মুম্বই টেস্টের প্রথম দিনের নায়ক মায়াঙ্ক আগরওয়াল

৮০/৩ থেকে দিনের শেষে ভারত ২২১/৪

Mayank Agarwal
Mayank Agarwal. (Photo Source: Twitter/BCCI)

দিনের শেষে ভারতের স্কোর ২২১/৪ দেখে হয়তো মনে হতে পারে দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম দিন ভারত বেশ স্বাচ্ছন্দেই ব্যাটিং করেছে। কিন্তু যদি এটা জানানো হয় যে এক সময় বিনা উইকেটে ৮০ থেকে ভারত ৮০/৩ হয়ে গিয়েছিল, তখন নিশ্চয় ভারতের আজকের ইনিংসকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হবে। দ্বিতীয় সেশনের শেষের দিকে যখন একের পর এক উইকেট হারাচ্ছে ভারত, তখন ক্রিজের অন্য প্রান্ত থেকে সেই দুর্বিষহ পনেরো মিনিটের সাক্ষী থাকছিলেন যিনি, দিনের শেষে ১২০ রানে নট আউট থেকে তিনিই নায়ক, মায়াঙ্ক আগরওয়াল। 

মায়াঙ্ক আগরওয়ালের অপরাজিত সেঞ্চুরিটি না এলে দিনের শেষে হয়তো নায়ক বাছা হত বাঁ-হাতি স্পিনার অ্যাজাজ প্যাটেলকে (৭৩/৪), যাঁর জন্য ভারতকে সেই পনেরো মিনিটে তিনটি উইকেট হারাতে হয়েছিল স্কোরবোর্ডে একটিও রান না যোগ করে। মুম্বইতে জন্ম, বেড়ে ওঠাও মুম্বইতে। অ্যাজাজের সাত বছর বয়সে তাঁকে নিয়ে তাঁর বাবা-মা নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে পাড়ি না দিলে আজ হয়তো তিনি নিজের ঘরের মাঠেই খেলতেন।

তবে যে বোলিং তিনি আজ দেখালেন তাতে একবারও মনে হল না তিনি বিদেশের মাঠে এসে পারফর্ম করছেন। দেখে মনে হচ্ছিল এই ওয়াংখেড়েতেই তিনি সারা জীবন ক্রিকেট খেলেছেন এবং এখন সেই ওয়াংখেড়েকেই বেছে নিয়েছেন একটি স্বপ্নের স্পেল করার জন্য।    

নাটক, বিতর্ক এবং অ্যাজাজ প্যাটেলের স্বপ্নের স্পেলের ১৬ বল

ভেজা আউটফিল্ডের জন্য প্রথম সেশন বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ভারতের দুই ওপেনার, মায়াঙ্ক ও শুবমান গিল সাবধানী ভঙ্গিতে শুরু করেছিলেন। আক্রমণাত্মক শট খেলছিলেন মূলত গিল। দ্বিতীয় ওভারে কাইল জেমিসনকে তিনটি চার মারেন তিনি। নিয়মিত ব্যাবধানে বাউন্ডারি মারতে থাকেন গিল। যখন তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল অনায়াসে আরও একটি হাফ সেঞ্চুই তুলে নেবেন, তখনই ৪৪ রানে অ্যাজাজ প্যাটেলকে ড্রাইভ মারতে গিয়ে স্লিপে টেলরের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় বিপর্যয়। 

পরের ওভারেই যে কোন বাঁ-হাতি স্পিনারের স্বপ্নের ডেলিভারিতে আউট করেন চেতেশ্বর পূজারাকে। লেগ স্টাম্পে পিচ হওয়া বলে স্টেপ আউট করে খেলতে যান পূজারা। বল পূজারার ব্যাটের আউটসাইড এজকে পাশ কাটিয়ে অফ স্টাম্পে এসে লাগে। পাঁচ বলে খেলে ডাকে আউট পূজারা।  

কোহলির আউট আরও নাটকীয়। এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার তাঁকে আউট দিলে কোহলি রিভিউ চান। রিপ্লের ভিজ্যুয়ালে দেখা যায় ফ্রন্ট ফুটে বলটি খেলার সময় বলের সঙ্গে প্যাডের সংস্পর্শ হয়। তবে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না আগে ব্যাট লেগেছে, নাকি আগে প্যাড লেগেছে।

রিপ্লেতে একটি স্পাইক দেখা গেলেও সেই স্পাইকটি প্যাডে বল লাগার নাকি ব্যাটে বল লাগার। সেই নিয়ে কোন নিশ্চিত ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছিল না। কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ না পাওয়ায় এবং বল ট্র্যাকিংয়ে বল স্টাম্পে আঘাত করায় মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই অপরিবর্তিত রাখেন তৃতীয় আম্পায়ার। ফলে কোহলিকেও শূণ্য রানেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে হয়।

জন্মস্থানে অ্যাজাজের প্রত্যাবর্তনের দিনে অপ্রতিরোধ্য মায়াঙ্ক আগরওয়াল

চা বিরতির আগে বাকি ওভারগুলি মায়াঙ্ক ও আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা শ্রেয়াস আইয়ার সামলে দেন। চায়ের পরে ৪৫ মিনিটের মধ্যে নিউজিল্যান্ড তাদের আধিপত্য হারিয়ে ফেলে। মায়াঙ্কের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বোলারদের চাপে ফেলে দেয় এবং দ্রুত গতিতে রান উঠতে থাকে। তারপর আবারও আঘাত হানেন অ্যাজাজ। এবার অতিরিক্ত বাউন্সের শিকার আইয়ার। ভারত তখন ৪ উইকেটে ১৬০।

মায়াঙ্কের ইনিংসের বিশেষত্ব ছিল যে তিনি অ্যাজাজের বোলিংয়ের সামনে লড়াই করলেও আক্রমণাত্মক শট খেলা থামাননি। ভারত চাপে থাকলেও স্টেপ আউট করে লং অফের উপর দিয়ে একের পর এক দর্শনীয় ছক্কা মারতে থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে মোট ৪টি ছয়।  

ঋদ্ধিমান সাহা পঞ্চম উইকেটের পার্টনারশিপে যোগ্য সহায়তা দিয়েছেন। তিনি ২৫ রানে নট আউট। 

close whatsapp