চূড়ান্ত ব্যাটিং ব্যর্থতায় লখনউয়ের কাছে বিরাট রানে হেরে প্লে অফের আশা কার্যত শেষ নাইট রাইডার্সের

Avesh Khan
Avesh Khan. (Photo Source: IPL/BCCI)

চূড়ান্ত ব্যাটিং ব্যর্থতা। লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে হেরে এবারের মতো আইপিএলের প্লে অফে যাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শেষ কলকাতা নাইট রাইডার্সের।  লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ১০১ রানেই শেষ হয়ে গেল কলকাতার নাইট বাহিনী। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের শুরুটা একেবারেই ভাল হল না। ১৭৬ রানের জবাবে নেমে কলকাতা নাইট রাইডার্স কোনওরকমে একশো রানের গন্ডীই এদিন পেরোতে পারল। আইপিএল থেকে কার্যত ছিটকে যাওয়ার সঙ্গে তাদের দল গঠন নিয়েও কিন্তু বহু প্রশ্নও তুলে দিয়ে গেল। ৭৫ রানে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে হারিয়ে ফের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল লখনউ সুপার জায়ান্টস।

এবারের আইপিএলের শুরু থেকেই কলকাতা নাইট রাইডার্সের সেরকম ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখা যায়নি। প্রতি ম্যাচে বোলাররা ভাল ফর্ম প্রদর্শন করলেও, ব্যাটাররা কিন্তু প্রতি ক্ষেত্রেই ব্যর্থ। সেইসঙ্গে নাইট রাইডার্সের প্রথম একাদশ বাছা নিয়েও বারবার প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেমেছিল কলকাতার নাইটরা। সেই ম্যাচেও সেই ব্যাটিং ব্যর্থতাই ডোবাল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে।

লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে হেরে কার্যত আশা শেষ কলকাতা নাইট রাইডার্সের

টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। পরিকল্পনাটা বোধহয় প্রতিপক্ষকে কম রানের মধ্যে শেষ করাই ছিল শ্রেয়স আইয়ারের। কিন্তু এমন দিনেই দলের অন্যতম সেরা পেসার উমেশ যাদবকে পাননি তারা। সেজন্য লোকেশ রাহুলকে শুরুতেই সাজঘরে ফেরাতে পারলেও, লখনউয়ের রানের গতি কিন্তু থামাতে পারেনি নাইট বোলাররা।  কুইন্টন ডিকক এবং দীপক হুডার ৭১ রানের পার্টনারশিপটা তাদের ভিতটা মজবুত করে দিয়ে গিয়েছিল।

২৯ বলে ৫০ রানের ঝোরো ইনিংস খেলেন কুইন্টন ডিকক।দীপক হুডা এদিন খেলেন ২৭ বলে ৪১ রান। যদিও এরপর কলকাতা নাইট রাইডার্স বোলাররা খানিকটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯ তম ওভারে ২১ রানটাই লখনউয়ের বড় রানের আশাটা ফের বাড়িয়ে দেয়। এবং শেষ মুহূর্তে জেসন হোল্ডারের হাত ধরে ১৭৬ রানে পৌঁছে যায় লখনউ সুপার জায়ান্টস। আর সেটাই কলকাতা নাইট রাইডার্সের হারের রাস্তাটাও প্রশস্ত করে দেয়।

এদিন ম্যাচ জিততে হলে নাইট রাইডার্সের শুরুটা যথেষ্ট ভালভাবে করাই দরকার ছিল। কিন্তু প্রতি ম্যাচের মতো এদিনও পাওয়ার প্লে-তে চূড়ান্ত ব্যর্থ কলকাতা নাইট রাইডার্স। হিসাব মতো বলতে গেলে টপ অর্ডারের উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লের মধ্যেই ম্যাচ হেরে যা কলকাতা নাইট রাইডার্স।  বাবা ইন্দ্রজিত ০, অ্যারণ ফিঞ্চ ১৪ এবং শ্রেয়স আইয়ার ৬ রানে সাজঘরে ফিরতেই চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। গতম্যাচে যে নীতিশ এবং রিঙ্কুর যে জুটি নাইটদের জিততে সাহায্য করেছিল, এদিন তারাও ব্যর্থ।

নীতিশ রানা যখন ফেরেন তখন নাইট রাইডার্সের রান ৪ উইকেটে ২৫ রান। এদিন অবশ্য ব্যাট হাতে একটা চেষ্টা  চালিয়েছিলেন আন্দ্রে রাসেল। কিন্তু তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য কেউই মাঠে থাকতে পারেননি।  রিঙ্কু ফেরেন ৬ রানে। তখনও অবশ্য রাসেল বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজেই ছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। আভেশ খানের বলেই হোল্ডারের হাতে ক্যাচ আউট হয়ে তিনি সাজঘরে ফেরার সঙ্গেই নাইট রাইডার্সের এবারের আইপিএলের প্লে অফের সমস্ত আশা শেষ। মাত্র ১০১ রানেই শেষ হয়ে যায় কলকাতা নাইট রাইডার্স।

close whatsapp