“সতীর্থ বোলারদের কাছে বার্তা দেওয়া উচিৎ” – ম্যাচের সেরা হওয়ার পরে জানালেন মহম্মদ শামি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন শামি

Mohammed Shami
Mohammed Shami. (Photo Source: Instagram)

ভারতের পেসারদের দাপটে রায়পুরে নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটাররা ধরাশায়ী হয়েছেন দ্বিতীয় ওডিআইতে। মোট সাত উইকেট নিয়েছিলেন পেসাররা এবং নিউ জিল্যান্ডকে মাত্র ১০৮ রানে অল আউট করতে সাহায্য করেছিলেন। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আট উইকেটের বড় জয় পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ভারতীয় বোলারদের সামগ্রিক পারফর্ম্যান্সের মাঝেও যে বোলার আলাদা করে নজর কেড়েছিলেন তিনি হলেন মহম্মদ শামি।

আক্রমণের সূচনা করা শামি দুর্দান্ত ইনসুইঙ্গার দিয়ে পাঁচ বলে শূন্য রানে ড্রেসিং রুমে ফেরত পাঠান নিউ জিল্যান্ডের ওপেনার ফিন অ্যালেনকে। তাঁর পরবর্তী শিকার ড্যারিল মিচেল। মিচেল ফ্রন্ট ফুটে একটি ডেলিভারি খেলতে গেলে বলটি তাঁর ব্যাটের প্রান্তে লেগে শামির বাঁ-দিকে আসে এবং ফলো-থ্রুতে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে দিনের দ্বিতীয় উইকেট পান শামি।

তাঁর প্রথম স্পেলে একটি মেডেন দিয়ে চার ওভার বোলিং করে মাত্র পাঁচ রান দেন এবং সেই সঙ্গে তিনি দুটি উইকেটও তোলেন। ১১তম ওভারের মাঝপথে কিউইরা তাদের অর্ধেক ব্যাটিং লাইন-আপ হারায় এবং স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ১৫ রান উঠেছিল। শামির দুই উইকেটের পাশাপাশি একটি করে উইকেট পেয়েছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া, মহম্মদ সিরাজ ও শার্দুল ঠাকুর। এরপরে শামি প্রথম ওডিআইয়ে কিউয়িদের সেরা ব্যাটার মাইকেল ব্রেসওয়েলকে আউট করে ৩/১৮ পরিসংখ্যান নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন।

ম্যাচ-পরবর্তী উপস্থাপনায় শামি বলেছেন, “শুরুতে আমি সবসময় সঠিক লাইন ও লেংন্থে বোলিং করার দিকে ফোকাস করার চেষ্টা করি। কখনও কখনও আপনি ভালো বোলিং করার পরেও উইকেট নাও পেতে পারেন এবং কিছু সময় ছন্দে না থাকলেও আপনি উইকেট পান। এই নিয়ে কিছু মনে করা উচিৎ নয়।”

আমি কখনই ভাবিনি যে আমার এমন একটি সঠিক সিমের অবস্থান থাকবে: মহম্মদ শামি

যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি কীভাবে এতটা ধারাবাহিকভাবে বোলিং করেন, তখন তিনি দার্শনিকভাবে উত্তর দিয়েছেন, “আমি পুনরাবৃত্তিতে বিশ্বাস করি। আপনি কোনো কিছুকে যত বেশী ভালোবাসেন, তা আপনার নিজের হয়ে যায়।”

শামির মতো খাড়া সিম রেখে বোলিং করার ক্ষমতা বিশ্ব ক্রিকেটে খুব কম বোলারেরই রয়েছে। এই বিষয়ে তাঁর আনন্দ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন যে যখনই তিনি এভাবে বোলিং করতে ব্যর্থ হন তখন তিনি বিরক্ত হন। “আমি কখনই ভাবিনি যে আমার এমন একটি সঠিক সিমের অবস্থান থাকবে। তবে যখনই এটি বন্ধ হয়ে যায়, তখনই আমি বিরক্ত হই। উইকেট যেমনই হোক না কেন, আমি সবসময় এটার জন্য চেষ্টা করি। আমি বাতাসে (খাড়া) সিম দেখতে উপভোগ করি,” তিনি বলেছেন।

এখন দলের সবচেয়ে সিনিয়র পেসার হওয়ার কারণে শামি বলেছেন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার এবং তাঁর সতীর্থদের কাছে বার্তা দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর রয়েছে। “আপনি যখন খেলা শুরু করেন, আপনি জানেন না উইকেট কেমন আচরণ করবে। প্রথম ওভারে বোলিং করার পর, আপনার সতীর্থ বোলারদের কাছে বার্তা দেওয়া উচিৎ। এটা দলকে উপকৃত করবে,” বলেছেন তিনি।

close whatsapp