মহম্মদ সামির স্পেল ও রাহুল তেওয়াটিয়ার ঝোরো ইনিংসে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু হার্দিকের গুজরাত টাইটান্সের

Rahul Tewatia
Rahul Tewatia. (Photo Source: IPL/BCCI)

ম্যাচের শুরুতেই মহম্মদ সামির সেরা তিন উইকেট তুলে নেওয়া গুজরাতের জয়ের ভিতটা গড়েই দিয়েছিল। রাস্তা তৈরি ছিল, সেখানে শুধু ব্যাটারদের ঠিকঠাক ভাবে এগোনোর অপেক্ষা ছিল। সেই কাজটাই নিখুঁতভাবে করে আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই জয় হাসিল করে নিল গুজরাত টাইটান্স। আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই লখনউ সুপার জায়ান্টস শিবিরকে ৫ উইকেটে হারিয়ে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করল হার্দিক পান্ডিয়ার গুজরাত টাইটান্স। তবে ম্যাচের আসল কারিগড় কিন্তু এদিন মহম্মদ সামি।

১০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নেপথ্য কারিগড় এদিন মহম্মদ সামি

আইপিএলের মঞ্চে এবার নতুন দুই দল হল গুজরাত টাইটান্স ও লখনউ সুপার জায়ান্টস। সোমবারই আইপিএলের মঞ্চে তাদের অভিষেক হয়। লখনউয়ের অধিনায়কের তকমা রয়েছে লোকেশ রাহুলের গায়ে। অন্যদিকে হার্দিক পান্ডিয়ার কাঁধে এবার গুজরাত টাইটান্সের দায়িত্ব। লো স্কোরিং ম্যাচ। লড়াইটা হল ঠিকই, কিন্তু গুজরাতের বিরুদ্ধে জেতার জন্য সেটা হয়ত যথেষ্ট হল না। ব্যাট হাতে আয়ূষ বাদোনির লড়াইয়ের সম্মান শেষপর্যন্ত রাখতে পার না লখনউ সুপার জায়ান্টস।

আইপিএলের অভিষেক ম্যাচে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু গুজরাত টাইটান্সের

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন হার্দিক পান্ডিয়া। দীর্ঘদিন পর ফের ওয়াংখেড়েতে নামলেন তিনি। তবে এবার অধিনায়কের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। লখনউ সুপার জায়ান্টসের এবার বিধ্বংসী ওপেনিং জুটি। যদিও হার্দিকের সামি অস্ত্রে শুরুতেই লক্ষ্যভেদ। ম্যাচ শুরুর প্রথম বলেই লোকেশ রাহুলকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ সামি। পরের ওভারে এসেই কুইন্টন ডিকককেও তিনিই ফেরান। চাপ বাড়তে শুরু করেছে সেই সময় থেকেই। এরপর আবারও সামির আঘাত। এবার সাজঘরে ফেরেন মনীশ পান্ডে। মাত্র ২০ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে লখনউয়ের একশো রান টপকানো সেই সময় চ্যালেঞ্জের মুখে।


https://twitter.com/Mittul_253/status/1508504408291610632

তখন ক্রীজে দীপক হুডা। আভিন লুইসও সাজঘরে ফিরে যান কিছুক্ষণের মধ্যে। লখনউয়ের রান তখন ৪ উইকেটে ২৯। সদ্য অভিষেক হওয়া আয়ূষ বাদোনিকে নিয়ে সেই জায়গা থেকে লড়াই শুরু হুডার। অভিষেক ম্যাচেই এদিন দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স বাদোনিরও। মাত্র ২২ বছর বয়সেই, রশিদ খান, লোকি ফর্গুসনদের বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ একটা লড়াই দেন তিনি। এই দুই ক্রিকেটারের পার্টনারশিপের সৌজন্যেই লড়াই করার স্কোরে পৌঁছেছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। দীপক হুডা করেন ৪১ বলে ৫১ রান এবং আয়ূষ বাদোনি করেন ৪১ বলে ৫৪ রান। শেষপর্যন্ত লখনউ করে ১৫৮ রান।

জিততে হলে লখনউয়র তরফ থেকে দরকার ছিল একটা জোরদার বোলিং পারফরম্যান্স। আর দুশমন্ত চামিরা হাত থেকে সেই শুরুটা হয়েছিলও ভালই। শুভমন গিল, বিজয় শঙ্করদের ম্যাচের শুরুতেই ফিরিয়ে দেন দুশমন্ত চামিরা। ১৫ রানের মধ্যেই দু উইকেট খোয়ায় গুজরাত। ম্যাথু ওয়েডের সঙ্গে সেই জায়গা থেকে গুজরাতের রান এগোনোর দায়িত্বটা নেন হার্দিক পান্ডিয়া। বহুদিন পর মাঠে যেন হার্দিক পান্ডিয়াকে সেই পুরনো ছনদে পাওয়া গেল।
https://twitter.com/Royals_FC_/status/1508504829496229895

কিন্তু বড় রান পেতে ব্যর্থ তিনি। ৩৩ রানে থামতে হয় হার্দিক পা্ন্ডিয়াকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৩০ রানে সাজঘরে ফেরেন ম্যাথু ওয়েডও। ফের ম্যাচ যেন লখনউ সুপার জায়ান্টসের দখলে চলে যায়। রাহুল তেওয়াটিয়া ও ডেভিড মিলার মাঠে থাকলেও, লখনউ বোলারদের হিসাবী বোলিং ক্রমস চাপ বাড়াতে থাকে গুজরাতের ওপর। এরপরই দুই ওভারে রাহুল তেওয়াটিয়ার কয়েকটা বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি ম্যাচটা গুজরাতের পক্ষে নিয়ে চলে আসে। যদিও তখনও পুরোপুরি চাপমুক্ত হতে পারে নি গুজরাত।

খেলাায় শেষপর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। শেষ ওভারে গুজরাতের জিততে দরকার ছিল ১১ রান। অভিনব সদরঙ্গানির দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্সেই ম্যাচ জিতে নেয় গুজরাত। তাঁর পরপর দু বলে দুটো বাউন্ডারিই এদিন লখনউয়ের সমস্ত আশা শেষ করে দেয়। রাহুল তেওয়াটিয়া করে ২৪ বলে ৪০ এবং শেষ মুহূর্তে ৭ বলে ঝোরো ১৫ রান অভিনবের।

close whatsapp