বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ২০২২ টিম প্রিভিউঃ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স

তারুণ্যের দিকে অতিরিক্ত নজর দেওয়ায় অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অভাবে ভুগতে পারে দল

Chattogram Challengers
Chattogram Challengers. (Photo Source: Facebook)

চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজি ২০১২ থেকেই বিপিএলের সঙ্গে জড়িত, তবে তখন নাম ছিল চট্টগ্রাম কিংস। তারপর ২০১৫তে নাম হল চট্টগ্রাম ভাইকিংস। এখন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স নাম নিয়ে তারা অষ্টম সংস্করণে নামবে। তবে শিরোপার লড়াইয়ে বাকি দলগুলিকে তারা কতটা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে সেই নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। 

মূলত তরুণ ব্রিগেডের দিকেই নজর দেওয়া হয়েছে দল গঠনের সময়। ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতা দলের ৩ তরুণকে নিয়ে এবার স্কোয়াড সাজিয়েছে চট্টগ্রাম। দলে আছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব, রেজাউর রহমান রাজা, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর মত তরুণরাও। আফিফ নিয়মিতই জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছেন ইদানীং। গত বিপিএলে চট্টগ্রামের হয়ে খেলে প্রচারের আলোয় আসা নাসুম আহমেদকে দলে জায়গা দেওয়া হয়েছে ড্রাফটের আগেই।

তাই বলে দলে অভিজ্ঞদের যে একেবারেই স্থান জোটেনি, তা কিন্তু নয়। মেহেদী হাসান মিরাজের মতো নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার আছেন। তাঁর সাথে বাংলাদেশের হয়ে একসময় নিয়মিত সুযোগ পাওয়া সাব্বির রহমানও আছেন। যাবতীয় বিতর্ক সরিয়ে রেখে তিনি চায়বেন আরও একবার জাতীয় দলে ঢোকার মতো পারফর্ম্যান্স করতে এই বিপিএলে। ড্রাফটের পর দলে নেওয়া হয়েছে এনামুল হক জুনিয়রকে। বয়স কম হলেও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানো জাকির হাসানও কিন্তু অভিজ্ঞদের মধ্যেই থাকবেন, কারণ ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি একটি উল্লেখযোগ্য নাম।

বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বড় নাম না হলেও নিজেদের দিনে কার্যকরী পারফর্ম করার ক্ষমতা রাখেন প্রত্যেকেই। বিপিএলে আগে খেলে যাওয়া ইংল্যান্ডের বেনি হাওয়েলকে অনেক সমর্থকেরই মনে থাকার কথা। তা ছাড়া খেলতে দেখা যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেনার লিউইস ও হাওয়েলের স্বদেশী উইল জ্যাকসকেও। ড্রাফট থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে দুই অভিজ্ঞ ক্যারিবীয় ক্রিকেটার চ্যাডউইক ওয়ালটন ও রায়াড এমরিটকে।

প্লেয়ার্স ড্রাফটে খুব বেশী খরচের পথে যায়নি চট্টগ্রাম। তাদের খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগামী ২১শে জানুয়ারি বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে মাঠে নেমে অষ্টম সংস্করণে নিজেদের যাত্রা শুরু করবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স স্কোয়াড 

সরাসরি চুক্তি

নাসুম আহমেদ, বেনি হাওয়েল (ইংল্যান্ড), কেনার লিউইস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ও উইল জ্যাকস (ইংল্যান্ড)।

ড্রাফট থেকে

শরিফুল ইসলাম, আফিফ হোসেন ধ্রুব, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, চ্যাডউইক ওয়ালটন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), রায়াড এমরিট (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), রেজাউর রহমান রাজা, সাব্বির রহমান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, মেহেদী হাসান মিরাজ, আকবর আলী ও নাঈম ইসলাম।

ড্রাফটের পর

এনামুল হক জুনিয়র ও জাকির হাসান।

শক্তি

দলের তারুণ্যই দলের প্রধান শক্তি। শামীম হোসেন, শরিফুল ইসলাম, আকবর আলী, আফিফ হোসেন ধ্রুবদের দিকে নজর থাকবে। তরুণরাই হয়ে উঠবেন দলের মূল চালিকাশক্তি।

দুর্বলতা

বিদেশী ব্রিগেডের দিকে আরও নজর দেওয়া উচিত ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে। ডেথ ওভারে পাওয়ারহিটিংয়ের জন্য উপযুক্ত বিস্ফোরক ব্যাটারের অভাব অনুভূত হবে।

এক্স ফ্যাক্টর

দলকে সাফল্য পেতে হলে মেহেদী হাসান মিরাজকে বড় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। ব্যাটিং, বোলিং দুই বিভাগের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি তরুণ ক্রিকেটারে ভরা স্কোয়াডকে কীভাবে পরিচালনা করেন, তার উপরেই নির্ভর করছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের সাফল্য।

close whatsapp