“আশা করিনি লাঞ্চের পরেই বল রিভার্স সুইং হবে” – বোল্ড আউট হওয়া প্রসঙ্গে শুবমান গিল
বললেন ওপেন থেকে মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে পাঠালেও টেকনিকে বেশি পরিবর্তন করতে হবে না
আপডেট করা - Nov 25, 2021 7:23 pm

ভারতের ওপেনার শুবমান গিল স্বীকার করেছেন যে তিনি লাঞ্চের বিরতির পরপরই বল রিভার্স সুইং করতে শুরু করে দেবে বলে আশা করেননি। রিভার্স সুইংয়ের ফাঁদে পড়েই তিনি আরেকটি ভাল শুরুর পরেও বড় ইনিংস না খেলেই আউট হয়ে যান। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের শেষে ভারত করেছে ৪ উইকেটে ২৫৮ রান।
রিভার্সের সুইংয়ের প্রত্যাশা না থাকায় বোল্ড হন শুবমান গিল
মায়াঙ্ক আগরওয়াল (২৮ বলে ১৩) তাড়াতাড়ি বিদায় নেওয়ার পর, ২২ বছর বয়সী গিল তাঁর চতুর্থ টেস্ট হাফ সেঞ্চুরী করে ভারতকে লাঞ্চে ১ উইকেটে ৮২ রানে পৌঁছতে সাহায্য করেন। কিন্তু ঠিক যখন তিনি এবং চেতেশ্বর পূজারা (৮৮ বলে ২৬) বড় রান তুলতে প্রস্তুত হচ্ছিলেন, তখনই গিল বিরতির পর প্রথম ওভারেই ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক দিয়ে বোল্ড হয়ে যান। দিনভর চিত্তাকর্ষক বোলিং করা কাইল জেমিসনের (৪৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট) ইন-ডাকার গিলের ব্যাটে খোঁচা লেগে স্টাম্প ভেঙে দেয়।
এই বছরের শুরুতে চেন্নাইয়ে জেমস অ্যান্ডারসনের বলে ঠিক অনুরূপভাবেই তিনি আউট হয়েছিলেন। সেই সময়ও বল ঠিক একইভাবে ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক দিয়ে গিয়ে স্টাম্পে লেগেছিল। জেমিসনের বিধ্বংসী স্পেলের প্রশংসা করে শুবমান গিল বলেছেন যে তিনি তাঁর শরীর থেকে দূরে খেলেছিলেন কারণ তিনি আশা করেননি যে দিনের প্রথম দিকে এসজি বল রিভার্স সুইং করবে।
“ক্রিকেট মানেই পরিস্থিতি বোঝা। বল কখন রিভার্স সুইং করা শুরু হয় সেটা বোঝা বিশেষ কঠিন নয়। আশা করিনি লাঞ্চের পরেই বল রিভার্স সুইং হবে। কিন্তু এটাই টেস্ট ক্রিকেট, আপনাকে খুব দ্রুত কন্ডিশন পড়তে হবে এবং এই বিশেষ ইনিংসে আমি সেই বলটি ভালোভাবে পড়তে পারিনি,” দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে গিল বলেছেন।
জেমিসনের প্রশংসা করে তিনি যুক্ত করেছেন, “আমি মনে করি সে (জেমিসন) আজ বেশ ভালো বোলিং করেছে, বিশেষ করে প্রথম স্পেলে সে যখন নতুন বলে বোলিং করছিল। সে বেশ ভালো জায়গায় বোলিং করেছে, এবং বিশেষ করে যখন আমি লাঞ্চের পর ব্যাট করতে আসি, সেই ওভারটা ছিল সেরা এবং পুরো স্পেলটা সে যা বোলিং করেছিল, তাকে সত্যিই ভালো ছন্দে দেখাচ্ছিল।”
এই সিরিজের শুরুতে আলোচনা চলছিল গিলকে মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে পাঠানোর। তবে কেএল রাহুল উরুতে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ায় গিলকে তাঁর স্বাভাবিক অবস্থানেই ব্যাট করতে দেখা যাচ্ছে।
কৌশলগত দিকের চেয়ে মানসিক দিক থেকে বেশি পরিবর্তন জরুরী, মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করা প্রসঙ্গে গিল
যদি তাঁকে নীচে ব্যাটিং করতে হয় তাহলে তাঁর ব্যাটিংয়ে কোন পরিবর্তন হবে কিনা জানতে চাইলে, কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ওপেনার বলেছেন যে মানসিকতায় একটি পরিবর্তন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে টেকনিকের ক্ষেত্রে তেমন কিছু পরিবর্তন দরকার নেই।
“আমি আমার রাজ্য দলের জন্য ওপেন করেছি, কিন্তু ভারত ‘এ’ এবং প্রথম-শ্রেণীর ম্যাচগুলি যা আমরা অন্যান্য দেশে খেলেছি, সেখানে আমি মিডল অর্ডারেও ব্যাট করেছি। স্পষ্টতই আপনি যখন একজন ওপেনার হিসেবে খেলেন এবং যখন আপনি একজন মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে খেলেন তখন কিছুটা পরিবর্তন করতে হয় দুই পজিশনেই, কিন্তু আমি মনে করি কৌশলগত দিকের চেয়ে মানসিক দিক থেকে বেশি পরিবর্তন জরুরী,” গিল বলেছেন স্পোর্টসকীড়ার প্রশ্নের উত্তরে।
ক্রিজে দুই সেট ব্যাটার এবং একটি লম্বা লোয়ার অর্ডার থাকায় ভারত আপাতত চালকের আসনেই আছে প্রথম ইনিংসে। যদিও কিউয়ি পেসার জেমিসন এবং টিম সাউদি (৪৩ রানে ১ উইকেট) আগামীকাল সকালে চার ওভারের পুরনো নতুন বলের কার্যকরী ব্যবহার করতে চায়বেন।