ডআপ ইনিংস খেলে গিয়েছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। তিনি ফেরেন ৩৫ রানে। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের হাল ধরে ফেলেছিলেন ক্লাসেন। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ক্লাসেনের একটা অসাধারণ অর্ধশতরান এবং সেইসঙ্গে কিলার মিলারের ফের একটা বিধ্বংসী ইনিংস ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ক্লাসেনের ৮১ রানের ইনিংসটি সাজানো ৭টি চার ও ৫টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। ৪ উইকেটে জিতে সিরিজে ২-০-এ এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।

close whatsapp