ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সফল কোচ আইপিএলে সফলতা অর্জন করতে পারবেন কি?

Chandrakant Pandit
Chandrakant Pandit. (image source: twitter)

আইপিএলের ১৬তম সংস্করণ ৩১শে মার্চ থেকে শুরু হতে চলেছে। নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং ইংল্যান্ডের বর্তমান টেস্ট কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকাকালাম গতবছর কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর কেকেআর তাদের নতুন কোচ হিসেবে চন্দ্রকান্ত পন্ডিতকে বেছে নেন। ২০২২ সালের ১৭ই আগস্ট তিনি কেকেআরের প্ৰথম ভারতীয় কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আইপিএলের ইতিহাসে তিনি হলেন তৃতীয় ভারতীয় কোচ।

আইপিএলে তিনি প্রথমবারের জন্য কোচ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি হলেন ভারতের অন্যতম সফল কোচ। তিনি কোচ হিসেবে তিনটি আলাদা রাজ্যের সাথে ৬ বার রঞ্জি ট্রফি জিতেছেন। মুম্বাইকে তিনি ২০০২-০৩, ২০০৩-০৪ এবং ২০১৫-১৬-এর রঞ্জি ট্রফি শিরোপা জিতিয়েছেন। তিনি বিদর্ভকে ২০১৭-১৮ সালে তাদের প্রথম রঞ্জি ট্রফি জিততে সাহায্য করেন। এরপরের রঞ্জি ট্রফিতেও বিদর্ভ তার হাত ধরে চ্যাম্পিয়ন হয়।

এছাড়াও তার হাত ধরেই মধ্যপ্রদেশ ৪১ বারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাইকে পরাজিত করে প্রথমবারের জন্য রঞ্জি ট্রফি জেতে। ঘরোয়া ক্রিকেট ছাড়াও চন্দ্রকান্ত পন্ডিত বেঙ্গালুরুতে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি এবং ভারত-অনূর্ধ্ব-১৯ এর সাথে কাজ করেছেন, যার মধ্যে নিউজিল্যান্ডে ২০১০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ঘরোয়া পর্যায়ে তার অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য তাকে ‘ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের দ্রোণাচার্য’ বলা হয়। মধ্যপ্রদেশকে রঞ্জি ট্রফি জিততে সাহায্য করার পর দীনেশ কার্তিক কিংবদন্তি প্রাক্তন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফুটবল কোচের সাথে পন্ডিতের তুলনা করে তাকে ‘ভারতীয় ক্রিকেটের স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন’ বলেন।

তিনি বিদর্ভকে কোচিং করিয়েছিলেন সেই কারণে তার সাথে উমেশ যাদবের অবশ্যই ভালো জানাশোনা রয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশে তিনি ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে কোচিং করিয়েছেন। এছাড়াও মুম্বাইয়ের হয়ে শার্দুল ঠাকুরও তার কোচিংয়ে খেলেছেন। সেই কারণে তিনি অবশ্যই এই খেলোয়াড়দের খুব ভালো মতো ব্যবহার করতে পারবেন।

“আমি প্রত্যেকের দক্ষতা সম্পর্কে সচেতন” – চন্দ্রকান্ত পন্ডিত

প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়াকে চন্দ্রকান্ত পন্ডিত বলেন, “একজন ভারতীয় কোচ হওয়ার কারণে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে যথেষ্ট সময় কারণে, আমি বেশিরভাগ খেলোয়াড়কেই চিনি। তারা আমার কোচিংয়ে খেলেছে বা আমার দ্বারা প্রশিক্ষিত দলের বিরুদ্ধে খেলেছে। আমি প্রত্যেকের দক্ষতা সম্পর্কে সচেতন এবং এটাই আমার সবচেয়ে বড় সুবিধা।”

আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে প্রথমবারের জন্য কোনো দলকে কোচিং করানো খুবই কঠিন কাজ। দলে সাকিব এবং রাসেলের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা রয়েছেন। তাদের সাথে পন্ডিতের বোঝাপড়া কতটা ভালো হবে সেটাই হল দেখার বিষয়। আমরা সাকিবকে অনেকবারই নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে দেখেছি। এই জিনিসগুলির সামলানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই কেকেআরের কোচকে কোনো কৌশল খুঁজে বের করতে হবে।

২০২৩ সালে নতুন কোচ এবং নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলতে নামবে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ২০১৪ সালের পর এখনও অবধি কেকআর আইপিএল ট্রফি জিততে পারেনি। ২০২১ সালের আইপিএলে তারা ফাইনাল অবধি গিয়েছিল। ২০২৩ সালের আইপিএলে চন্দ্রকান্ত পন্ডিতের কোচিংয়ে এবং নীতিশ রানার অধিনায়কত্বে কলকাতা নাইট রাইডার্স ট্রফি জিততে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

close whatsapp