বিধ্বংসী নিকোলাস পুরান ও স্টয়নিসের হাত ধরে চিন্নাস্বামীতে নাটকীয় জয় লখনউ সুপার জায়ান্টসের

LSG Beat RCB
LSG Beat RCB. ( Photo Source: IPL )

অনিশ্চয়তার আইপিএলে কোনও রানই যেন নিরাপদ নয়। ঘরের মাঠে রানের পাহাড় গড়লেও, মার্কাস স্টয়নিস ও নিকোলাস পুরাণের বিধ্বংসী ইনিংসে অসম্ভবকে সম্ভব করল লখনউ সুপার জায়ান্টস। বিরাট, ডুপ্লেসি এবং ম্যাক্সওয়েল শোয়ের পর এদিন চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে সকলে দেখল মার্কাস স্টয়নিস ও নিকোলাস পুরাণের রানের ঝড়। আর তাতেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরাট রানের পাহাড়ও চূর্ণ হয়ে গেল। তাদের ব্যাট থেকে এদিন শুধুই ছিল ছয় ও চারের বন্যা। ১উইকেটে জিতল লখনউ সুপার জায়ান্টস।

আর ততেই যেন অসম্ভবকে সম্বব করে দেখাল লখনউ সুপার জায়ান্টস। মার্কাস স্টয়নিসের ৬৫ রানম ও নিকোলাস পুরানের ১৯ বলে ৬২ রানের ঝোড়ো ইনিংসটাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিল। যদিও ম্যাচের শেষ মুহর্ত পর্যন্ত ছিল এদিন নাটকীয়তা। আয়ূশ বাদোনীর ছয় মেরেও হিট উইকেট। কিন্তু শেষপর্যন্ত জয়ের হাসি ফোটে সেই লোকেশ রাহুলের মুখেই। সেইসঙ্গেই এবারের আইপিএলে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন নজিরও গড়ল লোকেশ রাহুলের লখনউ সুপার জায়ান্টস।

এবারের আইপিএলে দ্রুততম অর্ধশতরান করার রেকর্ড গড়লেন নিকোলাস পুরান

টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লখনউ সুপার জায়ান্টস অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। গতম্যাচে বড় রান পেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ফাফ ডুপ্লেসি এবং বিরাট কোহলি দুজনেই। ঘরের মাঠে ফর্মে ফিরতে মরিয়া চিলেন দুই ক্রিকেটারই। শুরুটা খানিকটা ধীর গতিতেই করেছিলেন তার। কিন্তু সময় যক এগিয়েছিল ততই এদিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দুই ওপেনার। লখনউ সুপার জায়ান্টস বোলারদের বিরুদ্ধে প্রথম আক্রমণটা শুরু করেছিলেন বিরাট কোহলি। সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত ছিল ফাফ ডুপ্লেসির।

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে এদিন ছিল রানের ফোয়ারা। ওপেনিং পার্টনারশিপই এদিন ৯৬ রানের করেন বিরাট কোহলি ও পাফ ডুপ্লেসি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিরাট কোহলি ও ফাফ ডুপ্লেসি ক্রমশই বাড়িয়ে গিয়েছিল তাদের রানের গতি। বিরাট কোহলির ব্যাটে এদিন ফের দেখা গিয়েছিল  বড় রানের ঝলক। তাঁর গোটা ইনিংস জুড়ে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ওভার বাউন্ডারি। ৪৪ েবলে ৬১ রানের ইনিংস কেলেই থামতে হয়েছিল বিরাট কোহলিকে। এরপরই যেন ছি্ল আসল ক্লাইম্যাক্স। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ফাফ ডুপ্লেসির তান্ডব শুরু হয়েছিল। ম্যাচের শেষপর্যন্ত সেই ঝড় দেখেছিল এদিন চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের দর্শকরা।
https://twitter.com/DaleSteyn62/status/1645487474628784133


https://twitter.com/urstruly_vamsi/status/1645487333519810560

ফাফ ডুপ্লেসি এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েল দুই তারকার ব্যাট থেকেই শুধু ছিল চার ও ছয়ের বন্যা। মাত্র ২৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। অন্যদিকে ফাফ ডুপ্লেসির হাত থেকে আসে এবারের আইপিএলের দীর্ঘতম ছয়টি।  এই দুই তারকা ক্রিকেটারকে আটকানোর কোনও অস্ত্রই এদিন ছিল না লোকেশ রাহুলের সিবিরে। রবি বিষ্ণোই থেকে অমিত মিশ্র, মার্ক উড। সকলেই ব্যর্থ হয়েছিলেন। ফাফ ডুপ্লেসির ৭৯ রানের ইনিংসটি সাজানো রয়েছে ৫টি চার ও ৫টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে।  সেইসঙ্গে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ব্যাট থেকে এসেছিল ৬টি ছয় ও তিনটি চার। তাদের ১১৫ রানের পার্টনারশিপে ভর করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু পৌঁছেছিল ২১২ রানে।

কঠিন পরিস্থিতিতে ৩০ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন মার্কাস স্টয়নিস

বেঙ্গালুরুর পাহাড় সমান রান। কিন্তু লখনউ সুপার জায়ান্টসও সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার দল এদিন ছিল না। যদিও শুরুতেই কাইল মেয়ার্সকে ০ রানমে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মহম্মদ সিরাজ। দীপক হুডা, ক্রুণাল পান্ডিয়াও ১০ রানের গন্ডী টপকাতে পারেনি। ২৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। সেই জায়গা থেকেই হঠাত্ ম্যাচের মোর ঘোরাতে থাকেন মার্কাস স্টয়নিস। মাঠে আসার পর থেকেই স্টয়নিসের ব্যাটে ছিল শুধুই চার ও ছয়ের খেলা। ৩০ রানে ৬৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে খেলে লখনউকে খাদের কিনারা থেকে টেনে দাঁড় করান তিনি।

এরপর মাঠে ছিল নিকোলাস পুরাণ শো। এবারের আইপিএলে সেই চমক দেখাতে পারেননি তিনি। এদিন সেটাই দেখা গেল নিকোলাস পুরাণের ব্যাট থেকে। এবারের আইপিএলের মঞ্চে দ্রুততম অর্ধশতরান করলেন তিনি। ১৫ বলে অর্ধশতরান করেন নিকোলাস পুরাণ। আর সেইসঙ্গেই  আরসিবি শিবিরে বাড়তে শুরু করে চাপও। বেঙ্গালুরুর তারকা বোলাররাও এদিন তাঁর সামনে ছিল অসহায়। ৭টি ছয় ও ৪টি বাউন্ডারি দিয়ে সাজানো ইনিংসে খেলে পুরাণ যখন থামেন ৬২ রানে, সেই সময় লখনউয়ের রান ১৮৯। ম্যাচের রাশ লখনউয়ের হাতে থাকলেও এদিন প্রতিটা মুহূর্তে ছিল নাটকীয়তা। আয়ূশ বাদোনীর হিট উইকেটের পর নতুন মোর নেয় ম্যাচ। যদিও শেষপর্যন্ত জয়ের হাসি লখনউয়ের মুখেই।

close whatsapp