কেপটাউনে হেরে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন ভঙ্গ বিরাট কোহলিদের, ২-১ সিরিজ হার টিম ইন্ডিয়ার
আপডেট করা - Jan 14, 2022 6:13 pm

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইতিহাস গড়া হল না ভারতের। আবারও একটা ব্যর্থতা। প্রোটিয়াদের ঘরের মাঠে সিরিজে এগিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা করতে পারলেন না বিরাট কোহলি। বছরের শুরুটা হার দিয়েই করতে হল বিরাট কোহলি,, রাহুল দ্রাবিড়দের। শেষ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭ উইকেটে হার ভারতের। ২৯ বছরের খরা কাটাতে পারলেন না বিরাট কোহলিরা। কেপটাউনে হেরে প্রোটিয়াদের কাছে ২-১-এ সিরিজ হারল টিম ইন্ডিয়া।
ম্যাচের ভাগ্যটা তৃতীয় দিনই কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা যখনই একশো রানের গন্ডী টপকে গিয়েছিল,তখনই ম্যাচের চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। তবুও একটা আশা ছিল ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে। চতুর্থ দিন যদি কোনও চমক দেখাতে পারে ভারতীয় বোলাররা। প্রোটিয়াদের ঘরের মাঠে সেই জায়গা থেকে ম্যাচ জিততে একটা মিরাকেলই হয়ত ভারতকে বাঁচাতে পারত। কিন্তু চতুর্থ দিন সেটা দেখাতে পারলেন না ভারতীয় বোলাররা।
প্রথম টেস্টে ৩০০ রান বাদ দিলে, পরপর দু টেস্টের একটা ইনিংসেও ৩০০ রানের গন্ডী টপকাতে পারেনি ভারতীয় দল। চূড়ান্ত ব্যাটিং ব্যর্থতা। যে ধারা অব্যহত ছিল শেষ টেস্ট কেপটাউনেও। দু ইনিংসেই ব্যাটাররা চূড়ান্ত ব্যর্থতা। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে যখন বড় লিডের দরকার ছিলস তখন রাবাডা, এনগিডিদের সামনে অসহায়ের মতো আত্মসমর্পন করেছিল ভারতীয় ব্যাটাররা। ঋষভ পন্থ সেঞ্চুরি না করলে হয়ত ২০০ রানের গন্ডী টপকানোও সম্ভব হত না ভারতীয় দলের।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাত্র ২১১ রানের লিড তুলতে পারে টিম ইন্ডিয়া। কেপটাউনে কখনও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট জিততে পারেনি ভারত। সেখানে মাত্র ২১১ রানের লিড হাতে নিয়ে জেতাটা যে যথেষ্ট কঠিন কাজ, সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সেইসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে ছিল দু দিন।
প্রথম দুই ম্যাচের মতো আবারও ভারতের ভরসা সেই বোলাররা। কিন্তু তারাও এবার ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই পায়নি। নিউল্যান্ডসে তৃতীয় দিনই অন্তত তিনটে উইকেট দরকার ছিল ভারতের। এমনটাই শোনা গিয়েছিল প্রাক্তনদের মুখে। শুরুতে মার্করামকে ফিরিয়েও দিয়েছিলেন সামি। কিন্তু এলগার ও কিগার পিটারসন ভারতের ভিতটা মজবুত করে দেন। ম্যাচের মাঝে এলগারের আউট নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। কিন্তু তাতে ম্যাচে কোনও প্রভাব পড়েনি। তৃতীয় দিনই কিগান পিটারসনের হাত ধরে ১০০ রানের গন্ডী টপকে ফেলেছিল ভারত।
চতুর্থ দিন যখন মাঠে নেমেছিল দুদল, তখন দক্ষিণ আফ্রিকার জিততে দরকার ১১১ রান। আর ভারতের দরকার ছিল ৮ উইকেট। চেষ্টাটা চালিয়েছিল ভারতীয় বোলাররা। সুযোগ যে একেবারে আসেনি তা নয়, কিন্তু পিটারসনের ক্যাচ মিস করেন পুজারা। সেইসঙ্গে ম্যাচও বেড়িয়ে যায় তাদের হাত থেকে। এরপর যখন পিটারসন ফেরেন, তখন দক্ষিণ আফ্রিকার জয় শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
চতুর্থ দিন মাত্র ৩ ঘন্টাতেই কেপটাউনে ভারতকে হারিয়ে নিজেদের জায়গা ধরে রাখে দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ৩ উইকেট খুইয়েই জয়ের রান তুলে নেয় প্রোটিয়ারা। সেইসঙ্গেই কেপটাউনের পরিসংখ্যান বদলে ইতিহাস জয়ের স্বপ্নও ভঙ্গ হয় বিরাট কোহলিদের। এবার সামনে রয়েছে একদিনের সিরিজ। সেখানে, ভারত পারে কিনা সেটাই এখন দেখার।