“মুস্তাফিজুর চ্যাম্পিয়ন বোলার” – উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন কুমিল্লা অধিনায়ক ইমরুল কায়েস

চট্টগ্রামের বিরুদ্ধে ২৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর

Mustafizur Rahman
Mustafizur Rahman. (Photo by Munir uz ZAMAN / AFP)

যতই প্রথম ওভারে ১৪ রান দিয়ে বসুন না কেন, ম্যাচের শেষে তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান দেখে কারওরই মনে থাকার কথা নয় ইনিংসের শুরুটা এতো খারাপ করেছিলেন। অভিজ্ঞতার একটা দাম সবসময় থাকেই, আর মুস্তাফিজুর রহমান সেই অভিজ্ঞতাকে সম্বল করেই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে পরের ৩ ওভারে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করলেন। ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে তুলে নিলেন চট্টগ্রামের মূল্যবান ৫ উইকেট।

এই উজ্জ্বল পারফর্ম্যান্সের পুরস্কারস্বরূপ ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হওয়ার পাশাপাশি অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের প্রশংসাও এসেছে। ৮১ রানে অপরাজিত থেকে নিজেও ফর্মে ফিরেছেন ইমরুল। কিন্তু তাঁর গলাতে নিজের কথা নয়, বরং মুস্তাফিজুরের পারফর্ম্যান্সের জন্য প্রশস্তিবাক্য। তিনি বলেছেন, “মুস্তাফিজ অনবদ্য। সে যেরকম বোলার, ঠিক তেমনই পারফর্ম করেছে। তার জন্য ব্যাটারদের কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে।”

প্রথম ওভারে ১৪ রান দিলেও ভালোভাবে ফিরে আসার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান

মুস্তাফিজুরকে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই এমন ফর্মে দেখা যাবে, প্রত্যাশা কুমিল্লার অধিনায়কের। ইমরুল আরও বলেন, “মুস্তাফিজুর চ্যাম্পিয়ন বোলার। এরকম বোলার থাকলে অধিনায়কের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। ভরসা রেখে যেকোনো সময় বোলিংয়ে আনা যায়। হয় রান আটকে দেবে না হলে উইকেট বের করে আনবে। টুর্নামেন্টে ভালোভাবে এই কাজটা করে যাচ্ছে। আশা করি পুরো টুর্নামেন্টেই কাজটা ঠিকভাবে করে যাবে।”

বোলিংয়ে এসে প্রথম ওভারে ১৪ রান দিলেও ভেঙে পড়েননি মুস্তাফিজুর। দারুণভাবে প্রত্যাবর্তন করেছেন ক্ষুরধার বোলিং মেধা দিয়ে। মুস্তাফিজুর নিজের বোলিং সম্বন্ধে বলেছেন, “প্রথম ওভারে আমি খারাপ বল করিনি। আমি উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। তখন একটা উইকেট গেলে আমাদের জন্য ভালো হত। ওরা প্রথম ৬ ওভার খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। এর আগেও আমি ৫ উইকেট নিয়েছি। সব ক্ষেত্রেই একই অনুভূতি।”

এদিকে ভালো শুরু করেও ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ৮ ম্যাচে তিনটি জয় ও পাঁচটি পরাজয় নিয়ে লিগ তালিকার পঞ্চম স্থানে আছে তারা। হাতে বাকি আর মাত্র ২টি ম্যাচ। যদিও এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও প্লে-অফের আশা হারাচ্ছে না চট্টগ্রাম। দলের তরুণ পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী বলেন, “দল এভাবে হারলে কামব্যাক করা খুবই কঠিন। কিন্তু তরুণদের নিয়ে গড়া দল হয়েও আমরা প্রথম থেকেই প্রমাণ করেছি আমরা ভালো দল বা আমরা ভালো করতে পারি।”

এই বিপিএলের একমাত্র হ্যাট-ট্রিক করা বোলার আরও বলেছেন, “টুর্নামেন্টের আগে সবাই বলছিল ওরা তরুণ দল, কী করবে তার ঠিক নেই। প্রথম ৪-৫ ম্যাচে আমরা যা করেছি সেটা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। শেষ দুই ম্যাচেও তো অপ্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেওয়ার সম্ভাবনা আছে আমাদের। আমরা সেটার জন্যই চেষ্টা করব।”

close whatsapp