আইপিএল মেগা নিলামে যে তিনটি দলের নজর থাকবে হর্ষল প্যাটেলের দিকে

আইপিএলের গত সংস্করণে ৩২ উইকেট নিয়ে পার্পল ক্যাপ অর্জন করেছিলেন হর্ষল

Harshal Patel
Harshal Patel. (Photo Source: IPL/BCCI)

২০১২ সালে নিলামের বাইরে থেকে আরসিবি দলে যোগ দেওয়ার পর সেই বছরেই হর্ষল প্যাটেল আইপিএলে অভিষেক করেন৷ ওই ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে ছয় বছর কাটানোর পর, মাঝখানে তিনি তিন বছরের জন্য দিল্লী ক্যাপিটালসে যান। তারপর আবার ২০২১ সালে আরসিবিতে ফেরত আসেন। ২০১৮ সালের নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালস তাঁকে ২০ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ করেছিল৷

এই বছরের নিলামে হর্ষল বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। বোলিং অলরাউন্ডার আইপিএল ২০২১-এ ১৪.৩৪-এর দুর্দান্ত গড়ে ১৫ ম্যাচে রেকর্ড-সমান ৩২ উইকেট নিয়েছিলেন। তাঁর ডেথ বোলিং বিশেষত্ব এবং লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং দক্ষতা তাঁকে আসন্ন মেগা নিলামে একটি আকর্ষণীয় খেলোয়াড় করে তুলেছেন।

আইপিএলে মোট ৬৩টি ম্যাচ খেলে হর্ষল ৭৮টি উইকেট নিয়েছেন ৮.৫৮ ইকোনমি রেটে। গত বছর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে হ্যাট-ট্রিকও করেছিলেন তিনি। এবারের নিলামে হর্ষল নিজের ন্যূনতম মূল্য ধার্য করেছেন ২ কোটি টাকা। তাঁর গত বছরের পারফর্ম্যান্স বিবেচনা করলে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁর জন্য ৮-১০ কোটি টাকা বা তার বেশী অর্থ খরচ করতেও দ্বিধা করবে না।

দেখে নেওয়া যাক আসন্ন আইপিএল নিলামে যশ ধুলকে দলে পেতে কোন তিনটি দল সবচেয়ে বেশী আগ্রহী হবে

১. রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর

আরসিবি নিলামের আগে তিনজনকে খেলোয়াড়কে ধরে রাখলেও, তার মধ্যে হর্ষল জায়গা পাননি। তবে দলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে হর্ষলকে নিলাম থেকে তুলে নিতে তারা আগ্রহী। মূলত দুটি কারণে হর্ষলকে ফিরিয়ে আনতে তারা আগ্রহী হবে। প্রথমত, গত সংস্করণে আরসিবির হয়ে তাঁর নজরকাড়া পারফর্ম্যান্স। দ্বিতীয়ত ২০২১ আইপিএলের আগে আরসিবি বিশেষ আন্তঃদলীয় খেলোয়াড় বিনিময়ের নিয়ম ব্যবহার করে হর্ষলকে দলে নিয়েছিল এবং নেওয়ার সময় বলেছিল হর্ষলের মধ্যে তারা এমন কিছু দেখেছে যা তাঁকে বিশেষ করে তোলে।

দল ইতোমধ্যেই মহম্মদ সিরাজকে ধরে রেখেছে। এখন হর্ষলকে ফেরাতে পারলে ভারতীয় পেস বোলিং নিয়ে তারা অনেকটাই নিশ্চিন্ত হতে পারে। হর্ষলও চেনা দলে ফিরে গেলে সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন এবং ২০২১-এর পারফর্ম্যান্স পুনরায় করে দেখাতে আত্মবিশ্বাসী হবেন।

২. লখনউ সুপার জায়ান্টস

৫৮ কোটি টাকার বিশাল অর্থ হাতে নিয়ে নিলামে নামবে নতুন যুক্ত হওয়া দল লখনউ। আইপিএলে এর আগে দলটির খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা এমন ক্রিকেটারের দিকে নজর দেবে যারা আইপিএলে নিজেদের ছাপ রেখেছেন এবং জানেন আইপিএলে কীভাবে খেলতে হয়। অধিনায়ক কেএল রাহুল হর্ষলের মতো দীর্ঘদিন আইপিএলে খেলা ক্রিকেটারকে পেয়ে আশ্বস্ত হবেন।

এ ছাড়া লখনউয়ের হোম গ্রাউন্ড ভারতরত্ন শ্রী অটল বিহারী বাজপায়ী স্টেডিয়ামে যে’কটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে সেগুলিতে দেখা গেছে গতি বৈচিত্র্যে সক্ষম বোলাররা সাফল্য পেয়েছেন। হর্ষল এই কাজটি করার ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত। তাঁর স্লোয়ার ডেলিভারি অনেক বড় ব্যাটারকেই নাকাল করে ছেড়েছিল গত আইপিএলে।

৩. চেন্নাই সুপার কিংস

সম্প্রতি একটি আলাপচারিতায় হর্ষল প্রকাশ করেছিলেন যে তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীনে খেলতে আগ্রহী। অন্যদিকে ধোনিও হর্ষলের মতো এমন একজন অভিজ্ঞ বোলারকে পেয়ে খুশি হবেন যে জানে চাপের মুহূর্তে কীভাবে পারফর্ম করতে হয়। নিলামে সিএসকের বরাবর নজর থাকে পরিচিত ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দিকে। এবারও তার অন্যথা হবে না এবং সেই কারণেই সিএসকে হর্ষলের মতো একজন বোলারকে দলে যুক্ত করতে উৎসাহী হবে।

চেন্নাইয়ের হয়ে এক দশক ধরে জড়িত ডোয়েন ব্রাভোর বয়স এখন ৩৮ বছর। তাঁকে আবার দলে ফিরিয়ে নিতে সিএসকে আগ্রহী হবে কি না বা নিলেও তিনি কতদিন আইপিএলে খেলতে পারবেন সেই নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সিএসকে এখন থেকেই হর্ষলকে ব্রাভোর যোগ্য বিকল্প হিসেবে ভাবতে পারে। ব্রাভোর মতোই হর্ষলের মূল অস্ত্র গতি বৈচিত্র্য। দুজনেই মূলত ডেথ ওভারে বোলিং করেন। হর্ষলের ব্যাটিং দক্ষতাও ব্রাভোর চেয়ে কম নয়। সেক্ষেত্রে হর্ষলের জন্য চেন্নাই বিপুল অর্থ নিয়ে ঝাঁপালে তা একেবারেই অপ্রত্যাশিত হবে না।

close whatsapp