আইপিএলের মাঝেই করোনায় আক্রান্ত দিল্লি ক্যাপিটালস ফিজিও প্যাটট্রিক ফারহার্ত, ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা
আপডেট করা - Apr 15, 2022 7:39 pm

যে সমস্যা এড়াতে এত বিধি-নিষেধ এবং কড়াকড়ি আরোপ করেছিল বিসিসিআই, তা আটকাতে পারল না তারা। আইপিএলের দু সপ্তাহ গড়াতে না গড়াতেই করোনার হানা। আর তাতেই চিন্তার ভাঁজ বোর্ড কর্তা থেকে আইপিএল কর্তাদের। দিল্লি ক্যাপিটালসের ফিজিও প্যাটট্রিক ফারহার্ত করোনায় আক্রান্ত। আপাতত টিম হোটেলেই আইসোলেশনে রয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে গোটা দলকেই আইসোলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার দিল্লি ক্যাপিটালস বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জর্স বেঙ্গালুরু ম্যাচ হওয়া অনিশ্চয়তার মুখে।
দীর্ঘ দুবছর পর আইপিএল ফিরেছে ভারতের মাটিতে। কিন্তু করোনার ভ্রুকুটি ছিলই। যদিও বেশ কয়েকমাস ধরে করোনার গ্রাফ নীচের দিকেই ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বহু সাবধানতা অবলম্বন করে দেশের মাটিতে আইপিএল আয়োজনের ব্যবস্থা করেছিল বোর্ড। বিভিন্ন রাজ্যে নয়, একটি রাজ্যেই এবারের আইপিএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বোর্ড। সেইসঙ্গে কঠোর বিধি-নিষেধ মেনেই চলছিল এবারের আইপিএল।
কিন্তু করোনার হানা কিন্তু আটকাতে ব্যর্থই হলেন বোর্ড কর্তারা। এত বিধি-নিষেধ মেনে চলা সত্ত্বেও শুক্রবার দিল্লি ক্যাপিটালসের ফিজিও প্যাটট্রিক ফারহার্ত করোনার শিকার হয়েছেন। নিয়ম অনুয়ায়ী প্রতিদিনই ক্রিকেটার থেকে সমস্ত কোচিং স্টাফদের করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। শুক্রবারের পরীক্ষাতেই প্যাটট্রিক ফারহার্তের ফল পজিটিভ এসেছে। আর তা দেখে চিন্তা বেড়েছে বোর্ড কর্তা থেকে আইপিএল কর্তাদের। ইতিমধ্যেই প্যাটট্রিক ফারহার্ত তো বটেই, গোটা দিল্লি ক্যাপিটালস শিবিরকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
করোনায় আক্রান্ত দিল্লি ক্যাপিটালসের ফিজিও প্যাটট্রিক ফারহার্ত
পরপর তিনটি পরীক্ষা হবে দলের প্রতিটি ক্রিকেটারদের। শুক্রবার দুটো করোনা পরীক্ষা এবং শনিবার সকালে চূড়ান্ত করোনা পরীক্ষার ফলে যদি অন্যান্য আর কোনও ক্রিকেটার পজিটিভ না আসেন, তবেই মাঠে নামার অনুমতি পাবে দিল্লি ক্যাপিটালস শিবির। শনিবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে মাঠে নামার কথা রয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালসের।
গতবারও ঘরের মাঠেই আইপিএল শুরু করেছিল বোর্ড। সেইসঙ্গে দর্শক প্রবেশেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছিল সেখানে। কিন্তু এমনইভাবে আইপিএলের ম্যাচ কয়েকদিন চলার পরই একের পর এক ক্রিকেটার থেকে কোচিং স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর সেজন্যই মাঝপথে দেশের মাটিতে স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল আইপিএল। এরপরই দেশের বাইরে ক্যাশরিচ লিগ সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
গতবারও মাঝপথেই করোনা হানায় স্থগিত হয়ে গিয়েছিল আইপিএল
কিন্তু এবারে যাতে তেমন কিছু না হয় সেদিকেই বাড়তি নজর ছিল বিসিসিআই কর্তাদের। ওমিক্রণের চোখ রাঙানি থাকলেও, শেষপর্যন্ত সমস্ত দিক বিচার বিবেচনা এবং যথার্থ ব্যবস্থা নিয়েই এবারের আইপিএল দেশে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরইমাঝে অবশ্য আইপিএলের মঞ্চে ২৫ শতাংশ দর্শক প্রবেশেরেও অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রথম দু সপ্তাহ সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু হঠাত্ই দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় চিন্তা আইপিএলের ভবিষ্যত্ নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন তোলা শুরু হয়েছিল। সেইসঙ্গে এতকিছু ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও কেন করোনা হল, তা নিয়েও কিন্তু প্রশ্ন একটা থেকেই যায়।