ঋষভের ঝোরো ৯৬ ও হনুমার অর্ধশতরানে ভর করে প্রথম দিনের শেষে ফ্রন্টফুটে ভারত

Rishabh Pant
Rishabh Pant (Photo source: Twitter)

বিরাট কোহলির শততম টেস্ট। সেই ম্যাচেই তাঁকে জয় উপহার দিতে চায় টিম ইন্ডিয়া। এই লক্ষ্যে শুরুটা খুব একটা খারাপ করল না ভারতীয় দল। ঋষভ পন্থের ঝোরো ব্যাটিং এবং হনুমা বিহারীর গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ভর করে প্রথম দিনের শেষে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খানিকটা ফ্রন্টফুটেই টিম ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় দিন বড় রানের দিকেই তাকিয়ে ভারতীয় দল। ক্রিজে রয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন। প্রথম দিনের শেষে ভারতীয় দলের রান ৬ উইকেটে ৩৫৭।

দক্ষিণ আফ্রিকার পর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেও দুর্ধর্ষ একটা ইনিংস খেললেন ঋষভ পন্থ। শুধু একটাই আফসোস, আবারও একটা শতরান মাঠে ফেলে গেলেন ভারতীয় দলের তারকা উইকেটকিপার ব্যাটার ঋষভ পন্থ। তবে ভারতের বড় রানের রাস্তাটা তিনিই প্রশস্ত করে দিয়ে গেলেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে কঠিন সময়ে ঋষভের একটা ধোরো ইনিংসই এদিন ম্যাচের মোরটা ঘুরিয়ে দেয়। আর দিনের শেষে তাঁর সৌজন্যেই সাড়ে তিনশো রানের গন্ডী টপকাতে পারে চিম ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় দিন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে কত বড় রানের পাহাড়া ভারত তৈরি করতে পারে, সেটা তো সময়ই বলবে।

নতুন বছরে ধরের মাঠে প্রথম টেস্ট। মোহালীতে ৫০ শতাংশ সমর্থকের সামনে নেমেছিল দুই দল। প্রথম দিনের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ভারতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে এদিনই অভিষেক হয় রোহিত শর্মার। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পিচের প্রকৃতি বুঝেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বড় রানের লক্ষ্য ছিল তাঁর। কিন্তু অধিনায়কত্বের অভিষেক ম্যাচে কিন্তু ব্যাট হাতে ব্যর্থ রোহিত শর্মা।

তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে এদিন ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন হনুমা বিহারী

বড় রান না করেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। মাত্র ২৯ রানেই এদিন সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে। সেখান থেকেই প্রথম লড়াইটা শুরু হনুমা বিহারীর। ময়াঙ্ক আগরওয়ালও ফেরেন ৩৩ রানে। শুরুতেই ৮০ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। হনুমা বিহারীর সঙ্গে সেখান থেকেইরান এগোনর কাজটা শুরু করেন বিরাট কোহলি।

মধ্যাহ্নভোজের পরও ম্যাচের রাশ ছিল এই দুই ক্রিকেটারের হাতেই। হনুমা বিহারির অর্ধশতরান সকলকেই ফের স্বস্তি ফিরিয়েছিল। পুজারার জায়গায় নেমে নিজেকে প্রমাণও করেছেন তিনি।  কিন্তু দ্বিতীয় সেশন শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই যেন ফের চিন্তা বাড়ে ভারতীয় দলের। চা বিরতির আগেই ফিরে যান বিরাট। ৪৫ রানে বিরাট কোহলি যখন ফেরেন তখন ভারতের রান ৩ উইকেটে ১৭০। যদিও তখনও ক্রিজে ছিলেন হনুমা বিহারী। তাঁর দক্ষ হাতেই তখন ভারতের বড় রানের স্বপ্ন।

সেঞ্চুরী হাতছাড়া হলেও, ঋষভের ঝোরো ৯৬ রানেই ভারতের বড় রানের ভিত মজবুত হয়েছে

ঋষভ পন্থকে নিয়ে লড়াইটাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন হনুমা। কিন্তু ফের ছন্দপতন। চা বিরতির পরই ৫৮ রানে থামতে হয় হনুমাকে। আর এমন সেট ব্যাটারকে মাঠ ছাড়তে হলে তখন তো চিন্তা বাড়াটাই স্বাভাবিক। শ্রীলঙ্কাহ বোলাররাও সেই সময় চাপ বাড়াতে শুরু করে। এই সময়ই নিজের ছন্দে খেলা শুরু ঋষভ পন্থের। তিনি কখনোই টেস্ট ক্রিকেটের মতো ধরে খেলতে পারেননা। এদিনও ঋষভ পন্থের ব্যাটে ছিল রানের ঝড়। আর তাতেই শ্রীলঙ্কার বোলিং লাইনআপ বিদধ্বস্ত হয়ে পড়ে। যে স্পিন বোলারদের দিয়ে ভারতের বেশীরভাগ উইকেট তুলে নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। তাদের বিরুদ্ধেই ভয়ঙ্কর দাপট দেখালেন। আর তাতেই দিনের শেষে ফ্রন্টফুটে ভারত।

৯৭ বলে ৯৬ রানের ঝোরো ইনিংস খেলেন তিনি। আর তাতেই ভারত সমস্ত বাধা পেড়িয়ে বড় রানের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে থাকে। শুদু একটাই আফসোস। এবারও সেঞ্চুরীটা পেলেন না ঋষভ পন্থ। ৯৬ রানেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে। মাঠ ছাড়ার সময় ঋষভ পন্থের সেই আফসোসটাই এদিন মিটছিল না। তাঁর ৯৬ রানের ইনিংসটি সাজানো  ৯টি বাউন্ডারি ও ৪টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। আফসোস একটাই সেঞ্চুরীটা এবারও হাতছাড়া হয়ে গেল তাঁর।

close whatsapp