আইপিএলের মেগা নিলামে সর্বোচ্চ দাম পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন যারা

IPL Trophy
IPL Trophy. (Photo SOurce: IPL/BCCI)

রাত পাহোলেই আইপিএলের মেগা নিলাম। জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। সেইসঙ্গে নিলাম ঘিরে চড়ছে উন্মাদনার পারদও। কোনও ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ দাম যেমন সকলকে চমকে দেবে। তেমনই দুর্ধর্ষ দল প্রস্তুত করে সকলকে চমকে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কোনও এক ফ্র্যাঞ্চাইজি। যদিও সেসব জানতে হলে তো অপেক্ষা করতে হবে নিলামের শেষ পর্যন্ত। কিন্তু ইতিমধ্যেই আইপিএলের নিলাম ঘিরে নানান গুঞ্জন কিন্তু শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে দেসীয় ও বিদেশী কিচু ক্রিকেটারকে নিয়ে এখন থেকেই চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।

প্রতিবারই আইপিএল শুরু হওয়ার আগে সকলের নজর থাকে সর্বোচ্চ দামী ক্রিকেটারের দিকে। এবারএ তার অন্যথা নয়। এখন থেকেই কোন কোন ক্রিকেটার সবথেকে বেশী দাম পেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। তাদের মধ্যে যেমন রয়েছে দেশীয় কিছু ক্রিকেটারের নাম, তেমনই রয়েছে কয়েকজন বিদেশীও।

মার্কি ক্রিকেটারের দলে আগেই জায়গা করে নিয়েছেন শ্রেয়স আইয়ার, ডেভিড ওয়ার্নারারা। এই দশ ক্রিকেটারের মধ্যে থেকে যে কোনও একজন যে সবচেয়ে বেশী দামী ক্রিকেটারের তকমা পেতে পারে, তা বলাই চলে। যদিও আইপিএলের মঞ্চ মানেই তো অনিশ্চয়তা আর চমকের খেলা। ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারীর পরই সমস্ত উত্তর মিলবে আমাদের।

শ্রেয়স আইয়ার (ন্যূনতম মূল্য- ২ কোটি)

তবে এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ দাম পাওয়ার ক্ষেত্রে সকলের ওপরে নাম রয়েছে শ্রেয়স আইয়ারের। গতবার দিল্লি ক্যাপিটালসে থাকলেও, এবার তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি। আসন্ন আইপিএলের নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালস যেমন তাঁকে নেওয়ার জন্য ঝাপাতে পারে। তেমনই আবার কলকাতা নাইটরাইডার্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং পঞ্জাব কিংসও ঝাপাতে পারে শ্রেয়স আইয়ারের জন্য। এই তিন দলেরই এবার অধিনায়কের খোঁজ রয়েছে। শ্রেয়স যে সেই জায়গায় একেবারে যোগ্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়া আিপিএলের মঞ্চে তাঁর পারফরম্যান্সও দুর্ধর্ষ। আইপিএলের মঞ্চে প্রথমবার ২০১৫ সালে অভিষেক হয় তাঁর। প্রথমবারই ইমার্জিং ক্রিকেটারের তকমা ছিনিয়ে নেন শ্রেয়স আইয়ার। আবার তাঁর অধিনায়কত্বেই দিল্লি দুবার প্লে অফে পৌঁছেছিল।

ইশান কিষাণ (ন্যূনতম মূল্য- ২ কোটি)

শ্রেয়স আইয়ারের সঙ্গে নজর রয়েছে আরও এক তরুণ ভারতীয়ের দিকে। তাঁর নাম ইশান কিষাণ। গত দু মরসুমে ইশান কিষাণের পারফরম্যান্স ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ওপেনিংয়ে দুরন্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছিলেন এই তারকা ক্রিকেটার। ২৩ বছর বয়সেই সকলের নজর কেড়েছেন তিনি। সানরাইজার্স হায়দবাদের বিরুদ্ধে ১৬ বলে অর্ধশতরান করে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। ২০১৮ সালে এই ইশান কিষাণকে ৬.৫ কোটি টাকা দিয়ে তুলেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। সেই থেকেই ওপেনিং ও উইকতেট কিপিংয়ে নিজের নামের সঙ্গে সুবিচার করছেন এই তরুণ তারকা উইকেট কিপার ব্যটার। বিরাট মূল্য পেতে পারেন তিনিও।

