পৃথ্বী এবং ওয়ার্নারের পার্টনারশিপটাই ম্যাচটা বের করে দিয়েছিল, ম্যাচ শেষে মেনে নিলেন শ্রেয়স আইয়ার

Shreyas Iyer
Shreyas Iyer. (Photo Source: Twitter)

ডেভিড ওয়ার্নার এবং পৃথ্বী শয়ের ব্যাটিং পার্টনারশিপটাই যে তাদের হাত থেকে ম্যাচটা বের করে দিয়েছিল,  তা মেনে নিতে দ্বিধা নেই কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। ম্যাচ শেষেই নিজেদের ব্যর্থতা নিয়ে অকপট স্বীকারক্তি শ্রেয়সের। সেই মুহূর্তে তাদের বোলারদের যেমন পারফরম্যান্স করা উচিত্ ছিল, তা করতে পারেনি তারা। এদিন দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধেই বিজয়রথ থেমে গিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের। ৪৪ রানে হারতে হয়েছে কলকাতার নাইটদের।

আইপিএলের মঞ্চে এদিনই প্রথম অর্ধশতরান পেয়েছেন শ্রেয়স আইয়ার। কিন্তু দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে সেই লড়াই কাজে আসেনি তাঁর। কলকাতার নাইটরা এদিন দিল্লির বিরুদ্ধে কার্যত বিধ্বস্ত হয়েছে। যদিও চেষ্টাটা তারা চালিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তা ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল না। এদিন কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে রানের পাহাড় গড়ে তুলেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। সেটাই পেরোতে পারেননি তারা।

এদিন টস জিতে দিল্লি ক্যাপিটালসকেই প্রথম ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিয়েছিলেন নাইট অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। আর সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছিল, তা বুঝতে হয়ত এখন আর বাকি নেই তাঁর। শুরু থেকেই দুর্ধর্ষ ফর্মে ছিলেন পৃথ্বী শ এবং ডেভিড ওয়ার্নার। দিল্লি ক্যাপিটালসের বড় রানের ভিতটা তাদের পার্টনারশিপই তৈরি করে দিয়েছিল। আর বকিটা তো শার্দূল ঠাকুর নিজেই করে দিয়েছিলেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে এদিন ২১৫ রান করেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস।

দিল্লির ওপেনিং পার্টনারশিপ যে ম্যাচটা বের করে দিয়েছিল, তা মানতে দ্বিধা নেই শ্রেয়স আইয়ারের

ম্যাচ শেষে বারবার সেই কথাই উঠে এসেছে শ্রেয়স আইয়ারের মুখে। তিনি জানিয়েছেন, “প্রথম ওভার থেকেই তারা শুরুটা খুব ভাল করেছিল। পৃথ্বী শুরু থেকেই প্রভাব বিস্তার করেছিল, আর সত্যিই সেই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত্ ছিল আমাদের তা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। প্রথম থেকেই তারা একটা ভাল পার্টনারশিপ তৈরি করেছিল। আর সেটাই অন্তত প্রথম দশ ওভার পর্যন্ত তাদের মোমেন্টামটা তৈরি করে দিয়েছিল। সেই মুহূর্তে রান আটকানোটা খুবই কঠিন কাজ ছিল। আর এই পার্টনারশিপটাই সমস্ত মোমেন্টাম বদলে দিয়েছিল”।

যদিও দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটিংয়ের সময় নারিনের দুই উইকেট খানিক্ষণের জন্য নাইটদের লড়াইয়ে আনলেও, বেশীক্ষণ দিল্লিতে আটকে রাখতে পারেনি তারা। শেষ মুহূর্তে ব্যাট করতে নেমে রানের ঝড় তোলেন শার্দূল ঠাকুর। তাঁর ঝোরো ইনিংসে ভর করেই ২১৫ রানে পৌঁছে গিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে কেকেআর প্রথমের দিকে লড়াইটা দিলেও, সময় যত এগিয়েছে একের পর এক গুরুত্বূর্ণ উইকেট খুইয়ে ততটাই পিছিয়ে পড়েছিল নাইট রাইডার্স। মাঝে অবশ্য শ্রেয়স আইয়ারের ইনিংসটা খানিকটা হলেও নাইটদের আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু তিনি ৫৪ রানে ফিরতেই সব আশা শেষ হয়ে যায়। আর বল হাতে কেকেআরকে শেষ করতে এদিন দিল্লির নায়ক ছিলেন কুলদীপ যাদব।

যদিও এই একটা হারে একেবারেই ভেঙে পড়তে নারাজ শ্রেয়স আইয়ার। এই ম্যাচ হারলেও, এখান থেকেও অনেক পজিটিভিটি পেয়েছে তারা। ভুল শোধরানোর পাশাপাশি সেই পজিটিভিটিই পরের ম্যাচ থেকে কাজে লাগাতে চায় নাইট রাইডার্সরা। একইসঙ্গে এদিন তাদের ব্যাটিংও যে ঠিকঠাকভাবে পরিকল্পনামাফিক হয়নি তাও জানাতে ভোলেননি শ্রেয়স আইয়ার।

প্রথম থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল ১২ রানরেট নিয়ে এগোনো। কিন্তু সেই পরিকল্পনাতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। যদিও এখন আর এসব নিয়ে নাইটরা ভাবছে না। পরের ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে চায় নাইট রাইডার্স।

close whatsapp