১ কোটি থেকে ১১ কোটিতে লিভিংস্টোন, আইপিএলে এমনই বাজিমাত যাদের
আপডেট করা - Feb 14, 2022 3:03 pm

আইপিএলের মঞ্চ মানেই অনিশ্চয়তার খেলা। যার প্রতি পদে পদে রয়েছে নানান চমক। ২০২২ সালের মেগা নিলামও তার ব্যতিক্রম হল না। প্রত্যাশা যাদের নিয়ে ছিল তারা তো দাম পেয়েছেই। কিন্তু এমন বহু অনামী ক্রিকেটার এবার বিরাট অঙ্কে বিক্রি হয়েছেন তা হয়ত ভাবতেই পারেননি কেউ। যার উদাহরণ এবার আইপিএলের মঞ্চে দেখা গিয়েছে একের পর এক। কোনও ক্রিকেটারকে দেখা গিয়েছে ২০ লক্ষ টাকা বেস প্রাইজ থেকে পেয়ে গিয়েছেন ৫ কোটি টাকা। আবার কেই ১ কোটি থেকে শুরু করে পেয়েছে ১১ কোটি টাকা।
আইপিএলের দ্বিতীয় দিনই অবশ্য এমন চমকের দৃশ্য সবচেয়ে বেশী দেখা গিয়েছে। যা শুরু হয়েছিল লিয়াম লিভিংস্টোনকে দিয়ে। গতবার রাজস্থান রয়্যালসে ছিলেন তিনি। কিন্তু এবার তাঁকে না রাখারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস বাহিনী। এমনকী নিলামে যখন তাঁর নাম উঠেছিল, তারা বিড পর্যন্ত করেনি। কিন্তু দ্বিতীয় দিনসেই লিভিংস্টোনই সবচেয়ে বেশী দামে বিক্রি হয়েছে। ১১.৫০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছিলেন লিভিংস্টোন।
১ কোটি টাকা ন্যূনতম মূল্য থেকে লিভিংস্টোন বিক্রি হন ১১.৫০ কোটি টাকায়
তাঁর ন্যূনতম মূল্য এবার ধার্য হয়েছিল ১ কোটি টাকা। কিন্তু তাঁর নাম উঠতেই শুরু হয়েছিল বিরাট লড়াই। প্রথম তেকেই লিভিংস্টোনকে নিতে ঝাপিয়ে পড়েছিল পঢ্জাব কিংস। লড়াই চালিয়েছিল গুজরাত টাইটান্সও। কিন্তু শেষপর্যন্ত তাঁকে নিয়ে বাজিমাত করেছিল পঞ্জাব কিংসই। একইসঙ্গে এবারের আইপিএলে বিদেশী হিসাবে সর্বোচ্চ দামও পেয়ে গিয়েছেন ইংল্যান্ড লিয়াম লিভিংস্টোনই।
টিম ডেভিড ও খলিল আহমেদও একেবারে কম ন্যূনতম মূল্য থেকে শুরু করে বিরাট দাম পান
একইসঙ্গে সকলকে চমকে দিয়েছেন আরেক বিদেশী টিম ডেভিড। যিনি এবার গিয়েছেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শিবিরে। নিলামের দ্বিতীয় দিনের শেষ লগ্নে যখন তাঁর নাম উঠেছিল, তখন থেকেই এই ক্রিকেটারকে নেওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে ছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তাদের পরিকল্পনা একটাই। লোয়ার ব্যাটিং অর্ডারে একজন পাওয়ার হিটার প্রয়োজন। এতে কায়রণ পোলার্ডের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে। আর দিনের শেষে সেই পরিকল্পনাতে সফলও হয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তাঁকে নিয়ে দড় টানাটানি চললেও শেষপর্যন্ত টিম ডেভিডতে তুলে ৮.২৫ কোটি টাকায় তুলে নিয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।
তাঁর ন্যূনতম মূল্য এবার ছিল ৪০লক্ষ টাকা। গতবার বেঙ্গালুরুতে থাকলেও, তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিল তারা। সেই তারকাকে শুরু থেকেই নেওয়ার লড়াইয়ে ছিল আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফলতম দল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আর তাঁকে দলে নিতে পেরে এখন খানিকটা হলেও স্বস্তিতে রয়েছে চারবারের আইপিএল জয়ী মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।
বিদেশী তারকাদের পাশাপাশি দেশীয় তরুণরাও অবশ্য পিছিয়ে নেই এই প্রতিযোগিতায়। দ্বিতীয় দিনই সকলকে চমকে দিয়েছেন খালিল আহমেদ। নিজের ন্যূনতম মূল্যের প্রায় দশ গুন বেশী মূল্যে এবার দিল্লি ক্যাপিটালসে গিয়েছেন খালিল আহমেদ। আর তাতেই তমকে গিয়েছেন সকলে। গতবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তাঁকে কিনেছিল ৩ কোটি টাকায়। এবার খলিলই বিক্রি হয়েছে ৫.২৫ কোটি টাকায়। খলিলের ন্যূনতম মূল্য ছিল এবার ৫০ লক্ষ টাকা।
একইরকমভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোমারিও শেফার্ডকে নিয়েও এবারের আইপিএলের নিলামের মঞ্চে বেশ জোরদার লড়াই দেখা যায়। তাঁকে নিয়ে ৭৫ লক্ষ টাকা বেসপ্রাইজে এবারের আইপিএল মেগা নিলামে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু শুরু থেকেই এই তারকাকে নিয়ে লড়াইয়ে ছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ৭৫ লক্ষ টাকায় ওঠা সেই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার বিক্রি হয়েছে প্রায় দশগুন টাকা ৭.৭৫ কোটি টাকায়। অন্যদিকে এবারে সকলের চোখ ছিল ভারতের অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের দিকেও। সেখানেই বাজিমাত করেছেন রাজ বাওয়া। ২০ লক্ষ টাকার ন্যূনতম মূল্যে উঠেছিলেন তিনি। সেই বাওয়াকেই পঞ্জাব কিংস তুলে নেয় ২ কোটি টাকায়। অর্থাত তাঁর বেস প্রাইজের থেকে ১০ গুন বেশী টাকায় তাঁকে নেয় তারা।
কম ন্যূনতম মূল্য থেকে বিরাট অঙ্কে পৌঁছেছেন যারা
| খেলোয়াড় ন্যূনতম মূল্য প্রাপ্ত দাম |
| লিয়াম লিভিংস্টোন ১ কোটি ১১.৫০ কোটি |
| টিম ডেভিড ৪০ লক্ষ ৮.২৫কোটি |
| রোমারিও শেফার্ড ৭৫ লক্ষ ৭.৭৫ কোটি |
| খলিল আহমেদ ৫০ লক্ষ ৫.২৫ কোটি |
| রাজ বাওয়া ২০লক্ষ ২.০০ কোটি |