শার্দূল ঠাকুর (ন্যূনতম মূল্য- ২ কোটি)

একইসঙ্গে শার্দূল ঠাকুরও নজরে রয়েছে অনেকের। চেন্নাই সুপার কিংসে থাকলেও নিয়মের কারণে এবারের আইপিএলের আগে ছাড়তেই হয়েছে এই ক্রিকেটারকেও। কিন্তু গতবার চেন্নাইয়ের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনে শার্দূলের ভুমিকা ছিল অনস্বীকার্য। শুধু তাই ভারতীয় দলের জার্সিতেও শার্দূল ঠাকুর দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। এছাড়া তাঁর লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং করার দক্ষতা অনেককেই আকৃষ্ট করছে। চেন্নাই সুপার কিংস তো ঝাপাবেই, তাঁর জন্য ঝাপাতে পারে আরও বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। শার্দূল যদি সবচেয়ে বেশী দাম পায় তবে হয়ত অবাক হওয়ার থাকবে না।

ডেভিড ওয়ার্নার (ন্যূনতম মূল্য- ২ কোটি)

দেশীয়দের পাশাপাশি বিদেশী ক্রিকেটাররেও রয়েছেন সর্বোচ্চ দাম পাওয়ার দৌড়ে। এমনই একজন বিদেশী ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার। গত মরসুম বাদ দিলে এখনও পর্যন্ত আইপিএলের সবচেয়ে সফল ক্রিকেটারদের তালিকায় অন্যতম তিনি। ২০১৩ থেকে ২০২০ মরসুমে ডেভিড ওয়ার্নারের রান রয়েছে ৩৮১৯। যেখানে ২০১৮ সালে খেলেননি তিনি। বিরাট কোহলিও রয়েছে তাঁর পিছনে। এছাড়া ২০১৬ সালে তাঁর অধিনায়কত্বেই আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটার হয়েছিলেন তিনি। তিনিও সবচেয়ে দামী ক্রিকেটার হতেই পারেন।

জেসন হোল্ডার (ন্যূনতম মূল্য- ১.৫ কোটি)

তেমনই আরেকজনের নামও শোনাযাচ্ছে সর্বোচ্চ দামের ক্ষেত্রে। সদ্য ইংল্যান্ড সিরিজে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে ভারতে পা রাখার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। শুধু তাই নয় গতবারের আইপিএলেও জেসন হোল্ডার দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স করেছিলেন। একাই ৩০ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সেইসঙ্গে তাঁর তাঁর রানও ছিল ১৫১। ভারতের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে একটি অর্ধশতরানও ছিল জেসন হোল্ডারের।

প্যাট কামিন্স (ন্যূনতম মূল্য- ২ কোটি)

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্সকেও নিয়ে চলছে নানান আলোচনা। ২০১৮ সালে এই প্যাট কামিন্সই সাড়ে ১৫ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছিলেন। এবারেও তাঁকে নেওয়ার কথা শোনা গিয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তাদের মুখে। যদিও শেষপর্যন্ত নিলামের মঞ্চই শেষ কথা বলবে। কিন্তু সম্প্রতি অ্যাশেজেও বল হাতে দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি। এবারের আইপিএলের নিলামে সেরা দশ মার্কি ক্রিকেটারের মধ্যেও জায়গায় পাকা করে ফেলেছেন প্যাট কামিন্স।

আগামী শনি ও রবিবার কোন ক্রিকেটারের মাথায় ওঠে সবচেয়ে দামী ক্রিকেটারের মুকুট, সেটাই এখন দেখার।

close whatsapp