রাবাডার চার উইকেট ও ধওয়ানের দক্ষ ব্যাটিংয়ে গুজরাতকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ পঞ্জাব কিংসের

Kagiso Rabada
Kagiso Rabada. ( Photo Source: ipl/bcci )

কাগিসো রাবাডার দুর্ধর্ষ বোলিংয়েই পঞ্জাব কিংসের জয়টা কার্যত পাকা হয়ে গিয়েছিল। বাকিটুকু দায়িত্ব নিয়ে সামাল দিয়ে দেন শিখর ধওয়ান। ঐর এই দুই তারকার হাত ধরেই আইপিএলের মঞ্চেই প্রথম পর্বে হারের মধুর প্রতিশোধও নেওয়া হয়ে গেল পঞ্জাব কিংসের। ডি ওয়াই পটেল স্টেডিয়ামে এদিন গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে জয়ের রাস্তায় ফিরল পঞ্জাব কিংস। ময়াঙ্ক আগরওয়ালের দলকে ৮ উইকেটে হারাল পঞ্জাবের কিংসরা। সেইসঙ্গে থেমে গেল হার্দিক পান্ডিয়াদের বিজয় রথও।

প্রথম পর্বের ম্যাচে গুজরাতের বিপুদ্ধে এঁটে উঠতে পারেনি পঞ্জাব কিংস। সেবার হার্দিক পান্ডিয়াদের কাছে হারতে হয়েছিল শিখর ধওয়ানদের। এবারের আইপিএলের গুজরাত টাইটান্স দুর্ধর্ষ ফর্মে রয়েছে। এদিনের ম্যাচ শুরুর আগেও গুজরাক টাইটান্সের দিকেই ছিল পাল্লাভারী। কিন্তু পঞ্জাবের স্পীডস্টার কাগিসো রাবাডার দাপট চললে যে কোনও ব্যাটারের পক্ষেই ক্রিজে দাঁড়ানো সম্ভব নয় তা এদিন বুঝিয়ে দিলেন তিনি। গতম্যাচের পর এদিনওএকাই নিলেন ৪ উইকেট। আর তাতেই গুজরাতের ললাট লিখন ছিল স্পষ্ট।

কাগিসো রাবাডার একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট

আর বাকি কাজটা ব্যাট হাসে সামে দেন অভিজ্ঞ শিখর ধওয়ান। গুজরাত টাইটা্ন্সের তারকাখচিত বোলিং লাইনআপ থাকলেও, এদিন শিখর ধওয়ানকে ফেরাতে তারা ব্যর্থই হয়। এই মুূহূর্তে পঞ্জাব কিংসের সর্বোচ্চ রানও রয়েছে তাঁরই ঝুলিতে। কেন পঞ্জাব কিংসের প্রধান স্তম্ভ তাঁকে বলা হয় সেটাও হয়ত দিন বুঝিয়ে দিলেন গব্বর।

টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। কিন্তু গুজরাত টাইটান্সের ওপেনিং জুটি এদিন সুপার ফ্লপ। শুরুতেই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন শুভমন গিল। তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, তাঁকে মাঠ ছাড়তেই হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও একটা ধাক্কা। সেই ধাক্কাটা দেন কাগিসো রাবাডা। ঋদ্ধিমান সাহাকে ২১ রানে থামিয়ে দেন তিনি।

রান পাননি হার্দিক পান্ডিয়া এবং ডেভিড মিলারও। যদিও পঞ্জাব শিবিরে তখনও স্বস্তি ছিল না। কারণ গুজরাতের হয়ে এবার দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন রাহুল তেওয়াটিয়া ও রশিদখান। আর সেই সময়ই পঞ্জাবের ত্রাতা কাগিসো রাবাডা। তাঁর দুর্ধর্ষ স্পেলেই মাঠ ছাড়তে হয় এই দুই তারকাকে। আর সেইসঙ্গেই গুজরাত টাইটান্সের বড় রানের আশাও কার্যত শেষ। সাই সুদর্শন শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে গেলেও, দলের রান দেড়শো টপকাতে সাহায্য করতে পারেনি। তাঁর ৬৫ রানের ইনিংসে ভর করে ১৪৩ রানেই থামে গুজরাত টাইটান্স।

কম রানের ম্যাচ হলেও, প্রতিপক্ষ শিবিরের বোলারদেরকথা মাথায় রেখে প্রথম থেকেই এদিন যথেষ্ট সাবধানী ছিলেন শিখর ধওয়ান। জনি বেয়ারস্টো অবশ্য ১ রানেই ফেরেন। পঞ্জাবের চিন্তা বলতে এদিন এটুকুই ছিল। এরপরই ভানুকা রাজাপক্সেকে নিয়ে পার্টনারশিপ গড়ার কাজটা শুরু করে দেন শিখর ধওয়ান। আর তাদের ৮৭ রানের পার্টনারশিপেই গুজরাতের হারটা নিশ্চিত হয়ে যায়। যদিও শেষপর্যন্ত মাঠে থাকতে পারেননি ভানুকা রাজাপক্সে। কিন্তু ২৮ বলে ৪০ রানের ইনিংসটা খেলে, পঞ্জাবের জয়টা পাকা করে দিয়ে যান।

প্রথম পর্বের ম্যাচে গুজরাতের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছিল পঞ্জাব কিংস

এছাড়া শ্খির ধওয়ান তো ক্রিজে ছিলেনই। তাঁর দক্ষ ব্যাটে এদিন গুজরাত বোলারদের ওপর শাসন চালান তিনি। ৬২ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলে পঞ্জাব কিংসকে শুধু জেতালেনই নয়, প্রথম পর্বে হারের মধুর প্রতিশোধও নিলেন তিনি। আর শেষ মুহূর্তে লিভিংস্টোনের একটা ঝোরো ইনিস। তাঁর ১০ বলে ৩০ রানের ইনিংসে ৪ ওভার ১ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি। মহম্মদ সামিকে এক ওভারে তিনটে ছয় ও দুটো চার মেরেই সময়ের অনেক আগেই ম্যাচ জিতিয়ে দেন পঞ্জাবকে।

close whatsapp