আইপিএল মেগা নিলামে যে তিনটি দলের নজর থাকবে মুজিব উর রহমানের দিকে
গতবার ন্যূনতম মূল্য দেড় কোটি টাকায় বিক্রি হওয়া মুজিব এবার আরও বেশী অর্থ পাবেন বলে আশা করা যায়
আপডেট করা - Feb 4, 2022 6:42 pm

মাত্র ২০ বছর বয়সেই টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে নিজের ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছেন আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমান। ২২টি আন্তর্জাতিক টি-২০তে তাঁর সংগ্রহে ৩২ উইকেট। সামগ্রিকভাবে টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে মোট ১৬৭টি ম্যাচ খেলে ১৮৫টি উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৬.৬২ ইকোনমি রেটে। আইপিএলে এখনও অবধি ১৯টি ম্যাচ খেলে মুজিব উর রহমান ১৯টি উইকেট নিয়েছেন।
এখনও অবধি পাঞ্জাব কিংস ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে আইপিএলে খেলেছেন তিনি। ২০১৮ থেকে ২০২০ অবধি পাঞ্জাব কিংসের হয়ে খেলার পর, ২০২১ সালের নিলামে তাঁকে কেনে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। যদিও দলে রশিদ খান ও মহম্মদ নবির মতো বিদেশীদের উপস্থিতি থাকায় তিনি মাত্র একটি ম্যাচে সুযোগ পান এবং ২ উইকেট তোলেন।
এবারের নিলামে তাঁর ন্যূনতম মূল্য ২ কোটি টাকা। মুজিবের সবচেয়ে বড় গুণ হল পাওয়ারপ্লের ওভারগুলিতে নিপুণ বোলিং করার ক্ষমতা। এই একটি গুণের কারণে তিনি বেশ কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে নয়নের মণি হবেন। মুজিব এই মুহূর্তে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ফরচুন বরিশালের হয়ে খেলছেন।
দেখে নেওয়া যাক আসন্ন আইপিএল নিলামে মুজিব উর রহমানকে দলে পেতে কোন তিনটি দল সবচেয়ে বেশী আগ্রহী হবে
১. রাজস্থান রয়্যালস
নিলামের আগে সঞ্জু স্যামসন, জস বাটলার ও যশস্বী জয়সওয়ালকে ধরে রাখা রাজস্থান বিগত বেশ কিছু মরসুম ধরেই একজন উইকেট নেওয়ার মতো স্পিনারের অভাবে ভুগছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা লেগ স্পিনার হিসেবে শ্রেয়াস গোপাল, মায়াঙ্ক মারকান্ডে, ইশ সোধি, রাহুল তেওয়াটিয়াদের খেলালেও কেউই ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলতে পারেননি। পার্ট-টাইম স্পিনার হিসেবে রিয়ান পরাগ, লিয়াম লিভিংস্টোনদের খেলানো হলেও এঁরা কেউই বল হাতে ম্যাচ জেতানোর মতো বোলার নন।
মুজিবকে দলে নিলে তিনি কেবল একজন উইকেট নেওয়ার মতো বোলারের অভাবই মেটাবেন না, তিনি রানের গতি রুখতেও সক্ষম। বিগত সংস্করণগুলিতে আরআর মাঝের ওভারে রানের গতি রুখতে ব্যর্থ হয়েছে। মুজিব এসে সেই সমস্যার সমাধান করতে পারেন। স্যামসনের মতো তরুণ অধিনায়ক মুজিবের মতো তরুণ ক্রিকেটারকে দলে পেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।
২. মুম্বই ইন্ডিয়ান্স
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সাম্প্রতিক অতীতে স্পিনারদের থেকে বেশী উইকেট পায়নি। রাহুল চাহার কিছু কিছু ম্যাচে ভালো খেললেও ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলতে ব্যর্থ। ক্রূণাল পান্ডিয়া ও জয়ন্ত যাদব রানের গতি মোটামুটি রুখে দিলেও উইকেট নেওয়ার ব্যাপারে তাঁরা তেমন সাফল্য পাননি। মুজিব এসে সেই সমস্যা সমাধান করতে পারেন। মুজিবের ভালো উচ্চতা থাকায় মুম্বইয়ের হোম গ্রাউন্ড ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের অতিরিক্ত বাউন্সকে কাজে লাগাতে পারবেন তিনি।
আরও একটি কারণে তিনি এমআই দলে উপযুক্ত সংযোজন হতে পারেন। মুম্বই সাধারণত তাদের প্রধান বোলার জসপ্রীত বুমরাহকে বেশী ওভার না দিয়ে তাঁকে ডেথ ওভারের জন্য ধরে রাখেন। মুজিব দলে সংযুক্ত হলে পাওয়ারপ্লের ওভারগুলোতে মুজিবকে দিয়ে নিশ্চিন্তে বোলিং করাতে পারবেন রোহিত শর্মা। সেক্ষেত্রে বুমরাহকে মাঝের ওভার ও ডেথ ওভারে অনায়াসে ব্যবহার করতে পারবেন অধিনায়ক।
৩. সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ
হায়দ্রাবাদের সঙ্গে পাঁচ বছর যুক্ত থাকা রশিদ খান এই বছর যুক্ত হয়েছেন আহমেদাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে। ৭৬ ম্যাচে মাত্র ৬.৩৩ ইকোনমি রেটে ৯৩ উইকেট নেওয়া বোলারের বিকল্প খোঁজা সহজ হবে না এসআরএইচ ম্যানেজমেন্টের পক্ষে। রশিদের ছেড়ে যাওয়া শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মুজিবের দিকে তাকালে ভুল করবে না।
গত বছরই সানরাইজার্স মুজিবকে দলে নিলেও স্থানের অভাবে এবং কম্বিনেশনের সমস্যায় তাঁকে খেলাতে পারেনি। এই বছর রশিদ না থাকায় দলে মুজিবকে স্থান দিতে কম্বিনেশনে বিশেষ পরিবর্তন করতে হবে না। তার ওপর তিনি এক বছর ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের লক্ষ্য, দর্শনের সঙ্গেও পরিচিত হবেন। মুজিবকে নিতে সানরাইজার্স বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ নিয়েই নিলামে ঝাঁপাবে বলে আশা করা যায়।