তরুণ ক্রিকেটার আব্দুল্লা শাফিকের পারফরম্যান্স দেখে আপ্লুত বাবর আজম
আপডেট করা - Jul 20, 2022 4:57 pm

একসময় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। সেই জায়গা থেকে লড়াই করে ফিরে আসাটা যে কঠিন তা বেশ ভালভাবেই বোঝা যাচ্ছিল। কিন্তু গল স্টেডিয়ামে তা সত্যিই করে দেখাতে পেরেছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের নায়ক যদি হন বাবর আজম। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের গলে রেকর্ড গড়ার প্রধান কারিগড় আবদুল্লা শাফিক। একা হাতে দলকে টেনে তোলাই শুরু নয়, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে সিরজের প্রথম জয়টাও এনে দিলেন তিনি। ২২ বর্ষীয় এই নতুন ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স দেখে আপ্লুত হয়েছেন বাবর আজম।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে বাবর আজম সেঞ্চুরী করলেও, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে লিড নিতে ব্যর্থই হয়েছিল পাকিস্তান। চার রানে এগিয়ে থেকেই দ্বিতীয় ইনিংসে নেমেছিল শ্রীলঙ্কা। সেখানেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিরাট এক রানের লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। গল স্টেডিয়ামের চার্নিং পিচে এত রান তাড়া করে জেতারক রেকর্ড এর আগে কোনও দলেরই ছিল না। পাকিস্তানের সামনে সেই সময় ছিল কঠিন লড়াই। সেখানেই পাক শিবিরের ত্রাতার নাম আব্দুল্লা শাফিক।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০৮ বল খেলে ১৬০ রানের ইনিংস খেলেছেন আব্দুল্লা শাফিক
দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্ধর্ষ লড়াই চালিয়েছেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই শ্রীলঙ্কার বিরাট রান টপকে গল স্টেডিয়ামে রেকর্ড গড়েছে পাকিস্তান। সেইসঙ্গে আবিদুল শাফিকও পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে কেরিয়ারের প্রথম দেড়শো রান করে ফেলেছেন। শেষ দিন পাকিস্তানকে জিততে হলে করতে হত ১২০ রান। মাটি আঁকড়ে পড়েছিলেন আব্দুল্লা শাফিক। তাঁর একার লড়াইয়ে এদিন হার মানতে হয় শ্রীলঙ্কার বোলারদের। ১৬০ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কাকে শেষ করে দেন তিনি।
বৃষ্টির বাধা একসময় চিন্তার ভাঁজ ফেললেও, শেষপর্যন্ত আব্দুল্লা শাফিকের হাত ধরে স্বপ্নপূরণ হয় পাকিস্তানের। আর এই জয় দেখার পরই তরুণ ক্রিকেটারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাবর আজম। তিনি জানিয়েছেন, “আমি এবং আব্দুল্লা প্রথম থেকেই চেষ্টা করছিলাম একটা শক্তিশালী পার্টনারশিপ গড়ে তোলার। একজন তরুণ ক্রিকেটার হিসাবে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন তিনি। এমন পারফরম্যান্স করতে দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত”।
চতুর্থ দিন আব্দুল্লা শাফিকের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে তুললেও শেষপর্যন্ত মাঠে থাকতে পারেননি বাবর আজম। ৫৫ রানেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। সেখান থেকেই একা হাতে লড়াইটা শুরু করেছিেন ওপেন করতে নামা আব্দুল্লা শাফিক। ৪০৮ বল খেলে ১৬০ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে কাঙ্খিত জয়টা এনে দেন এই তরুণ ক্রিকেটারই।
তাঁর গোটা ইনিংসটি জুড়ে রয়েছে সাতটি বাউন্ডারি এবং একটি ওভার বাউন্ডারি। তাঁকে নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট তো বটেই, গোটা বিশ্ব ক্রিকেটে এখন আলোচনা তুঙ্গে।